মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার রাইপুর ইউনিয়ন পরিষদে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিএনপির দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় গাংনী উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলফাজ উদ্দীন কালু সহ উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার দুপুরে রাইপুর ইউনিয়ন পরিষদে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে গাংনী উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলফাজ উদ্দীন কালু (৬০), ও খাইরুল ইসলাম (৪৪) কে আশঙ্কাজনক অবস্থায় কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। রাইপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বকুল হোসেন (৪০), ও রাসেল হোসেন (৪২) কে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যান্যরা স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জুলাই বিপ্লবের পর থেকে রাইপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা গোলাম সাকলায়েন ছেপু ইউনিয়ন পরিষদে প্রবেশ করতে পারেননি। তার অনুপস্থিতিতে প্যানেল চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বিএনপি নেতা সারকিদুল ইসলাম। তবে তার বিরুদ্ধে নানা ধরনের অনিয়মের অভিযোগ করে আসছিল বিএনপির অন্য একটি পক্ষ।
মঙ্গলবার বিএনপি নেতা আলফাজ উদ্দিন কালু আওয়ামী লীগ নেতা গোলাম সাকলায়েনের পক্ষ নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদে আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করে। খবর পেয়ে প্যানেল চেয়ারম্যান সারকিদুল ইসলাম ও তার সমর্থকরা পরিষদে অবস্থান নেয়। পরে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা থেকে সংঘর্ষে ঘটনা ঘটে ।
গাংনী উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলফাজ উদ্দিন কালুর দাবি, প্যানেল চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ভিজিএফের কার্ড বিতরণে অনিয়ম ও সরকারি বরাদ্দের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে ।
এ বিষয়ে রায়পুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান সারকিদুল ইসলাম বলেন, একটি পক্ষ ইউনিয়ন পরিষদে হামলা ও লুটপাটের পরিকল্পনা করছে এমন তথ্য পেয়ে আমরা অবস্থান নিয়েছিলাম।
গাংনী এলঙ্গী ক্যাম্প ইনচার্জ অতুল কুমার বলেন, বর্তমানে এলাকায় পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। সংঘর্ষের খবর পেয়ে সেনাবাহিনী ও পুলিশের টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।