আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ২০১৫ সালে কৃষকদের ফল উৎপাদনে উন্নয়নের ‘মুলা’ ঝুলিয়ে নেওয়া প্রকল্পের অর্থে কর্মকর্তারা মোটাতাজা হলেও শত শত কৃষকের হয়েছে সর্বনাশ। তারা প্রকল্প কর্মকর্তাদের প্রচার-প্রচারণায় উদ্বুদ্ধ হয়ে খাটো জাতের নারিকেল চারা কিনে চরম প্রতারিত হয়েছেন। প্রতিবাদ করায় অনেক কৃষককে মামলা দিয়ে বাড়িঘরছাড়া করা হয়েছে। ভিয়েতনাম থেকে আমদানি করা খাটো জাতের নারিকেল চারা দেশের আবহাওয়া ও মাটির উপযোগী না হওয়া সত্ত্বেও কৃষকদের বিভ্রান্ত করে তা বিক্রি করা হয়। কৃষি অধিদপ্তরের গবেষকরা বলেছেন, তাদের পরামর্শ উপেক্ষা করে ট্রায়াল না দিয়েই এগুলো আনা হয়, তাই খাটো জাতের চারা ভালো ফল দেয়নি। এতে ঠকেছেন স্বপ্ন দেখা দেশের কৃষক ও কৃষি উদ্যোক্তারা। যুগান্তরের তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, কৃষকদের জন্য চারা আমদানি ও বিতরণের নামে রাষ্ট্রের কোটি কোটি টাকার হিসাব শুধু কাগজে-কলমে মেলানো হয়েছে। কথিত আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের নামে কাগজপত্র তৈরি করে বিল তুলে তা আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে।
‘বছরব্যাপী ফল উৎপাদনের মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন প্রকল্পের’ আওতায় ৫ বছরব্যাপী ১৯৫ কোটি টাকার প্রকল্প (২০১৫-১৯) হাতে নেওয়া হয় ২০১৫ সালে। এর দুই বছরের মাথায় ২০১৭ সালে সংশোধনী এনে প্রকল্প ব্যয় বাড়ানো হয়। প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, প্রকল্প শুরুর পর থেকে তিনবার সংশোধনী আনায় প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় ৬৭১ কোটি ৬০ লাখ টাকা। প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধি হার প্রায় ২২৭ শতাংশ। অথচ প্রকল্প বাস্তবায়ন নীতিমালা অনুযায়ী বিশেষ প্রয়োজনে এই ব্যয় ‘১৫ শতাংশ’ পর্যন্ত বাড়ানোর বিধান ছিল। সেটিও উপেক্ষা করা হয়। এ প্রকল্পে ছোট জাতের নারিকেল চারার সঙ্গে আরও ছিল সৌদি খেজুর চারা, কফি চাষ, কাজুবাদাম। এসব চাষের জন্য নেওয়া হয় কৃষক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি। বাস্তবে এর কোনোটিই কৃষকদের কাজে আসেনি। তারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হয়েছেন খাটো জাতের নারিকেল চারা কিনে, বাগান করে। এ প্রকল্পের প্রথম পরিচালক ছিলেন ড. মেহেদী মাসুদ। পরে তার সঙ্গে যুক্ত করা হয় তালহা জুবায়ের নামে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার একজন কৃষি কর্মকর্তাকে। মেহেদী মাসুদ অবসরে গেলে তালহা জুবায়ের ‘টিস্যু কালচার ল্যাব ও হর্টিকালচার সেন্টার স্থাপন’ ও পরে ‘কৃষকের কোল্ড স্টোরেজ’ প্রকল্পের পরিচালক হন। