Image description

ফিল্মি স্টাইলে পরপর দু’টি ছিনতাইয়ের ঘটনা সিলেটবাসীকে নাড়া দিয়েছে। এমন ঘটনা নিকট অতীতেও ঘটেনি সিলেটে। একটি নগরের অভিজাত এলাকা হাউজিং এস্টেটে ও অন্যটি সাগরদীঘির পাড়ে। সাগরদীঘির পাড় এক সময়ের ক্রাইম জোন। বিগত সরকারের সময় সাঁড়াশি অভিযানে ওই এলাকার চিহ্নিত অপরাধীরা এলাকা ছেড়ে পালিয়েছিল। তারা এখনো ফিরেনি।

ছিনতাই করলো কারা? আর সাগরদীঘির পাড়ের ছিনতাইকারীরা তো অচেনা। দুটি ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। আঁতকে ওঠার মতো দুটো ঘটনাই। দুটি ঘটনার পর নগরবাসীর মধ্যে ছিনতাইয়ের ভয় বিরাজ করছে। এই অবস্থায় প্রশ্ন উঠেছে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও। অন্ততপক্ষে আসামি তো ধরবে। কিন্তু কোনো ছিনতাইয়ের ঘটনারই আসামি গ্রেপ্তার ধরা হচ্ছে না। এদিকে নগরে পরপর দুটি ভয়ঙ্কর ছিনতাইয়ের ঘটনায় সিলেটের দু’মন্ত্রীর নজর এড়ায়নি। তারা ওয়াকিবহাল হওয়ার পর পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন।

তারা বলছেন; সিলেটের মানুষ নিরাপদে রাখতে পুলিশকে আরও বেশি সক্রিয় হতে হবে। যারা অপরাধী তাদের গ্রেপ্তার করতে হবে। ছিনতাইয়ের ঘটনা রোধে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের নির্দেশ দিয়েছেন শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। গত শুক্রবার দুপুরে দক্ষিণ সুরমায় খোজারখলা মারকাজ জামে মসজিদের অজুখানা ও টয়লেট নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ নির্দেশ দেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ূম চৌধুরী, সিলেট মহানগর বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী ও খোজারখলা পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি আজমল আলী। অনুষ্ঠানে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানান- অল্প কয়েকদিনে সিলেটে দুঃখজনভাবে কয়েকটি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। কোনো কোনোটি দিনের বেলায়ও ঘটেছে। এ ধরনের ঘটনা কোনোভাবে মেনে নেয়া যায় না।

আমি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে স্পষ্টভাবে বলছি- জনগণের প্রত্যাশার বিপরীতে এ ধরনের ঘটনা রোধে যা যা করা দরকার তা করতে যাতে কোনো বিলম্ব করা না হয়। আমরা এ ধরনের আর একটা ঘটনারও পুনরাবৃত্তি দেখতে চাই না। তিনি নির্দেশনা দিয়ে বলেন- সিলেটকে আমরা শান্তির জনপদে পরিণত করতে চাই। তাই এ ধরনের কোনো ঘটনা আমরা সহ্য করবো না। আমি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বলবো যে বা যারাই এ ধরনের ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন।

এদিকে- শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, সিলেটের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির যারা অবনতি ঘটাচ্ছে তাদের কোনোভাবেই ছাড় দেয়া হবে না। আমরা প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছি, ছিনতাইকারীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে। দুপুরে নগরের মির্জাজাঙ্গাল মণিপুরী রাজবাড়ীতে আয়োজিত হোলি উৎসবে প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন- সন্ত্রাস-চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছেন। তাই কোনোভাবেই সিলেটে এসব কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না।

আমরা একটি নিরাপদ সিলেট চাই। তিনি দ্রুতই সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করতে পুলিশ প্রশাসনকে নির্দেশনা দিয়েছেন। মন্ত্রী জানান- সিলেটের প্রশাসনের সঙ্গে ইতিমধ্যে তার কথা হয়েছে। পুলিশ কর্মকর্তারা আসামি গ্রেপ্তারে চেষ্টা চালাচ্ছেন বলে আশ্বস্ত করেছেন বলে উল্লেখ করেন মন্ত্রী। সাগরদীঘির পাড়ের ছিনতাইয়ের ঘটনার ব্যাপারে কোতোয়ালি থানার ওসি খান মোহাম্মদ মাঈনুল জাকির জানিয়েছেন- সাগরদীঘির পাড়ের ঘটনা শোনার পর থেকেই আমি পেছনে লেগে আছি। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। অবশ্যই তাদের ধরা পড়তে হবে। তিনি বলেন- যে নারী আক্রান্ত হয়েছেন তার সঙ্গে আমরা যোগাযোগ করেছি। তিনি জানিয়েছেন- ছিনতাইকারীরা কিছু নিতে পারেনি। তাই তিনি মামলা করবেন না। তবু আমরা ছিনতাইকারীদের ধরতে অভিযান চালাচ্ছি।