ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে একটি জোট গড়ার চেষ্টা করছে সৌদি আরব। এ জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাতকে সমঝোতায় নেয়ার চেষ্টা চলছে। এ লক্ষ্যে ইয়েমেনে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভবিষ্যৎ ভূমিকা কী হবে তা নিয়ে রোববার আবুধাবিতে একটি বৈঠক হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান এবং সৌদি আরবের প্রতিনিধিসহ কয়েকটি আরব দেশের প্রতিনিধিরা।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেতানিয়াহু সৌদি আরবকে হুতিদের পরাজিত করতে সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছেন। তবে সৌদি আরবের জন্য সেই প্রস্তাব গ্রহণ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠতে পারে। কারণ ইয়েমেনে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তার জন্য সৌদি আরব আহ্বান জানালেও ডনাল্ড ট্রাম্প এখনো তাতে সাড়া দেননি। ইয়েমেন পরিস্থিতি নিয়ে মঙ্গলবার রিয়াদে আরও একটি বৈঠক হয়েছে। এতে সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান আল সৌদ এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভাইস প্রেসিডেন্ট শেখ মনসুর বিন জায়েদ আল নাহিয়ান অংশ নেন। এ খবর দিয়েছে অনলাইন দ্য গার্ডিয়ান।
এতে বলা হয়, ইয়েমেনে হুতিদের পিছু হটাতে সক্ষম একটি সামরিক জোট গঠনের বিনিময়ে সৌদি আরবকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছাতে হবে। সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত উভয় দেশই ইয়েমেনে হুতিবিরোধী শক্তিগুলোকে সমর্থন দিয়েছে আগে।
তবে এ বছরের জানুয়ারিতে দুই দেশের সম্পর্কের মারাত্মক অবনতি ঘটে। ওই সময় সংযুক্ত আরব আমিরাতের ঘনিষ্ঠ বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিল বা এসটিসি’র বাহিনীর ওপর হামলা চালিয়ে তাদের পরাজিত করে সৌদি আরব। দক্ষিণ ইয়েমেনকে আবার পৃথক রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার এসটিসি’র প্রচেষ্টা ঠেকাতেই এই অভিযান চালানো হয়েছিল। এরপর কার্যত ইয়েমেন থেকে সরে যায় সংযুক্ত আরব আমিরাত। কিন্তু সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি ইরানের মিত্র হুতিদের আকস্মিক সাফল্য পুরো অঞ্চলের ভূরাজনীতিকে আবারো বদলে দিয়েছে। হুতিরা সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে কৌশলগত বাব আল-মান্দেব প্রণালির দিকে এগিয়ে যায়। দক্ষিণমুখী এই অভিযানে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সাবেক সমর্থনপুষ্ট ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স ফোর্সেসের নেতৃত্বে থাকা তারেক সালেহ’র বাহিনী পরাজিত হয়। দ্রুত ভেঙে পড়ে তাদের প্রতিরোধ।
ইয়েমেনে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়ে রোববার আবুধাবিতে একটি বৈঠক হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান এবং সৌদি আরবের প্রতিনিধিসহ কয়েকটি আরব দেশের প্রতিনিধিরা। প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেতানিয়াহু সৌদি আরবকে হুতিদের পরাজিত করতে সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছেন। তবে সৌদি আরবের জন্য সেই প্রস্তাব গ্রহণ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠতে পারে। কারণ ইয়েমেনে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তার জন্য সৌদি আরব আহ্বান জানালেও ডনাল্ড ট্রাম্প এখনো তাতে সাড়া দেননি। ইয়েমেন পরিস্থিতি নিয়ে মঙ্গলবার রিয়াদে আরও একটি বৈঠক হয়েছে। এতে সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান আল সৌদ এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভাইস প্রেসিডেন্ট শেখ মনসুর বিন জায়েদ আল নাহিয়ান অংশ নেন।
দুই দেশের পক্ষ থেকে পাওয়া বিভিন্ন ইঙ্গিতের মধ্যে এটিও একটি। এসব ইঙ্গিত থেকে বোঝা যাচ্ছে, তারা হয়তো আবারো সমঝোতার পথ খুঁজতে চাইছে। অন্তত জ্বালানি খাতের মতো কোনো একটি বিষয়ে হলেও। হুতিরা বাব আল-মান্দেব প্রণালির দিকে এগিয়ে যাওয়ার পর এখন তাদের দখলে নেয়া এলাকাগুলো সুসংহত করার চেষ্টা করছে এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর তাইজ দখলের দিকে এগোচ্ছে। প্রতিরক্ষা বিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউট বা রুসির উপসাগর ও ইয়েমেন বিষয়ে বিশেষজ্ঞ বারা শিবান বলেন, হুতি বাহিনী শহরটিতে একের পর এক হামলা চালাচ্ছে। তারা শহর রক্ষায় নিয়োজিত তাইজ অক্ষের বাহিনীকে ক্লান্ত করে দিতে চাইছে। সম্প্রতি এক সপ্তাহ তাইজে কাটানো শিবান বলেন, হুতিদের পিছু হটানো হচ্ছে। কিন্তু পরদিন তারা আবার অন্য একটি ফ্রন্ট দিয়ে হামলা চালাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যকার বিরোধ মেটানোর চেষ্টা চলছে এবং আস্থা তৈরির কিছু পদক্ষেপ নেয়া হতে পারে। কিন্তু সংযুক্ত আরব আমিরাত ইয়েমেন ছেড়ে গেছে। আর এসটিসি’র সঙ্গে তাদের সম্পর্ক থাকায় রিয়াদ সম্ভবত তাদের আবার ফিরে আসতে দেবে না। এতে সমস্যা তৈরি হবে। সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরব মূলত বিপরীত পক্ষেই অবস্থান করছে। এসটিসি’র নেতা এইদারুস আল-জুবাইদি সৌদি হামলার পর দেশ ছেড়ে নির্বাসনে চলে যান। এরপর রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে এসটিসি অনেকটাই প্রান্তিক হয়ে পড়ে।
ইয়েমেনের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং এসটিসি’র সমর্থক খালেদ আল ইয়েমানি দ্য গার্ডিয়ানকে বলেছেন, দক্ষিণাঞ্চলীয় ইস্যুতে সৌদি আরবকে তার রাজনৈতিক কৌশল পুনর্বিবেচনা করতে হতে পারে। এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত দক্ষিণাঞ্চলীয় বাহিনী জায়ান্ট ব্রিগেডস হুতিদের অগ্রযাত্রা ঠেকাতে মাঠে থাকা সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ও সুসজ্জিত বাহিনীগুলোর একটি ছিল।