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে মেহেদী মাসুদ অবসরে যাওয়ার পরও ‘বছরব্যাপী ফল উৎপাদনের মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন প্রকল্পে’ পরিচালক হিসাবে দুই বছর চুক্তিভিত্তিক মেয়াদ বাড়িয়ে নেন। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে সেই মেয়াদ শেষ হলে তিনি তালহা জুবায়েরের ‘টিস্যু কালচার ল্যাব ও হর্টিকালচার সেন্টার স্থাপন’ প্রকল্পে মাসে ৩ লাখ টাকা বেতনে পরামর্শক হিসাবে নিয়োজিত হন। সাবেক মন্ত্রীর কাছে প্রকল্পে প্রয়োজনীয়তা দেখিয়ে তালহা জুবায়ের তাকে এ সুযোগ করে দেন বলে জানা যায়। সরকারের কোষাগার থেকে পরামর্শ ফির নামে মাসে এভাবে অর্থ খরচ করার ঘটনা অস্বাভাবিক।
যে স্বপ্ন দেখিয়ে প্রকল্প গ্রহণ : ‘বছরব্যাপী ফল উৎপাদনের মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন প্রকল্প’র অধীনে কৃষকদের জন্য উন্নত জাতের ফল বাগান স্থাপনে প্রশিক্ষণ, চারা উৎপাদন ও বিতরণ, নতুন প্রদর্শনী বাগান স্থাপনে কৃষক ও কৃষি উদ্যোক্তাদের সহায়তা-এমন স্বপ্নই দেখানো হয়েছিল। কৃষকদের দেওয়ার কথা ছিল-রাসায়নিক, জৈব সার, কীটনাশক, ওষুধ, উন্নত জাতের চারা, কাজুবাদামের কলম চারা ও বীজ। প্রদর্শনীর জন্য দেওয়ার কথা ছিল-দেশীয় উন্নত জাতের ফলের চারা, কলম, বিদেশি খাটো জাতের নারিকেল চারা ও কাজুবাদাম। কৃষকদের জন্য নতুন নতুন বাগান স্থাপনের এমন চমৎকার আয়োজন সাদা চোখে খুব ভালো উদ্যোগ মনে হলেও আড়ালে ছিল কর্মকর্তাদের নিজেদের সুবিধা অর্জনের নানা ফন্দি।
কৃষি গবেষকদের পরামর্শ উপেক্ষা : ভিয়েতনাম থেকে খাটো জাতের নারিকেল চারা আমদানির আগে এ চারা দেশের মাটি ও আবহাওয়ার জন্য উপযোগী কি না বা এতে মাটির কোনো ক্ষতি হবে কিনা-এমন নানা বিষয় পরীক্ষার পর সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু প্রকল্প পরিচালক করেছেন উলটো। কৃষি গবেষক মো. শামীম যুগান্তরকে বলেন, এসব খাটো জাতের চারা ভালো ফল দিচ্ছে না। এসব চারা আমাদের সুপারিশে আনার কথা ছিল। আমরা বলেছিলাম সামান্য কিছু চারা এনে ৬ মাস থেকে এক বছর দেখব। কিন্তু ট্রায়াল না দিয়েই এগুলো আনা হয়। তিনি জানান, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বিভিন্ন হর্টিকালচার সেন্টারেও এগুলো লাগানো হয়েছিল। রেজাল্ট ভালো আসেনি। পরে গবেষণায় আমাদের আর সম্পৃক্ত করা হয়নি। তিনি আরও জানান, আমাদের নিজস্ব বেশ কয়েকটি স্টেশনে যেমন- হাটহাজারী, বরিশাল, জয়দেবপুরসহ ৭-৮টি স্টেশনে ১২-১৫টি করে চারা লাগাই। গত কয়েক বছরেও কোনো রেজাল্ট পাইনি।
