ভারতের বিতর্কিত ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ার প্রতিবাদে রাজধানী নয়াদিল্লিতে পূর্বঘোষিত বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘিরে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ও ধরপাকড়ের ঘটনা ঘটেছে। বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠে গোটা ভারত। গতকাল প্রতিবাদ কর্মসূচি শুরু হওয়ার আগেই দিল্লির বিভিন্ন এলাকা থেকে বহু বিক্ষোভকারীকে আটক করে পুলিশ। এ সময় আন্দোলনকে দমন করতে ইন্টারনেট শাটডাউন, মেট্রো স্টেশন বন্ধ এবং রেল চলাচল সীমিত করাসহ কঠোর পদক্ষেপ নেয় প্রশাসন। এর প্রতিবাদে দিল্লির বিভিন্ন প্রান্তে আন্দোলন করায় বিরোধী দলের শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, ছাত্রনেতা ও অধিকারকর্মীসহ ৭ হাজারের বেশি মানুষকে আটক করেছে পুলিশ। গতকাল সকাল থেকে শুরু হওয়া এই পুলিশি অভিযানে দেশজুড়ে তীব্র রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। পুলিশের তথ্যমতে, বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশের ওপর হামলা এবং সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে একাধিক এফআইআর (প্রাথমিক তথ্য বিবরণী) দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
শীর্ষ বিরোধী নেতাদের গণগ্রেপ্তার : বিক্ষোভ মিছিলে যোগ দেওয়ার সময় এবং তার আগে থেকেই দিল্লির বিভিন্ন স্থান থেকে দেশের প্রবীণ রাজনৈতিক নেতাদের আটক করা হয়। আটককৃতদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন, পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, আম আদমি পার্টির (আপ) জাতীয় আহ্বায়ক ও দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল, কেরালার বিধানসভার বিরোধীদলীয় নেতা ও সাবেক মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন, ত্রিপুরার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার, সিজেপি নেতা অভিজিৎ দীপক, সৌরভ দাস এবং অন্যান্য আইনজীবী ও রাজনৈতিক ব্যক্তি। এছাড়া প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া অনেক তরুণ শিক্ষার্থী, বামপন্থী ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মী এবং জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠি ও বলিউড অভিনেতা ইমরান খানকেও আটকের খবর পাওয়া গেছে। আটককৃতদের বেশিরভাগকেই ছত্রশাল স্টেডিয়াম এবং মন্দির মার্গ থানাসহ বিভিন্ন অস্থায়ী আটক কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। এদিকে, ঐতিহাসিক বাংলা সাহিব গুরুদ্বারের নিকটবর্তী একটি পার্ক থেকে আটক হয়েছেন উত্তরপ্রদেশের সাবেক বিজেপি বিধায়ক বিক্রম সিংয়ের কন্যা যশস্বিনী রাজে সিং।
পুলিশের দমনপীড়নের মুখেও থেমে থাকেনি তরুণদের প্রতিবাদ। মুম্বাই থেকে নয়াদিল্লিতে অবতরণ করা এয়ার ইন্ডিয়ার একটি ফ্লাইটের ভেতরেই সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপক ও তার সহকর্মীদের আটক করে দিল্লি পুলিশ। অভিজিৎ তার ইনস্টাগ্রাম চ্যানেলে লাইভ ভিডিও শেয়ার করে বলেন, “আমি গ্রেপ্তার হতে এসেছি, আমি তোমাদের ভয় পাই না।” পরে বিমানের ভেতরেই তিনি সহযাত্রীদের উদ্দেশে বলেন, “আমরা দেখতে পাচ্ছি জাতি কোন দিকে যাচ্ছে, দিল্লি পুলিশ প্লেনে ঢুকে আমাদের গ্রেপ্তার করতে চাইছে, এটি স্পষ্ট একনায়কতন্ত্র।” অভিজিৎ দীপক ছাড়াও আটক হয়েছেন ধ্রুব রাঠী, অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (আইসা) নেত্রী নেহা বোরা, সিপিআই(এম-এল) সাধারণ সম্পাদক দীপঙ্কর ভট্টাচার্য, সুপ্রিম কোর্টের প্রবীণ আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ, রাজনীতিবিদ যোগেন্দ্র যাদব। এমনকি প্রতিবাদ কাভার করতে যাওয়া অনেক সাংবাদিককেও আটক করে পুলিশি বাসে তোলা হয়।
সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকা সংশোধনে অনিয়মের অভিযোগ তুলে অভিজিৎ দীপকের নেতৃত্বে এই বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়। জনসমাগম ও সম্ভাব্য আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের অজুহাতে দিল্লির যন্তর মন্তর ও আশপাশের এলাকায় প্রায় ৪০ হাজার দিল্লি পুলিশ এবং আধা সামরিক বাহিনী (সিএপিএফ) মোতায়েন করা হয়েছে। গোটা এলাকাকে একটি দুর্গে পরিণত করার পাশাপাশি জায়গায় জায়গায় বসানো হয়েছে ব্যারিকেড ও স্পাইক স্ট্রিপ। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, বিক্ষোভকারী, সাধারণ মানুষ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি, যন্তর মন্তরে একসঙ্গে এক হাজারের বেশি মানুষের সমাবেশ করার অনুমতি নেই বলেও জানানো হয়েছে। বিক্ষোভ প্রতিহত করতে দিল্লি ও পার্শ্ববর্তী গুরুগ্রাম এলাকায় প্রায় ২৫ হাজার পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়। রাজধানীর কেন্দ্রস্থলে প্রবেশের প্রধান পথগুলো ব্যারিকেড দিয়ে আটকে দেওয়া হয়। নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে দিল্লির অন্তত ৪৫টি মেট্রো স্টেশন সাময়িক বন্ধ রাখা হয় এবং বহু ট্রেনের চলাচল সীমিত করা হয়। পাশাপাশি বেশ কিছু এলাকায় মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবাও স্থগিত রাখা হয়। দিল্লির এই পরিস্থিতিকে ‘জরুরি অবস্থার চেয়েও ভয়াবহ’ ও ‘কালো জরুরি অবস্থা’ বলে অভিহিত করেছে আম আদমি পার্টি ও কংগ্রেসসহ বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ জোট।
