সারা দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নাশকতার ছক করা হয়েছে। বিশেষ করে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ও রেলপথ ঘিরে হামলার আশঙ্কা করা হচ্ছে। গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে, ঝটিকা মিছিল, ককটেল বিস্ফোরণ ও অবরোধের মাধ্যমে বিভিন্ন পয়েন্টে যোগাযোগ বিচ্ছিন্নের পরিকল্পনা করেছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ। আগস্ট মাস ঘিরে রাজধানী ঢাকাসহ আশপাশের এলাকার গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলো টার্গেট করেছে। এ ছাড়াও রাজনৈতিক সংঘাত, অগ্নিসংযোগ, চোরাগোপ্তা হামলা ও ভাঙচুরের মতো ঘটনা ঘটিয়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হতে পারে। পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছে, সারা দেশে সর্বোচ্চ সতর্ক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কাউকেই নাশকতা করার সুযোগ দেওয়া হবে না। আজকালের মধ্যেই সারা দেশে সাঁড়াশি অভিযান শুরু করা হবে।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই দলটির নেতা-কর্মীরা নানাভাবে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির চেষ্টা করে আসছে। মাঝখানে তাদের কার্যক্রম ঝিমিয়ে গেলেও ভারতে আশ্রয় নেওয়া ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডিসেম্বরে দেশে ফেরার খবরে নেতা-কর্মীরা আবার অপতৎপরতা চালাতে চাঙা হয়ে উঠেছে। অনেকে ভারত থেকে অবৈধভাবে দেশে প্রবেশ করে ঝটিকা মিছিল বের করছে। সম্প্রতি পুলিশের একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদনে এমন আশঙ্কা করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, নতুন বাজার ও নিমতলী রেলগেটে আকস্মিক ব্যারিকেড সৃষ্টির মাধ্যমে উত্তরবঙ্গের সঙ্গে রাজধানীর সড়ক ও রেল যোগাযোগ সাময়িকভাবে বিচ্ছিন্ন করার অপচেষ্টা করতে পারে। শ্রমিকদের ছদ্মবেশে নিষিদ্ধ সংগঠনের কর্মীরা গার্মেন্টে কৃত্রিম অসন্তোষ, ভাঙচুর বা অগ্নিসংযোগের মাধ্যমে উৎপাদন বন্ধ করে দেশের রপ্তানি আয়ে ধস নামাতে পারে। একই সঙ্গে নিজেদের লোকবল প্রদর্শন করতে সাধারণ শ্রমিকদের জোরপূর্বক বা ভুল বুঝিয়ে ঝটিকা মিছিলে যোগ দেওয়ানোর চেষ্টা করতে পারে।
গোয়েন্দা প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ করা হয়েছে, গাজীপুর ও টঙ্গীর ঘনবসতিপূর্ণ মেস বা বস্তি এলাকাকে ঢাল বানিয়ে নিষিদ্ধ সংগঠনের বহিরাগত দুষ্কৃতকারীরা গোপন আস্তানা গড়ে তুলতে পারে। অলিগলিতে ১০-১৫ জনের ঝটিকা মিছিল বের করে ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে মানুষের মনে আতঙ্ক সৃষ্টি করার চেষ্টা করতে পারে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে কোথাও সামাজিক বা রাজনৈতিক ব্যানারে আকস্মিক শোডাউন দেওয়ার চেষ্টা করতে পারে। চেষ্টাকালে স্থানীয় অন্যান্য রাজনৈতিক দল ও সাধারণ জনতার সঙ্গে মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এতে সংশ্লিষ্ট এলাকায় আইনশৃঙ্খলার বিঘ্ন ঘটতে পারে। কেপিআইভুক্ত বা গুরুত্বপূর্ণ সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা, বিদ্যুৎ কেন্দ্র বা থানা লক্ষ্য করে চোরাগোপ্তা হামলা বা নাশকতা হতে পারে। এ ছাড়াও গভীর রাতে বা ভোরে চলাচলকারী দূরপাল্লার ও পণ্যবাহী যানবাহনে ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগের চেষ্টা চালাতে পারে। গোপন বৈঠকের মাধ্যমে তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা তথ্য, কৃত্রিম সংকট (যেমন- চাল, তেল বা জ্বালানির সংকট) এবং আইনশৃঙ্খলার অবনতি-সংক্রান্ত গুজব ছড়িয়ে সাধারণ মানুষকে সরকারের বিরুদ্ধে দাঁড় করানোর চেষ্টা করতে পারে।
এ বিষয়ে রেলওয়ে পুলিশের প্রধান ও অতিরিক্ত আইজিপি ব্যারিস্টার মো. জিল্লুর রহমান বলেন, রেলপথে নিরাপত্তা জোরদারে স্টেশন ও প্ল্যাটফর্মে টহল বৃদ্ধি, সন্দেহজনক ব্যক্তি ও পরিত্যক্ত বস্তু শনাক্তে নজরদারি, যাত্রীদের তল্লাশি জোরদার এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন বলেন, যেকোনো ধরনের নাশকতা প্রতিরোধে গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। এ ছাড়াও কোনো ঘটনা ঘটলে তাৎক্ষণিকভাবে কঠোর পদক্ষেপ নিতে সব ইউনিটকে নির্দেশনা দেওয়া রয়েছে।