সরকারি হাসপাতাল থেকে কয়েক পা এগোলেই সারি সারি বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। কোথাও হাসপাতালের প্রধান ফটকের আশপাশেই গড়ে উঠেছে এসব প্রতিষ্ঠান, কোথাও আবার কয়েক শ গজের মধ্যে একাধিক বেসরকারি হাসপাতাল। সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও স্বজনদের লক্ষ্য করে সক্রিয় রয়েছেন দালাল ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বিপণনকর্মীরা। নানা প্রলোভন ও ভয় দেখিয়ে রোগী বাগিয়ে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, দেশে বর্তমানে হাসপাতাল ও ক্লিনিক রয়েছে প্রায় ৩০ হাজার। এর মধ্যে নিবন্ধন করেছে ১৯ হাজার ৬৪০টি হাসপাতাল ও ক্লিনিক। ১০ হাজার ৩৬০টি হাসপাতাল এখনো নিবন্ধন নেয়নি। চিকিৎসাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, লাইসেন্স গ্রহণে প্রতিষ্ঠানগুলোর গাফিলতির পাশাপাশি জটিল প্রক্রিয়াও অনীহা তৈরির অন্যতম কারণ।
রাজধানীর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও মিটফোর্ড হাসপাতাল এবং শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (পঙ্গু হাসপাতাল), জাতীয় নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই এ ধরনের অভিযোগ রয়েছে। শুধু রাজধানী নয়, দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা হাসপাতালকেন্দ্রিক এলাকাতেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে।
এ বিষয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, সারা দেশে ব্যাঙের ছাতার মতো অবৈধ হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক সেন্টার ছড়িয়ে আছে। স্বাস্থ্য খাতে শৃঙ্খলা এবং রোগীর আস্থা ফিরিয়ে আনতে এসব অবৈধ হাসপাতালের বিরুদ্ধে প্রতিদিনই কোনো জেলা নয়তো কোনো উপজেলাতে অভিযান চলছে। তিনি আরও বলেন, ‘লাইসেন্স প্রক্রিয়া সহজ করতে আমরা কাজ করছি। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ঘুরে লাইসেন্স করতে হয়। তাই এই প্রক্রিয়াকে একছাতার নিচে নিয়ে আসার পরিকল্পনা চলছে।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক সৈয়দ আবদুল হামিদ বলেন, বর্তমানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, জেলা পর্যায়ে সিভিল সার্জন কার্যালয় এবং উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কার্যালয়ের মাধ্যমে বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান তদারকি করা হলেও এই কাজের জন্য প্রয়োজনীয় জনবল ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা নেই। তদারকির অভাবে গজিয়ে উঠছে অবৈধ হাসপাতাল।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাম্প্রতিক অভিযানের তথ্য বলছে, সমস্যাটি বিচ্ছিন্ন নয়। চলতি বছরের মার্চ থেকে পরিচালিত অভিযানে প্রায় ৫ হাজার বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক, ব্লাড ব্যাংক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার পরিদর্শন করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৫০টির বেশি অবৈধ প্রতিষ্ঠান বন্ধ করা হয়েছে এবং আরও প্রায় ২০০ প্রতিষ্ঠানকে ত্রুটি সংশোধনের সময় দেওয়া হয়েছে।
সরেজমিন রাজধানীর স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও মিটফোর্ড হাসপাতালের পাশে মেডিসান হেলথ কেয়ার ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড কনসালটেশন সেন্টার, ঢাকা হাসপাতাল, নিউ ঢাকা মর্ডান ক্লিনিক, আলফা ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড হাসপাতালে সেবা নিচ্ছেন রোগীরা। শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পাশে পিপলস হেলথ কেয়ার টেকনোলজিস, বাবর রোডের মেডি ফেয়ার জেনারেল হাসপাতালে রয়েছে রোগীদের আনাগোনা।
ঢাকা মেডিকেল কলেজের পাশে হেলথ এইড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগীরা সেবা নিচ্ছেন। কিন্তু স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিবন্ধিত হাসপাতালের তালিকায় এর মধ্যে অনেকগুলোর নামই নেই। অনেকের থাকলেও লাইসেন্স নবায়ন নেই। তবে কারও কারও লাইসেন্স নবায়ন প্রক্রিয়াধীন বলে জানা গেছে।
লাইসেন্সের জন্য ঘুরতে হয় ছয় প্রতিষ্ঠানে : বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকের নতুন লাইসেন্স কিংবা লাইসেন্স নবায়নের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরসহ মোট ছয় প্রতিষ্ঠানে ঘুরতে হয়। কয়েক মাস বিভিন্ন দপ্তরের টেবিলে টেবিলে হাজারো রকমের তথ্য জমা দিয়ে লাইসেন্স মেলে। বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ জানায়, বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের লাইসেন্স নবায়নের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে আবেদন করতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের আওতায় সিটি করপোরেশন কিংবা পৌরসভা থেকে ট্রেড লাইসেন্স নিতে হয়। এরপর পরিবেশ অধিদপ্তর, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ছাড়পত্র, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অনাপত্তিপত্র, এনবিআরের ভ্যাট-ট্যাক্স জমার কাগজপত্র জমা দিতে হয়।
একই চিত্র সারা দেশে : অবৈধ হাসপাতাল এবং কমিশন ও দালাল চক্রের রমরমা ব্যবসা শুধু রাজধানীতেই নয়, দেশজুড়েই এ চিত্র। আমাদের টাঙ্গাইল প্রতিনিধি জানিয়েছেন, টাঙ্গাইলে গ্রীনলাইফ ডিজিটাল হসপিটাল, তাহের ডেন্টাল কেয়ার, মা-মনি ডেন্টাল কেয়ার, রংধনু জেনারেল হসপিটাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, জামুর্কী ডায়াগনস্টিক সেন্টারসহ ২৯৬টি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আবেদনপত্র জমা দিয়ে, লাইসেন্স নবায়ন না করেই বছরের পর বছর চিকিৎসাসেবা চালিয়ে যাচ্ছে। এ ছাড়াও অবৈধভাবে পরিচালিত হচ্ছে প্রায় ১৪৯টি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার।
গাজীপুর প্রতিনিধি জানান, গাজীপুরে অনুমোদনের অপেক্ষায় কিংবা লাইসেন্সবিহীন রয়েছে ২১১টি প্রতিষ্ঠান। গাজীপুরের সজিব ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড ডক্টরস চেম্বার, নিউ হোপ সিটি হসপিটাল, হাজী হাই কেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টার, এ কে মেমোরিয়াল হাসপাতাল, আনোয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টার, এ এইচ মেমোরিয়াল হাসপাতাল লিমিটেডসহ ২১১টি বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক তাদের লাইসেন্স নবায়ন না করেই প্রতিষ্ঠানটি পরিচালিত হচ্ছে।
মাদারীপুর প্রতিনিধি জানান, মাদারীপুরের সিভিল সার্জন শরিফুল আবেদীন কমল জানিয়েছেন, কয়েকটি বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকের নিবন্ধনসংক্রান্ত সমস্যা রয়েছে। নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, জেলার ফতুল্লা, রূপগঞ্জ, আড়াইহাজার, সোনারগাঁ, সিদ্ধিরগঞ্জ ও শহর-বন্দর মিলিয়ে বর্তমানে ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিকের সংখ্যা ১৪৯টি, প্যাথলজি ইউনিট রয়েছে ৭০টি, ব্লাড ব্যাংক ৯টি এবং ডায়ালাইসিস সেন্টার ২টি। এগুলোর বেশির ভাগই অবৈধ বা অনিবন্ধিত।
শরীয়তপুর প্রতিনিধি জানান, জেলায় অন্তত ২৫টি ক্লিনিক অনুমতি ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছে। সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলায় সবচেয়ে বেশি ১৭টি ক্লিনিক ও ২৩টি ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে। গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, জেলায় হাসপাতাল ও ক্লিনিকের মোট সংখ্যা ৯৫টি। এর মধ্যে প্রফেসর ডা. ওবায়দুল্লাহ-ফেরদৌসী ফাউন্ডেশন ক্যান্সার হাসপাতাল, লাবিবা পলি ক্লিনিক, রাবেয়া ক্লিনিক, গোপালগঞ্জ সেন্ট্রাল হাসপাতাল, রোকেয়া মেমোরিয়াল হাসপাতালসহ ৯০টিই অবৈধ।
মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, জেলায় ১৪৮টি বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক রয়েছে। ১১০টির লাইসেন্স নবায়ন নেই। রাজবাড়ী প্রতিনিধ সিভিল সার্জন ডাক্তার এস এম মাসুদের উদ্ধৃতি দিয়ে জানান, ২৬টি ক্লিনিকের মধ্যে ২২টিই মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে পড়েছে। ফরিদপুর প্রতিনিধি জানান, জেলায় ৩২৫টি প্রাইভেট হাসপাতাল ও ক্লিনিক রয়েছে। এর বাইরে শতাধিক হাসপাতাল-ক্লিনিক রয়েছে, যা অনুমোদনহীন।