রাজশাহী অঞ্চলের কৃষি গবেষক ড. মো. আলীম উদ্দিন যুগান্তরকে বলেন, আমরা মতামত দিয়েছিলাম পোকামাকড়ে ভরা এসব চারা আনা ঠিক হবে না। কিন্তু আমাদের এমন মতামতকে উপেক্ষা করে ভিয়েতনাম থেকে নারিকেল চারা আনা হয়। আমি রাজশাহী অঞ্চলে কাজ করেছি। এ অঞ্চলে ভালো ফল দেয়নি। উত্তরাঞ্চলেও ভালো ফল দেয়নি। সেসব এলাকায় যেসব বাগান ছিল সেগুলো নষ্ট হয়ে গেছে। তিনি বলেন, রোগ ও পোকামাকড়ের ছবিসহ পরামর্শ ও প্রস্তাবনা আমাদের প্রধান কার্যালয়ে পাঠাই। তারা (প্রকল্প কর্মকর্তা) হয়তো এতে মনঃক্ষুণ্ন হয়েছেন। কিন্তু আমি যা পেয়েছি তাই দিয়েছি। তারা (প্রকল্প কর্মকর্তা) আমাকে বলল যে, দুই বছরে খাটো জাতের নারিকেল চারায় ফলন আসে। কিন্তু ১০-১২টা চারা লাগিয়ে অনেক পরিচর্যা করে দেখলাম কিছুই হচ্ছে না। পরে দেখা গেল এগুলো রোগে ভরা। রোগ ছাড়াও একটা ক্ষতিকর পোকা ছিল। আমরা ধারণা করছি আমদানিকৃত চারার সঙ্গেই পোকামাকড় এসেছে। কৃষকদের মধ্যে যারা এই চারার বাগান করেছেন কেউ তা রক্ষা করতে পারেনি। সব নষ্ট হয়ে গেছে।
আন্তর্জাতিক টেন্ডারের পরিবর্তে দেশীয় অনুগত কোম্পানির মাধ্যমে চারা আমদানি : সংশ্লিষ্টরা জানান, গবেষণা ছাড়া মল্লিকা সিড নামে একটি কোম্পানির মাধ্যমে ভিয়েতনাম থেকে সমুদ্র পথে সাড়ে ৭ লাখ চারা আমদানি করা হয়। অথচ বিদেশ থেকে চারা আমদানি করতে হলে আন্তর্জাতিক টেন্ডার করতে হয়। তা না করে প্রকল্প কর্মকর্তারা নিজেদের স্বার্থে দেশীয় প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে চারা এনে বিলও পরিশোধ করেন। সূত্রমতে, প্রকল্প প্রস্তাবনার বাইরে অতিরিক্ত আরও কয়েক লাখ চারা আনা হয়। সেসব চারা ৫০০ থেকে শুরু করে ২০০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করা হয় বলে অভিযোগ কৃষকদের।
প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, আড়াই লাখ চারা প্রদর্শনীর জন্য কৃষকদের ফ্রি দেওয়ার কথা ছিল। এর জন্য সরকারের বরাদ্দ ছিল ১২ কোটি ৫০ লাখ টাকা। কিন্তু বিনামূল্যের চারা কৃষকদের কাছে বিক্রি করা হয় ৫০০ টাকা করে। আড়াই লাখ চারা অনুমোদনের বাইরে আরও প্রায় ৫ লাখ চারা অফিশিয়ালি আমদানি করা হয়। ৫০০ টাকা হারে সাড়ে ৭ লাখ চারার বিক্রয় মূল্য দাঁড়ায় ৩৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা। বিষয়টি জানাজানি হলে পূবালী ব্যাংক খামারবাড়ি শাখায় ‘বছরব্যাপী ফল উৎপাদনের মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন প্রকল্প’র নামে একটি হিসাব খোলে (হিসাব নম্বর-৩৫৪৭৯০১০২০৬৩৬) ২০১৯ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত নারিকেলের চারা বিক্রির লেনদেন দেখানো হয় ৩১ কোটি ৫৭ লাখ ৩০ হাজার টাকা। প্রকল্পের মেয়াদ প্রথম দফায় ২০১৯ সালের শেষেও ৯ কোটি টাকারও বেশি প্রকল্পের ব্যাংক হিসাবে লেনদেনের তথ্য মিলেছে। কৃষকদের আন্দোলনের মুখে প্রকল্পের ওই হিসাবে এই ৯ কোটি টাকা জমা দেওয়া হয় বলে জানা যায়। এতে দেখা যায়, সব মিলে ৪০ কোটি ৫৭ লাখ ৩০ হাজার টাকা লেনদেন হয়েছে। পরে লেনদেনের এ ঘটনা পরে ধামাচাপা পড়ে যায়।
