Image description

“৪৭টি মাথার খু’লি ও কঙ্কালসহ সমন্বয়ক মোস্তাক ও ৩ জন গ্রে’ফ’তার। পুলিশ হত্যার বিচারের কথা শোনার পর পর এই খুলি উদ্ধার হয়, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ মন্তব্য করছেন জুলাই আগস্ট জঙ্গি হামলায় যে পুলিশ নিহত হয়েছিল তাদেরই খুলি এবং কঙ্কাল হতে পারে।” এ ধরনের দাবিতে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ানো হয়েছে।

 

এ সম্পর্কিত কয়েকটি পোস্ট দেখুন এখানেএখানে এবং এখানে

 

তবে এশিয়া পোস্টের যাচাইয়ে দাবিটির সত্যতা পাওয়া যায়নি।

 

প্রচারিত ৪০ সেকেন্ডের ভিডিওটিতে মানবদেহের কঙ্কাল, মাথার খুলিসহ পুলিশের হাতে আটক কয়েকজনকে দেখা যায়। ভিডিওর ক্যাপশনে এবং মূল ফ্রেমে আটক একজনকে সমন্বয়ক মোস্তাক হিসেবে এবং উদ্ধার হওয়া খুলিগুলো জুলাই অভ্যুত্থানে নিহত পুলিশের বলে দাবি করা হচ্ছে। ফেসবুকে আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পেজ এবং প্রোফাইল থেকে ভিডিওটি শতাধিকবার পোস্ট করা হয়েছে।

 
 

 

অন্যদিকে প্রচারিত দাবি বিশ্বাস করে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন নেটিজেনদের অনেকে। ভিডিওটি উইশ-ইচ্ছে নামে একটি পেজে পোস্ট করা হলে কয়েক ঘণ্টায় ৩০ হাজারের বেশি ভিউ এবং ৬ শতাধিক বার শেয়ার করা হয়েছে। এতে আব্দুল ওয়াহেদ চৌধুরী নামে একজন মন্তব্য করেছেন, “নিহত পুলিশের পরিবারের সদস্যদের সাথে ডিএনএ টেস্ট করলেই খুলির রহস্য উন্মোচন হবে।” তালুকদার মিজান নামে অন্য একজন মন্তব্য করেছেন, “মেটিকুলাস ডিজাইন করে পুলিশ হত্যাযজ্ঞ ঘটানো হয়েছিল, সব পুলিশ সদস্য হত্যার বিচার চাই!”

 

তবে প্রচারিত ভিডিওটি ইনভিড কী-ফ্রেম থেকে রিভার্স ইমেজ সার্চ করে, ঢাকার তেজগাঁও ও উত্তরা এলাকা থেকে আটক কয়েকজন মানব কঙ্কাল চোর চক্রের সদস্য গ্রেপ্তারের একটি সংবাদের মিল পাওয়া যায়। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সংবাদ সম্মেলনের ভিডিও এবং প্রচারিত দাবিটি অভিন্ন ঘটনা থেকে ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়াও গ্রেপ্তারদের নাম ক্রসচেক করে তাদের মধ্যে মোস্তাক নামে কাউকে পাওয়া যায়নি।

 

সুতরাং, “৪৭টি মাথার খু'লি ও কঙ্কালসহ সমন্বয়ক মোস্তাক ও ৩ জন গ্রে'ফ'তার।’’ দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটি ভিন্ন একটি ঘটনার। মানব কঙ্কাল চোর চক্রের সদস্য গ্রেপ্তারের একটি ভিডিওকে ভিন্ন পরিপ্রেক্ষিতে প্রচার করা হচ্ছে এতে।