Image description

সামষ্টিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, দুর্বল করপোরেট আয় ও লভ্যাংশসংক্রান্ত আশঙ্কার ফলে সমাপ্ত সপ্তাহে পতন অব্যাহত ছিল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই)।

এর প্রভাবে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ঝুঁকি এড়ানোর প্রবণতা বাড়ায় লেনদেনের গতি কমে তারল্য সংকট আরও তীব্র হয়েছে।

বিদায়ী সপ্তাহে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১ শতাংশ বা ৫৬.১ পয়েন্ট কমে ৫৪৭৬ পয়েন্টে নেমে এসেছে, যা আগের সপ্তাহে ছিল ৫৫৩২ পয়েন্ট।

শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস ১.২ শতাংশ কমে ১০৮৭ পয়েন্টে দাঁড়ালেও ব্লু-চিপ কোম্পানির ডিএস-৩০ সূচক সামান্য ০.১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ২১০৬ পয়েন্টে অবস্থান করেছে। একই সঙ্গে বাজারের মোট মূলধন ০.২৫ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ৬৮৪২.১ বিলিয়ন টাকায় দাঁড়িয়েছে।

বিক্রেতাদের চাপের মুখে বাজারের দৈনিক গড় লেনদেন ২১.২ শতাংশ কমে ৫৫৬৫ মিলিয়ন টাকায় নেমে এসেছে, যা আগের সপ্তাহে ৭০৬১ মিলিয়ন ছিল।

এ ছাড়া গড় শেয়ার হস্তান্তর ২০.৪ শতাংশ কমে ১৮০ মিলিয়নে এবং দৈনিক গড় ট্রেড ৭.৭ শতাংশ কমে ১ লাখ ৭২ হাজার ৪০০টিতে দাঁড়িয়েছে।

পর্যালোচনায় দেখা যায়, বিনিয়োগকারীরা মূলত বস্ত্র (২৯.৫%), সাধারণ বিমা (১০.৯%) এবং ওষুধ ও রসায়ন (১০.৫%) খাতে সবচেয়ে বেশি সক্রিয় ছিলেন।

অর্থনৈতিক মন্দাভাব ও আর্থিক ফলাফলের আশঙ্কায় সপ্তাহের প্রথম চার কার্যদিবসে বাজারে টানা দরপতন ঘটে। পরবর্তী সময়ে সপ্তাহের শেষ দুই কার্যদিবসে কিছু বিনিয়োগকারী শেয়ার ক্রয় বাড়ালে বাজার কিছুটা ঘুরে দাঁড়ায়, যা সামগ্রিক পতন সামাল দেওয়ার জন্য যথেষ্ট ছিল না।

খাতের দিক থেকে পাট, কাগজ ও মুদ্রণ এবং টেলিকমিউনিকেশন খাত অল্প কিছু লাভে থাকলেও মিউচুয়াল ফান্ড, সাধারণ বিমা, সেবা ও আবাসন, আইটি এবং সিরামিক খাত সবচেয়ে বেশি লোকসানের শিকার হয়েছে।

সাপ্তাহিক দর বৃদ্ধির শীর্ষে থাকা কোম্পানিগুলোর মধ্যে অ্যাপেক্স ফুডস ২৬.৬৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৩২৮.৩০ টাকায়, বিডি ল্যাম্পস ১৭.১০ শতাংশ বেড়ে ২৬৭.১০ টাকায় এবং আজিজ পাইপস ১২.৯৬ শতাংশ বেড়ে ৮৬.৩০ টাকায় সমাপনী হয়েছে। এ ছাড়া সোনালী লাইফ ইনস্যুরেন্স, সোনালি আঁশ, ডেসকো, ইস্টার্ন কেবস, শ্যামপুর সুগার মিলস, অলটেক্স এবং সমতা লেদারও দর বৃদ্ধির শীর্ষে ছিল।

অন্যদিকে, ফিনিক্স ফাইন্যান্স প্রথম মিউচুয়াল ফান্ড ২২.৭৩ শতাংশ কমে ১৩.৬০ টাকায় নেমে দর পতনের শীর্ষে অবস্থান করে। সিলভা ফার্মাসিউটিক্যালস, এমবিএল প্রথম মিউচুয়াল ফান্ড, সাইফ পাওয়ারটেক, এক্সিম ব্যাংক প্রথম মিউচুয়াল ফান্ড, ফারইস্ট নিটিং, জিএসপি ফাইন্যান্স, প্রাইম ফাইন্যান্স, পেনিনসুলা চট্টগ্রাম এবং টেকনো ড্রাগস দর পতনের শীর্ষ দশের বাকি অংশ জুড়ে ছিল।

লেনদেনের দিক থেকে টেক্সটাইল খাতের আধিপত্য দেখা গেছে। সপ্তাহ জুড়ে সায়হাম টেক্সটাইল ২৮.৭৫ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন করে তালিকার শীর্ষে অবস্থান করে। এরপরের অবস্থানে ছিল প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল, ইভেন্স টেক্সটাইল, ব্র্যাক ব্যাংক, আইপিডিসি ফাইন্যান্স, মালেক স্পিনিং, ওরিয়ন ইনফিউশন, অ্যাপেক্স ফুডস, সোনালি আঁশ এবং এনভয় টেক্সটাইল।

সূচকের উত্থানে পূবালী ব্যাংক, বিএসআরএম লিমিটেড, ব্র্যাক ব্যাংক ও বিএসআরএম স্টিল ইতিবাচক অবদান রাখলেও ইসলামী ব্যাংক, ইউসিবি, বেক্সিমকো ফার্মা এবং ওয়ালটন হাই-টেক সূচক নিচে নামাতে প্রধান ভূমিকা পালন করে।

করপোরেট ও লভ্যাংশসংক্রান্ত খবরের মধ্যে সিএপিএম বিডিবিএল মিউচুয়াল ফান্ড-০১-এর বিশেষ সাধারণ সভায় ৯৯.১৯ শতাংশ ইউনিটহোল্ডারের সম্মতিতে ফান্ডটিকে মেয়াদি থেকে বেমেয়াদি ফান্ডে রূপান্তরের প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে, যা এখন বিএসইসির অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

পাশাপাশি অ্যাপেক্স ফুটওয়্যার ১৫ শতাংশ নগদ ও ১৫ শতাংশ বোনাস, বঙ্গাস ৩ শতাংশ নগদ, এনভয় টেক্সটাইল ৩২.৫০ শতাংশ নগদ এবং ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যালস ৭৭ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে।