Image description

চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে বুধবার (মার্চ) এক সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি এ কথা বলেন। চিফ প্রসিকিউটরের কাছে ওই সাংবাদিকের প্রশ্ন ছিল, নতুন সরকার এসেছে। চিফ প্রসিকিউটর হিসেবে আপনি নতুন দায়িত্ব নিলেন।

শেখ হাসিনাকে ফেরানোর ব্যাপারে আপনার দিক থেকে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে কি না? জবাবে আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা উদ্যোগ নেব। তাকে ফিরিয়ে আনার জন্য আমরা যথাযথ উদ্যোগ নেব।

 

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, তিনি (শেখ হাসিনা) ভারতে আছেন বলে আমরা জানি। তিনি দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন।

তাকে ফেরত আনাটা আইনগত ব্যাপার। নিশ্চয়ই এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

 

আরেক সাংবাদিক বলেন, প্রসিকিউশন তো আগে উদ্যোগ নিয়েছে। সেটার অগ্রগতি কত দূর? আমিনুল ইসলাম বলেন, সেটা (আগের উদ্যোগ) আমি এখনো জানি না।

 

ছাত্র-জনতার তীব্র আন্দোলনে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। এরপর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার সিদ্ধান্ত নেয় জুলাই অভ্যুত্থানে সংঘটিত অপরাধের বিচার হবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে। এই সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করা হয়। ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট সময়ের মধ্যে জুলাই অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের সুনির্দিষ্ট পাঁচ অভিযোগে ‘আনুষ্ঠানিক অভিযোগ’ গঠন করে বিচার চলে শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির। গত বছর ১৭ নভেম্বর মামলার রায় ঘোষণা করেন ট্রাইব্যুনাল।

রায়ে শেখ হাসিনার সঙ্গে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয় সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকেও। আর এ মামলার ‘অ্যাপ্রুভার’ (রাজসাক্ষী) হিসেবে পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে দেওয়া হয় পাঁচ বছরের কারাদণ্ড। এ ছাড়া ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আরো মামলার বিচার চলছে।