প্রকল্প পরিচালকের ব্যবসায়িক চ্যানেল কৃষি বায়োস্কোপে প্রচারণা : নিয়মবহির্ভূতভাবে প্রকল্প পরিচালক তালহা জুবায়েরের ‘কৃষি বায়েস্কোপ’-এর মাধ্যমে প্রচারণা চালিয়ে কৃষকদের সর্বনাশ করা হয় বলে অভিযোগ ভুক্তভোগী কৃষকদের। কৃষকদের প্রতিবাদের মুখে তার চ্যানেল বাদ দিয়ে অন্য লোকজনকে দিয়ে একাধিক ইউটিউব ও ফেসবুক পেজ খুলে এখনো প্রচারণা চালিয়ে কৃষকদের বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। এমন অসংখ্য পেজের মধ্যে ‘শাইখ সিরাজ ফ্যান্স গ্রুপ’ নামে কয়েকটি পেজ থেকে প্রচারণা করে চারা বিক্রি করে কৃষকদের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে সাংবাদিক শাইখ সিরাজের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি যুগান্তরকে বলেন, এরা একটি চক্র। আমার নাম ব্যবহার করে ব্যবসা করছে। তিনি জানান, খাটো জাতের নারিকেলের চারায় কৃষকদের তেমন কোনো উপকার হয়নি।
কৃষকদের সর্বনাশ, মামলা, হয়রানি : প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, নারিকেলের চারা কিনে প্রতারিত হওয়া অসংখ্য কৃষক ক্ষুব্ধ হয়ে ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত প্রকল্প পরিচালক মেহেদী মাসুদ ও তালহা জুবায়েরের বিচার ও ক্ষতিপূরণ চেয়ে বেশ কয়েকটি জেলায় মানববন্ধন করেন। তারা কৃষি সচিবসহ প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। এ কারণে কৃষকদের ভয়ভীতি দেখানো, বাড়ি থেকে গুম করে নেওয়া, চুয়াডাঙ্গার তৎকালীন এসপিকে দিয়ে ঘটনা চেপে যাওয়ার জন্য হুমকি দেওয়া হয়। ভুক্তভোগী কৃষক মেহেদী হাসান রোমেল জানান, তিনি অন্যান্য ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পক্ষে মানববন্ধন করেছিলেন। সে কারণে তাকে হুমকি দেওয়া হয়। ময়মনসিংহ থেকে গুম করে আনা হয় মোস্তাক মৃধা নামে এক কৃষি উদ্যোক্তাকে। আরেক কৃষি উদ্যোক্তা নাটোরের সেলিম রেজা যুগান্তরকে বলেন, আমি দেশে সর্বপ্রথম নারিকেলের বাণিজ্যিক চাষি। আমি প্রকল্প পরিচালককে বিশ্বাস করে ১ লাখ টাকা দিয়ে খাটো জাতের ২০০ চারা ক্রয় করে বাণিজ্যিক বাগান করি। রোগবালাইভরা চারা রোপণের পর আমার বাগান নষ্ট হলে তা কেটে ফেলি। বিষয়টি প্রকল্প পরিচালক মেহেদী মাসুদ ও তালহা জুবায়েরকে বারবার জানানোর পরও কোনো প্রতিকার পাইনি। উলটো পুলিশ দিয়ে ভয় দেখিয়ে আমাকে বাড়িঘরছাড়া করা হয়। শুধু তাই নয়, খোদ প্রকল্প পরিচালক তার বায়োস্কোপ চ্যানেলে বলা হয়, আমি নাকি চাষি না। অথচ আমি দেশের কৃষি খাতে সর্বাধিক পুরস্কারপ্রাপ্ত এআইপি কৃষক।
