Image description
নিয়মিত লভ্যাংশ আর শক্তিশালী ব্যবসায়িক ভিত্তির ফলে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থার প্রতীক গ্রামীণফোন। তবে সম্প্রতি মুনাফায় চাপ, ঋণ বৃদ্ধি ও কিছু আইনি জটিলতায় পড়েছে প্রতিষ্ঠানটি। চলতি বছরের জুন শেষে ঋণের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১,২০০ কোটি টাকায়।
 
দেশের সবচেয়ে বড় মোবাইল ফোন অপারেটর প্রতিষ্ঠান গ্রামীণফোন। শুরু থেকেই প্রতিষ্ঠানটির মৌলভিত্তি শক্ত অবস্থায় থাকলেও গেল কয়েক বছর মুনাফায় চাপ পড়েছে। অন্যদিকে বেড়েছে ঋণ এবং দেখা দিয়েছে নিরীক্ষা সংক্রান্ত আইনি বিরোধের মতো জটিলতা।
 
২০২০ সালে যেখানে প্রতিষ্ঠানটির মুনাফা ছিল ৩,৭০০ কোটি টাকার বেশি, ২০২৫ সালে তা কমে হয়েছে ২,৯৫৮ কোটি টাকা। এদিকে চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে নিট মুনাফা হয়েছে ১,৪২১ কোটি টাকা; যা গেল বছরের একই সময়ের চেয়ে ৬ শতাংশ কমেছে।
 
প্রতিষ্ঠানটি যখন মুনাফার চাপে আছে, তখন ঋণের বোঝাও বাড়ছে। ২০২০ সালে যেখানে গ্রামীণফোনের ঋণ ছিল ১২৪ কোটি টাকা, গেল বছর শেষে তা সাড়ে পাঁচ গুণ বেড়ে হয়েছে ৭০০ কোটি টাকা। আর চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসেই প্রায় ৫০০ কোটি টাকা বেড়ে ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ১,১৯৫ কোটি টাকা। তবে এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি প্রতিষ্ঠানটির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা।
 
এদিকে বিটিআরসির সঙ্গে প্রায় সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকার নিরীক্ষা সংক্রান্ত আইনি বিরোধ ও বাংলাদেশ রেলওয়েকে প্রায় ১৩২ কোটি টাকা পরিশোধ সংক্রান্ত আইনি বিরোধ রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির। গ্রামীণফোনের ভাষ্য—আইনি প্রক্রিয়ায় বিরোধ সমাধান করা হবে।
 
গ্রামীণফোনের চিফ কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার তানভীর মোহাম্মদ বলেন, "অংকটা তো অনেক বড় এবং পুরো প্রসেসটা নিয়েই একটা ডিসপুট রয়েছে। বেশ কিছু হিসাব যেভাবে করা হয়েছে, সেটা নিয়ে আমাদের নিজস্ব একটা পজিশন আছে এবং আমরা বিশ্বাস করি যে, এই জিনিসটাকে যদি একটু স্বচ্ছভাবে দেখা হয়, তাহলে হয়তো এখানে একটা বড় সলিউশনের সুযোগ রয়েছে। সেইভাবে আমরা বেশ কিছু লিগ্যাল স্টেপও নিয়েছিলাম। আমরা বিটিআরসির সাথে কথা বলছি, আমরা আলোচনা করছি। কারণ এই জিনিসটা সলভ করা দুই পক্ষের জন্যই খুবই জরুরি।"
 
২০২১ থেকে ২০২৫ সময়ে গ্রামীণফোন নিয়মিত ৩৩০ শতাংশ পর্যন্ত নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসের জন্য দেয়া হয়েছে ১০৫ শতাংশ অন্তর্বর্তীকালীন নগদ লভ্যাংশ। প্রতিষ্ঠানটি প্রথম মোবাইল অপারেটর হিসেবে ২০০৯ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়।