মাসুম খলিলী
ইসরায়েলি রাজনৈতিক মহল বিস্মিত ও উদ্বিগ্ন হয়েছে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স-এর কঠোর সমালোচনায়। তিনি ইসরায়েলি মন্ত্রিসভার কয়েকজন সদস্যের আচরণ ও নীতির সমালোচনা করেন এবং পরোক্ষভাবে সতর্ক করেন যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা কোনো শর্তহীন বা চিরস্থায়ী প্রতিশ্রুতি নয়।
পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত না করতে এবং বিশেষ করে ট্রাম্প -এর সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি এড়াতে ইসরায়েলের শীর্ষ নেতারা প্রকাশ্যে তেমন কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি।
ইসরায়েলি কর্মকর্তারা মনে করছেন, ভ্যান্সের এই মন্তব্য মার্কিন রিপাবলিকান পার্টির ভেতরে ক্রমবর্ধমান একটি প্রবণতার প্রতিফলন, যেখানে একটি অংশ আর আগের মতো স্বয়ংক্রিয়ভাবে ইসরায়েলপন্থী অবস্থান নিচ্ছে না। এর ফলে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও সামরিক সমর্থন দুর্বল হয়ে পড়তে পারে বলে তারা উদ্বিগ্ন।
বিশ্লেষণ
ভ্যান্সের বক্তব্যের তাৎপর্য কেবল একটি কূটনৈতিক মন্তব্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি মার্কিন-ইসরায়েল সম্পর্কের পরিবর্তনশীল বাস্তবতার ইঙ্গিত হতে পারে।
১. রিপাবলিকান পার্টির ভেতরে পরিবর্তন দীর্ঘদিন ধরে রিপাবলিকান পার্টি ইসরায়েলের সবচেয়ে শক্তিশালী রাজনৈতিক সমর্থক হিসেবে পরিচিত। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে “America First” ধারা শক্তিশালী হয়েছে। এই গোষ্ঠী মনে করে, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি মূলত আমেরিকার স্বার্থকে কেন্দ্র করেই পরিচালিত হওয়া উচিত। ফলে ইসরায়েলকে নিঃশর্ত সমর্থনের ধারণা প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে।
২. ট্রাম্প প্রশাসনের সম্ভাব্য চাপ যদি ভ্যান্সের বক্তব্য ট্রাম্প প্রশাসনের বৃহত্তর অবস্থানের প্রতিফলন হয়ে থাকে, তাহলে তা Benjamin Netanyahu সরকারের জন্য সতর্কবার্তা। বিশেষত গাজা, লেবানন, সিরিয়া কিংবা ইরান-সংক্রান্ত নীতিতে ওয়াশিংটন ভবিষ্যতে আরও নিয়ন্ত্রণমূলক ভূমিকা নিতে পারে।
৩. ইসরায়েলের কৌশলগত উদ্বেগ ইসরায়েলের সামরিক সক্ষমতা অত্যন্ত শক্তিশালী হলেও দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র, প্রযুক্তি, গোয়েন্দা সহায়তা এবং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সুরক্ষার ওপর উল্লেখযোগ্যভাবে নির্ভরশীল। ফলে “সমর্থন শর্তসাপেক্ষ হতে পারে” — এমন বার্তা তেল আবিবের জন্য উদ্বেগের কারণ।
৪. মধ্যপ্রাচ্যের নতুন বাস্তবতা ইরান, গাজা যুদ্ধ, আরব বিশ্বের অবস্থান এবং বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্য পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে ওয়াশিংটন হয়তো মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের বদলে স্থিতিশীলতা চায়। সে ক্ষেত্রে ইসরায়েলকে আরও সংযত নীতি গ্রহণের জন্য চাপ দেওয়া হতে পারে।
সারকথা ভ্যান্সের মন্তব্যকে অনেক বিশ্লেষক একটি “রাজনৈতিক সতর্ক সংকেত” হিসেবে দেখছেন। এটি এখনই যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল জোটে ফাটল নির্দেশ করে না, তবে এমন ইঙ্গিত দেয় যে ভবিষ্যতে মার্কিন সমর্থন আগের মতো স্বয়ংক্রিয় বা নিঃশর্ত নাও থাকতে পারে। বিশেষ করে ট্রাম্প-ভ্যান্স প্রশাসন যদি “আমেরিকার স্বার্থ আগে” নীতিকে আরও কঠোরভাবে অনুসরণ করে, তাহলে Israel-কে তার আঞ্চলিক ও সামরিক কৌশল পুনর্বিবেচনা করতে হতে পারে।