সাভার (ঢাকা) প্রতিনিধি জানান, সাভার ও ধামরাই উপজেলার শতাধিক ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বেশির ভাগেরই সংশ্লিষ্ট বিভাগের অনুমোদন ও লাইসেন্স নেই। সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি জানান, নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে ছোটবড় মিলিয়ে ৩৪টি বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতাল রয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তথ্য অনুযায়ী, এসব প্রতিষ্ঠানের কোনোটিরই প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র পূর্ণাঙ্গ নেই। বরিশাল প্রতিনিধি জানান, নগরীতে অনুমোদিত ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে ১৩৯টি। এর মধ্যে ‘এ’ ক্যাটাগরির ১৪টি, ‘বি’ ২৫টি এবং ‘সি’ ক্যাটাগরির ১০০টি। নিবন্ধিত বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতাল রয়েছে ৪৩টি। বরিশাল জেলার ১০ উপজেলায় রয়েছে ১৩৬টি ডায়াগনস্টিক সেন্টার এবং ৫২টি ক্লিনিক ও হাসপাতাল।
ভোলা প্রতিনিধি জানান, ভোলায় ১৪৫টি বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মধ্যে ১২টির বৈধ কাগজপত্র নেই বলে জানিয়েছেন সিভিল সার্জন। ঝালকাঠি প্রতিনিধি জানান, ঝালকাঠিতে বর্তমানে ৫৬টি বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে। এর মধ্যে ১৭টি হাসপাতাল ও ক্লিনিক এবং ৩৯টি ডায়াগনস্টিক সেন্টার। সিভিল সার্জন ডা. হুমায়ুন কবীর জানান, পাঁচ-সাতটি প্রতিষ্ঠানের আংশিক অনুমোদন রয়েছে এবং তাদের আবেদন প্রক্রিয়াধীন। পিরোজপুর প্রতিনিধি জানান, পিরোজপুরে ১৮২টি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের একটি সূত্রের দাবি, এর মধ্যে প্রায় অর্ধশত প্রতিষ্ঠানের যথাযথ কাগজপত্র নেই।
বরগুনা প্রতিনিধি সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ আবুল ফাত্তাহ্র উদ্ধৃতি দিয়ে জানান, বরগুনা জেলায় প্রায় ১২৯টি ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে। এর মধ্যে ৪৪টি ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধের নির্দেশ দিয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে অবহিত করে আনুষ্ঠানিকভাবে নোটিস দেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম থেকে নিজস্ব প্রতিবেদক জানান, চট্টগ্রাম নগরের অলিগলিতে গড়ে উঠেছে অসংখ্য বেসরকারি চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠান। এর একটি বড় অংশ লাইসেন্স না নিয়েই অবৈধভাবে চালিয়ে যাচ্ছে চিকিৎসা কার্যক্রম। সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নগরে নিবন্ধিত বেসরকারি হাসপাতাল-ল্যাব আছে মোট ২৬৮টি। এর মধ্যে হাসপাতাল ১৭৫টি ও ল্যাব আছে ৯৩টি। চট্টগ্রামের ১৫ উপজেলায় নিবন্ধিত হাসপাতাল আছে ৬৩টি ও ল্যাব আছে ২২৬টি। তবে নগর ও উপজেলায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৬০ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স হালনাগাদ করা আছে। বাকিগুলোর লাইসেন্স নবায়ন করা হয়নি।
কুমিল্লা প্রতিনিধি জানান, কুমিল্লা সিটি করপোরেশন ও ১৮টি উপজেলায় রয়েছে ৫৪০টি নিবন্ধিত বেসরকারি হাসপাতাল, ডেন্টাল ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। এর মধ্যে ১১০টি প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন নেই। কক্সবাজার প্রতিনিধি জানান, জেলায় তালিকাভুক্ত বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ডেন্টাল ও মেডিকেল চেকআপ সেন্টার রয়েছে ১৮০টি। এর মধ্যে হাসপাতাল ও ক্লিনিক রয়েছে ৪৫টি, ডায়াগনস্টিক সেন্টার ১১৭টি, ডেন্টাল ক্লিনিক ১০টি ও মেডিকেল চেকআপ সেন্টার রয়েছে ৭টি। এসবের মধ্যে অনেক প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স নবায়ন করা নেই। খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি জানান, জেলায় ৩৭টি নিবন্ধিত ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও নিবন্ধিত ৯টি হাসপাতাল রয়েছে। একেক ডায়াগনস্টিক সেন্টারে বিভিন্ন পরীক্ষার ফি একেক ধরনের নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
