Image description

একটি পর্নোগ্রাফি মামলা। তোলপাড় সিলেট ও লন্ডনে। মামলার আসামি লন্ডনের ডেগেনহাম মসজিদের ইমাম শাকির আহমদ। তার পিতা মাওলানা মঞ্জুরুল আলমও সিলেটের একজন স্বনামধন্য ইমাম। সিলেটে বেড়াতে আসা হাফেজ শাকির আহমদকে ওই পর্ণোগ্রাফি মামলায় গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। চারদিন ধরে তিনি কারাগারে। লন্ডনে থাকা স্বজনরা হাফেজ শাকিরের মামলা ও গ্রেপ্তার নিয়ে নেট দুনিয়ায় সরব। তাদের দাবি- হাফেজ মাওলানা শাকির আহমদকে টাকার লোভে একটি চক্র ফাঁসিয়েছে। অন্যদিকে বাদীপক্ষ দাবি করেছে- তাদের অভিযোগ সঠিক। পুলিশ মামলা রেকর্ড করে আসামি গ্রেপ্তার করলেও নিরপেক্ষ তদন্তের উপর জোর দিয়েছে। ভার্চ্যুয়ালি চলছে তদন্ত। হাফেজ শাকির সুবহানীঘাট এলাকার মৌবন আবাসিক এলাকার ৬৭-১ নং বাসার বাসিন্দা। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন- পিতা মাওলানা মঞ্জুরুল আলমের সঙ্গে ২০০৭ সালে শাকির আহমদ লন্ডনে যান। ওখানেই পড়ালেখা করেন। বিয়েও করেছেন লন্ডনে। তিনি তিন সন্তানের জনক। ২০১৪ ও ২০১৯ সালে দু’বার দেশে এসেছিলেন।

তিনি লন্ডনের ডেগেনহাম মসজিদের ইমামের পাশাপাশি ওখানকার একটি বাঙালি কমিউনিটি মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষকও। তিনি ওখানে চ্যারেটি ফান্ডের টাকা তুলে সিলেটের অসহায় মানুষের মধ্যে তার পরিবারের লোকজনের মাধ্যমে বিতরণ করেন। কমিউনিটির কাছে সমাদৃত ব্যক্তি। এবার ঈদ পালনে রমজানের শেষদিকে স্ত্রী আমিনা খাতুন ও সন্তানদের নিয়ে সিলেটে আসেন। শুক্রবার দুপুরে কোতোয়ালি থানা পুলিশের একটি দল গিয়ে তাকে বাসা থেকে ধরে নিয়ে আসে। সুবহানীঘাটের পাশ্ববর্তী ধোপাদিঘীর পূর্বপাড় এলাকার বাসিন্দা ফাতেমা বেগমের দায়ের করা পর্ণোগ্রাফির অভিযোগে তাকে আটক করা হয়। মামলায় ফাতিমা অভিযোগ করেন- শাকিরের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। ভিডিও কলের মাধ্যমে তাদের মধ্যে প্রায় সময় যোগাযোগ হয়। বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তার পার্সোনাল অশ্লীল ছবি ও ভিডিও মোবাইলে ধারণ ও সংরক্ষণ করে রাখে। এবার দেশে এসে তার সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করা হয়নি। এক পর্যায়ে বিয়ের কথা বললে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে।

এদিকে মামলার কাগজপত্রে ভিডিও কলের যে প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়েছে সেটি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন হাফেজ শাকিরের স্বজনরা। তার ভাই লন্ডন প্রবাসী শাকিল আহমদ জানিয়েছেন- হাফেজ শাকির যে স্বভাবের মানুষ নয় তাকে সেই স্বভাবে দোষী করা হচ্ছে। ফাতেমা ও তার ভাই শাহাদাত এক সময় তাদের প্রতিবেশী ছিল। ফলে পূর্ব পরিচয়ের সূত্র ধরে প্রায় সময় হাফেজ শাকের তাদের টাকা পয়সা দিয়ে সহযোগিতা করতেন। পিতার অসুস্থতার মিথ্যা অজুহাত তুলে টাকা নেয়ার পর থেকে তিনি সহযোগিতা বন্ধ করে দেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে কাল্পনিক অভিযোগ তুলে বিবাহিতা মহিলা ফাতেমা তার ভাইকে ব্ল্যাকমেইল শুরু করে। এতে শাহাদাতের গোটা পরিবার জড়িত বলে দাবি করেন তিনি। বলেন- তার ভাই শাকিরের সঙ্গে ওই মহিলার সরাসরি কোনো ভিডিও কল নেই। বরং শাকিরের হোয়াটসআপে ন্যুড ভিডিও পাঠিয়ে ব্ল্যাকমেইল করে ৫ লাখ টাকা দাবি করেছিল। আর টাকা না দেয়ার কারণে এখন শাকিরকে ফাঁসানো হয়েছে। শনিবার ছিল শাকিরের লন্ডনে ফেরার ফ্লাইট। মিথ্যা ঘটনা দিয়ে মামলা করে তাকে শুক্রবারই গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় তটস্থ হয়ে শাকিরের স্ত্রী আমিনা খাতুন স্বজনদের অনুরোধে স্বামীকে কারাগারে রেখেই সন্তানদের নিয়ে শনিবার দেশ ছেড়েছেন।

কোতোয়ালি থানার ওসি খান মো. মাইনুল জাকির জানিয়েছেন- ফাতিমার অভিযোগের প্রেক্ষিতে মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। আসামি গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এখন পুলিশ ঘটনার সত্যতা নিয়ে নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করছে। তবে মামলার বাদী ফাতেমার অস্বাভাবিক ভিডিও কলে হাফেজ শাকিরের সশরীরে উপস্থিতির বিষয়টি পাওয়া যায়নি। এ কারণে অভিযোগের সত্যতা জানতে মোবাইল ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। ওদিকে- হাফেজ শাকির গ্রেপ্তারে ক্ষোভ জানিয়েছেন স্ত্রী আমিনা খাতুন। তিনি বলেন- তার স্বামীর চরিত্র কী সেটি তিনি ভালো করেই জানেন। একজন হাফেজ ও আলেমের চরিত্র নিয়ে একটি ব্ল্যাকমেইলার গ্রুপ নাটক সাজিয়েছে। আর সেটি পুলিশ গ্রহণ করেছে। এটা মেনে নেয়ার নয়।