দেশের দক্ষিণাঞ্চলের কৃষকরাও চরম হতাশ : পিরোজপুরের নেসারাবাদ উপজেলার কুনিয়ারী গ্রামের কৃষক মাহমুদ কবির বলেন, আমার বাগানে ২০-২২টি ভিয়েতনামের নারিকেল গাছ লাগাই। যেভাবে প্রচার চালানো হয়েছে তার তুলনায় ফলন খুবই কম। তাছাড়া এই গাছে ফলন আনতে প্রচুর পরিশ্রম আর সময় দিতে হয়। তারপরও তেমন একটা ফলন আসে না। পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার এআইপি পুরস্কারপ্রাপ্ত কৃষি উদ্যোক্তা শাহবাজ হোসেন মিল্টন যুগান্তরকে বলেন, দেশী নারিকেল গাছের তুলনায় ভিয়েতনামি নারিকেল গাছের ফলন এক-তৃতীয়াংশ। এটুকু ফলন আনতেই যে অর্থ আর পরিশ্রম গেছে তার তুলনায় দেশি নারিকেল গাছের পেছনে ফলন ব্যয় অনেক কম। তাছাড়া যেভাবে প্রচার চালানো হয় তার চেয়ে ভিয়েতনামি নারিকেল গাছের ফলন খুবই সামান্য।
প্রকল্পের অনিয়ম নিয়ে কথা বলতে অস্বীকৃতি মেহেদী মাসুদ ও তালহা জুবায়েরের : যুগান্তরের পক্ষ থেকে মেহেদী মাসুদকে অভিযোগের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে চিকিৎসকের চেম্বারে আছেন বলে জানান। পরে আবার ফোন করলে তিনি পরামর্শক পদে থেকে ফি নেওয়ার কথা অস্বীকার করে ফোন কেটে দেন। পরে একাধিকবার ফোন করে তার সময়ে নেওয়া প্রকল্পে ছোট জাতের নারিকেল চারায় কৃষকের সর্বনাশের বিষয়ে প্রশ্ন থাকলেও তিনি সাড়া দেননি। প্রকল্পের বিষয়ে পরিচালক তালহা জুবায়েরকে মুঠেফোনে জানতে চাইলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। অথচ এই প্রতিবেদকের নিজস্ব ফোন থেকে সরাসরিই তালহা জুবায়েরের নম্বরে কল করা হয়। এই প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষকরা প্রতারিত হয়েছেন, একজন সরকারি কর্মকর্তা হয়ে কীভাবে আপনার নিজস্ব ইউটিউব চ্যালেন ‘কৃষি বায়োস্কোপ’ মাধ্যমে বাণিজ্যিক প্রচারণা করলেন, যাতে কৃষকরা বিশ্বাস করে ঠকছে-এসব প্রশ্ন শেষ হতে না হতেই তালহা জুবায়ের উত্তেজিত হয়ে বলেন, ‘আপনি যুগান্তরের সাংবাদিক কি না আমার সন্দেহ আছে। আমি আপনার প্রশ্নের জবাব দেব না। এ প্রতিবেদক বলেন, আমি আমার নাম-পরিচয়-পদবি উল্লেখ করে যুগান্তরের পক্ষ থেকে ফোন করেছি। তখন তিনি বলেন, আমি এ বিষয়ে আর কথা বলতে চাই না।
প্রকল্পের অনিয়মের বিষয়ে কথা বলতে যুগান্তরের তরফ থেকে কৃষিমন্ত্রী আমিন উর রশিদকে কয়েক দফায় ফোন করা হয়। প্রথমবার বিষয়টি জানিয়ে তার বক্তব্য চাইলে তিনি জানান, দেশের বাইরে চিকিৎসার জন্য রয়েছেন। তিনি ডক্টরের চেম্বারে প্রবেশ করবেন। পরে কথা হবে। পরে দেশে আসার পর ফের ফোন করা হলে তার ব্যক্তিগত সহকারী ফোন রিসিভ করে বলেন, মন্ত্রী একটা মিটিংয়ে আছেন। এরপর ফোন করলেও মন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।