জামালপুর প্রতিনিধি জানান, বেসরকারি হাসপাতাল রয়েছে ৫৮টি আর ১০৫টি রয়েছে ডায়াগনস্টিক সেন্টার। এর মধ্যে ৫টি হাসপাতাল ও ৫টি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের লাইসেন্সই নেই। ময়মনসিংহ প্রতিনিধি জানান, জেলায় অবৈধ বা নবায়নহীন স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ২৫২টির বেশি। নেত্রকোনা প্রতিনিধি জানান, জেলায় পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্রবিহীন সরকারি বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান ১২২টি। রাজশাহী থেকে নিজস্ব প্রতিবেদক জানান, রাজশাহী বিভাগের অর্ধেকের বেশি ক্লিনিক চলছে অনুমোদন ছাড়া। যেগুলোর অনুমোদন আছে, সেখানে নেই চিকিৎসক, সরঞ্জাম। নিবন্ধন ছাড়াই চলছে ১৮৬টি বেসরকারি ক্লিনিক, হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, কাগজপত্রে ত্রুটি থাকায় চাঁপাইনবাবগঞ্জে ১২টি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তারা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। রংপুর থেকে নিজস্ব প্রতিবেদক জানান, রংপুর জেলায় ৪২৫টি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার নিবন্ধিত থাকলেও এর বাইরে বেশ কিছু রয়েছে অনিবন্ধিত এবং লাইসেন্স ছাড়া রয়েছে। কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি জানান, জেলায় ডায়াগনস্টিক সেন্টার ১০৩টির মধ্যে লাইসেন্সবিহীন সংখ্যা ৪টি, যাদের ২টি লাইসেন্সের প্রক্রিয়াধীন। নীলফামারী প্রতিনিধি জানান, জেলায় বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে ২৭৬টি। এর মধ্যে বেশির ভাগ ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের স্বাস্থ্য বিভাগের লাইসেন্স ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেই।
সিলেট থেকে নিজস্ব প্রতিবেদক জানান, বিভাগীয় শহর সিলেটেও লাইসেন্সবিহীন ও লাইসেন্স নবায়ন না করেই বছরের পর বছর চিকিৎসাসেবা চালিয়ে আসছে বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিক। সরকারি হিসাবমতো, এরকম স্বাস্থ্যসেবাকেন্দ্রের সংখ্যা ৩৫টি।
হবিগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, হবিগঞ্জ জেলায় মোট ১২৪টি বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে। এর মধ্যে ৩০টি হাসপাতাল-ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের নেই বৈধ কাগজপত্র। মৌলভীবাজার প্রতিনিধি জানান, জেলায় মোট ৪৩টি প্রাইভেট হাসপাতাল ও ৯৯টি ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে। এর মধ্যে মৌলভীবাজার জেলা সদরে ৬টি প্রাইভেট হাসপাতালের লাইসেন্স নবায়ন নেই। লাইসেন্স নেই সূর্যের আলো নামের একটি হাসপাতালের। একইভাবে জেলা সদরে ৬টি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে লাইসেন্স নবায়ন নেই।
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, সুনামগঞ্জ জেলায় অবৈধ শতাধিক ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও অন্তত ৮টি বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক আছে। কক্সবাজার প্রতিনিধি জানান, সিভিল সার্জন অফিসের তথ্য বলছে, জেলায় তালিকাভুক্ত বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ডেন্টাল ও মেডিকেল চেকআপ সেন্টার রয়েছে ১৮০টি। এর মধ্যে হাসপাতাল, ক্লিনিক রয়েছে ৪৫টি, ডায়াগনস্টিক সেন্টার ১১৭টি, ডেন্টাল ক্লিনিক ১০টি, ফিজিওথেরাপি ১টি ও মেডিকেল চেকআপ সেন্টার রয়েছে ৭টি। এসবের মধ্যে অনেক প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স নবায়ন করা নেই। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে লাইসেন্স নবায়ন করেছে ২৫টি প্রতিষ্ঠান।
বাকি প্রতিষ্ঠানগুলোর নবায়ন করা রয়েছে পর্যায়ক্রমে ২০১৮-১৯ থেকে ২০২৩-২৫ অর্থবছরের আগে। তবে এ পর্যন্ত ২৫টি প্রতিষ্ঠান ছাড়া কোনোটির লাইসেন্স নবায়ন পাওয়া যায়নি।