দেশে-বিদেশে তীব্র সমালোচনা ও নিন্দার মুখে মোদি সরকার : দিল্লিতে বিক্ষোভের সময় ব্যাপক ভিত্তিক গ্রেফতারের ঘটনায় তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ মানবাধিকার দপ্তর (ইউএন হিউম্যান রাইটস)। সংস্থাটি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে যে, শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকারকে সম্পূর্ণ সম্মান ও সুরক্ষা দিতে হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তর জানায়, ‘দিল্লিতে পূর্বনির্ধারিত ও চলমান বিশাল বিক্ষোভের আগে এবং চলাকালে আন্দোলনকারী, বিক্ষোভের প্রধান নেতৃবৃন্দ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, আইনজীবী এবং সাংবাদিকদের নির্বিচারে গণগ্রেফতার করা হয়েছেÑএমন খবরে আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।’ জাতিসংঘের এই সংস্থাটি আরও বলেছে, গণতান্ত্রিক সমাজে নাগরিক সমাজের কণ্ঠস্বর রোধ করা বা শান্তিপূর্ণ জমায়েতে বাধা দেওয়া মানবাধিকারের পরিপন্থী।
তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি অবিলম্বে শান্তিপূর্ণভাবে মতপ্রকাশ ও সমাবেশের অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, এর মাধ্যমে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ দেশে একটি ‘ভয়ের পরিবেশ’ তৈরি করছে। আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ইন্ডিয়ার প্রধান আকার প্যাটেল বলেন, ‘দিল্লি পুলিশ কর্তৃক বিরোধীদলীয় নেতা, ছাত্র ইউনিয়নের নেতা, সাংবাদিক এবং আইনজীবীসহ ৫ হাজারের বেশি মানুষকে আটকের ঘটনা প্রমাণ করে যে সরকার সমালোচনামূলক কণ্ঠস্বরগুলোকে স্তব্ধ করার জন্য মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘যাদের কেবল মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার প্রয়োগ করার কারণে আটক করা হয়েছে, কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে এবং নিঃশর্তভাবে তাদের মুক্তি দিতে হবে।’ একই সঙ্গে সরকার যাতে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শন করে এবং শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার রক্ষা ও নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করে, সে আহ্বানও জানান তিনি।
দমনপীড়নের ঘটনার পর তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিরোধী দলের শীর্ষ নেতারা। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে বলেন, ‘জ্ঞানেশ কুমারকে বিদায় নিতে হবে। এ সরকারকেও বিদায় নিতে হবে। এর পরই গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারকাজের কাজ শুরু হবে।’ কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে অভিযোগ করেছেন, বর্তমান মোদি সরকার ‘গণতন্ত্রের জননীকে’ এক ‘মুখবন্ধ গণতন্ত্রে’ পরিণত করেছে। এছাড়া প্রবীণ নেতা শশী থারুর এবং পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুকও এই ধরপাকড়ের তীব্র সমালোচনা করে আটক নেতাদের অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেছেন। আগামীকাল সোমবার এ ঘটনার প্রতিবাদে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ ও দেশজুড়ে আরও বড় পরিসরে প্রতিবাদের ঘোষণা দিয়েছে বিরোধী জোট।
দিল্লির যন্তর মন্তরে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র নির্ধারিত বিক্ষোভ কর্মসূচির ঠিক আগে আন্দোলনকারী ও শিক্ষার্থীদের আটকের ঘটনায় কেন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান। এই পদক্ষেপকে তিনি দেশের গণতন্ত্রের জন্য এক বড় ‘বিপদঘণ্টা’ বলে অভিহিত করেছেন। কেরালার মুখ্যমন্ত্রী ভি ডি সতীশন জানান, ‘দিল্লি পুলিশের মাধ্যমে পিনারাই বিজয়নের এই স্বেচ্ছাচারী আটক অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয় এবং আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই। বর্তমানে তাকে মন্দির মার্গ থানায় আটকে রাখা হয়েছে।’ তিনি আরও জানান, পিনারাই বিজয়নকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত পদক্ষেপ সমন্বয় করতে তিনি কেরালার মুখ্যসচিব এবং নয়াদিল্লিতে নিযুক্ত রেসিডেন্ট কমিশনারকে দিল্লি পুলিশ কর্তৃপক্ষের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করার নির্দেশ দিয়েছেন। নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলায় ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজিপি) উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিরোধী দলকে হেয়প্রতিপন্ন করছে বলে অভিযোগ করেছেন রাজস্থানের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী তথা প্রবীণ কংগ্রেস নেতা অশোক গেহলট।
তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করা বা প্রশ্ন তোলা মানে দেশের অখ-তা বা স্থিতিশীলতা বিনষ্ট করার কোনো ষড়যন্ত্র নয়। ভারত আর গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে টিকে নেই বলে মন্তব্য করেছেন কংগ্রেসের শীর্ষস্থানীয় নেত্রী ও সংসদ সদস্য প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্র। দেশের চলমান রাজনৈতিক সংকট, বিরোধী নেতা ও আন্দোলনকারীদের নির্বিচারে আটকের ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর বিরুদ্ধে কঠোর একনায়কতন্ত্রের অভিযোগ তুলেছেন। ব্যাপক বিক্ষোভ ও আন্দোলনের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি। তবে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে বিরোধী দলগুলোর বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা ও বিভ্রান্তি ছড়ানোর’ অভিযোগ তুলেছেন।
ধরপাকড়ের মধ্যে আজও বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা সিজেপি’র : দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার অনড় অবস্থান নিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। দলটি আজ রোববার ফের বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের নতুন ঘোষণা দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বার্তায় সিজেপি জানিয়েছে, তারা কোনোভাবেই পিছু হটছেন না। রোববার আবারও দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকরা ঐতিহাসিক যন্তর মন্তর অভিমুখে মার্চ করবেন এবং দাবিগুলো পূরণ না হওয়া পর্যন্ত সেখানেই অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রশাসনের পক্ষ থেকে নানা বাধা ও চাপ সত্ত্বেও সিজেপি তাদের ধারাবাহিক কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে রাজনৈতিক মাঠে নিজেদের অবস্থান জোরালো করার চেষ্টা করছে। আজকের এই কর্মসূচি ঘিরে রাজধানী দিল্লির আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সুপ্রিম কোর্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অবমাননার মামলার শুনানি আজ : ভারতের রাজধানী দিল্লিতে সাম্প্রতিক বিক্ষোভ ও জনবহুল এলাকায় কড়াকড়িকে কেন্দ্র করে নতুন আইনি মোড় নিয়েছে পরিস্থিতি। সুপ্রিম কোর্টের আগের নির্দেশ লঙ্ঘন করে মেট্রো ও গণপরিবহন চলাচল বন্ধ রাখার অভিযোগে কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলার আবেদন করা হয়েছে। এই আবেদনের প্রেক্ষিতে আজ রবিবার বিশেষ শুনানির দিন ধার্য করেছে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট।
গত ৯ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্ট তার আদেশে স্পষ্ট জানিয়েছিল যে, রাজধানীর নিরাপত্তার নামে গণপরিবহন বা মেট্রো চলাচলের ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা বা কড়া বিধিনিষেধ আরোপ করা ওভাররিচ বা এক ধরণের বাড়াবাড়ি। আদালত সে সময় জানায়, সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা না দিয়ে বরং পরিস্থিতি বিবেচনায় মেট্রো ও ট্রেন চলাচল নিয়মতান্ত্রিক ও নিয়ন্ত্রিত উপায়ে চালু রাখা উচিত। তবে শীর্ষ আদালতের সেই নির্দেশনা অমান্য করে দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা এবং চলাচল সীমিত করার অভিযোগ ওঠে। আদালতের নির্দেশনা লঙ্ঘন করে এই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিবাদে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার কার্যধারা শুরুর আর্জি জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে একটি আবেদন দাখিল করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে আজ ছুটির দিনেও বিশেষ শুনানির জন্য বিষয়টিালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত।
কড়া পাহারা বহাল রাখার ঘোষণা দিল্লি পুলিশের : ভারতের রাজধানী দিল্লিতে ফের নতুন করে বিক্ষোভের আশঙ্কায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা বলবৎ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দিল্লি পুলিশ। বিভিন্ন রাজনৈতিক ও ছাত্র সংগঠনের পক্ষ থেকে যন্তর মন্তরে নতুন করে বিক্ষোভের ডাক দেওয়ার সম্ভাবনার কথা মাথায় রেখেই এই সতর্কতা নেওয়া হয়েছে। দিল্লি পুলিশের অভ্যন্তরীণ সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, সিজেপি, এআইওয়াইএফ, এআইএসএফ এবং এসএফআই-এর মতো সংগঠনগুলোর নতুন প্রতিবাদের আহ্বানের প্রেক্ষাপটে পুলিশ প্রশাসন বাড়তি সতর্কতায় রয়েছে।