রাজধানীর শাহজাহানপুর থানাধীন ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে রোগী মৃত্যুর সংবাদ সংগ্রহের সময় সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলায় কয়েকজন সাংবাদিক আহত হয়েছেন।
রবিবার (৪ অক্টোবর) দিবাগত রাতে এই ঘটনা ঘটে। এ সময় হাসপাতালের নিচতলায় ভাঙচুর করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী একজন বলেন, আমি দেখি হাসপাতালে অনেক মানুষ। গিয়ে দেখলাম, এক সাংবাদিকের ওপর হাসপাতালে অনেক লোক হামলা করেছে। সাংবাদিক বলার পরও হাসপাতালের লোকজন হামলা করে।
মনির নামের এক সাংবাদিক বলেন, আমি অনলাইন পোর্টাল ইয়র্ক নিউজে কাজ করি। ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে এক নারী রোগীর মৃত্যু হয়। মৃতের স্বজনদের অভিযোগ ভুল চিকিৎসায় ওই রোগী মারা যান। এই অভিযোগে স্বজনরা হাসপাতালে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছেন, এমন খবর পেয়ে সংবাদ সংগ্রহের জন্য আসি। এসে দেখি হাসপাতালের লোকজন মৃতের স্বজনদের ওপর হামলা করছে।
তিনি বলেন, ঘটনার ভিডিও ফুটেজ ধারণ করতে গেলে ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালায়। আমার ফোনটিও তারা নিয়ে গেছে। পরে আরেকজন ফোনটি ফেরত দিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে প্রথমে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলি। তারা ঘটনার বিষয়ে জানায়। এরপর হাসপাতালে থেকে বের হওয়ার পর মৃতের স্বজনদের দেখি বিক্ষোভ করতে। পরে তাদের ফুটেজ নিচ্ছিলাম। এ সময় হাসপাতালের লোকজন এসে লাঠিসোঁটা নিয়ে বের বের হয়ে মৃত রোগীর স্বজন ও সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালায়।
মৃতের চাচাতো ভাই মোহম্মদ শফিকুল ইসলাম সবুজ বলেন, বোনের পেটের একপাশে ব্যথা হওয়ায় গত শুক্রবার সন্ধ্যায় হাসপাতালে নিয়ে আসি। হাসপাতালের কর্তব্যরতরা বোনকে বলে যে, পাকস্থলীর এখানে কি যেন ফেটে গেছে। তাকে ঢাকা মেডিক্যালে ট্রান্সফার করে দিছে। আমরা ঢাকা মেডিক্যাল নেওয়ার জন্য গাড়িতে ওঠাবো তখন ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল আমাদেরকে জোর করে ধরে ধরে নিয়ে ইমারজেন্সি ভর্তি করেছে। এরপর বলেছে, দ্রুত অপারেশন করানোর কথা।
তিনি বলেন, পরে আমরা বলছি, অপারেশন করতে হলে করাবো। তখন হাসপাতালের লোকজন জানায়, ৬টা বাজে ভর্তি করার পরে ওদের এখানে হাসপাতালে কোনও ডাক্তার নেই। রাত ৯টায় বাজে ডাক্তার আসে। এরপর পেটের ব্যথায় কান্না করা আমার বোনকে ইনজেকশন দিয়ে ঘুম পাড়ায়। সারা রাত বোনকে এইভাবে ঘুম পাড়িয়ে রাখা হয়। শনিবার সকালে বেলা আল্ট্রাসোনোগ্রাম করাতে যাওয়ার সময় মারা যায়। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের ভুল হয়েছে বলে জানায়।
শফিকুল ইসলাম সবুজ বলেন, চিকিৎসক ও নার্স না থাকার পরও কেন বোনকে জরুরি অপারেশন করার কথা বলে ঘুম পাড়িয়ে রাখা হলো। তাদের এমন গাফিলতির কারণেই আমার বোনের মৃত্যু হয়েছে।
তিনি বলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলেছে, বোনের লাশ দাফন করে এসে কথা বলতে। এ জন্য রবিবার সন্ধ্যায় হাসপাতালে আসি। কিন্তু আসার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বসবে বসবে বলে রাত ১২টা বাজায়। পরে বসেছে। সেখানে বলেছে, আমার চাচাকে চাকরি দেবে। আমরা বলি, এটা তো কোনও কথা না। আমরা এমন প্রস্তাব মানিনি। পরে আমাদের ওপর হামলা চালানো হয়।
এ বিষয়ে শাহজাহানপুর থানার ওসি মোহাম্মদ আমিরুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, একজন নারী রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে রোগীর স্বজন ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে জেনেছি। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। কেউ থানায় অভিযোগ করেনি। যদি করে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।