পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে সৌদি আরবের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ সরকারকে উপহার হিসেবে দেওয়া খেজুর দেশের প্রতিটি জেলায় বরাদ্দ দেওয়া হলেও রংপুর সিটি করপোরেশন এলাকার হতদরিদ্ররা সেই বরাদ্দ থেকে বঞ্চিত হয়েছে। জেলার আটটি উপজেলায় খেজুর বরাদ্দ দেওয়া হলেও রংপুর সিটি করপোরেশনের জন্য কোনো আলাদা বরাদ্দ রাখা হয়নি বলে জানা গেছে। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে নগরীর দরিদ্র ও সচেতন মহল।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, সৌদি আরবের কিং সালমান হিউম্যানিটারিয়ান এইড অ্যান্ড রিলিফ সেন্টারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশে মোট ১২ হাজার ৫০০ কার্টন খেজুর উপহার দিয়েছে।
বুধবার (১১ মার্চ) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা গোলাম কিবরিয়া।
তবে জেলার আটটি উপজেলায় বরাদ্দ থাকলেও সিটি করপোরেশনের জন্য কোনো বরাদ্দ না থাকায় নগরীর হতদরিদ্র মানুষের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
নগরীর কয়েকজন নিম্ন আয়ের বাসিন্দা বলেন, রংপুর সিটিতে শুধু ধনী মানুষ বাস করে, এমনটা তো নয়। এখানে অনেক দিনমজুর, রিকশাচালক, শ্রমজীবী মানুষ আছে, যারা কষ্ট করে সংসার চালায়। রমজানে তাদেরও সহায়তা প্রয়োজন। তাহলে তারা কেন এই বরাদ্দ থেকে বঞ্চিত হবেন? সিটি করপোরেশন এলাকায়ও অসংখ্য মাদরাসা ও এতিমখানা রয়েছে। সেখানে থাকা এতিম ও অসহায় শিশুদেরও এই খেজুর পাওয়ার অধিকার রয়েছে।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) রংপুর জেলার সভাপতি ফখরুল আনাম বেঞ্জু জানান, সৌদি আরবের পক্ষ থেকে খেজুর উপহার দেওয়া অবশ্যই একটি ইতিবাচক উদ্যোগ। এতে দরিদ্র মানুষ উপকৃত হতে পারে। তবে এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে যেন কোনো বৈষম্য না থাকে, সেটি নিশ্চিত করা জরুরি।
তিনি বলেন, ‘জেলার অন্যান্য উপজেলায় যখন বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, তখন রংপুর সিটি করপোরেশন এলাকাকেও সেই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা উচিত ছিল। কারণ নগর এলাকাতেও অনেক দরিদ্র ও অসহায় মানুষ বাস করেন। খেজুর আসার বিষয়টি খুবই ভালো উদ্যোগ। তবে উদ্যোগটির আরো পরিসর বড় হলে ভালো হতো। তবে জেলার অন্যান্য উপজেলায় বরাদ্দ হলে সিটির মধ্যেও বরাদ্দ হওয়া উচিত।’
রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মোহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘খেজুর সরাসরি দেশের প্রতিটি জেলার জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানো হয়েছে। সিটি করপোরেশনের জন্য আলাদা করে কোনো বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। আমাদের কাছে খেজুরের কোনো বরাদ্দ আসেনি। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও সিটি করপোরেশনের জন্য আলাদা কোনো খেজুর দেওয়া হয়নি।’
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। সচেতন মহলের দাবি, ভবিষ্যতে এ ধরনের মানবিক সহায়তা বিতরণের ক্ষেত্রে শহর ও গ্রামের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মধ্যে সমতা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে রংপুর সিটি করপোরেশন এলাকার দরিদ্র মানুষ ও এতিমখানাগুলোকেও এই ধরনের সহায়তার আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।