Image description

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে এক বিএনপি কর্মীর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে এক আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে। বুধবার (৪ মার্চ) সকাল ৬টার দিকে উপজেলার শিলাইদহ ইউনিয়নের শিলাইদহ বালুঘাটে এ ঘটনা ঘটে।

 

এতে ওসমান কাজী নামে ওই বিএনপি কর্মীর প্রায় চার লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি। এ ছাড়া আরেক বালু ব্যবসায়ী তোফাজ্জেল সরদারের প্রায় ৯০০ ফুট প্লাস্টিকের মোটা পাইপও ভাঙচুর করা হয়েছে। যার বাজারমূল্য প্রায় সাড়ে সাত লাখ টাকা।

 

ভুক্তভোগী বিএনপি কর্মী ওসমান কাজী শিলাইদহ ইউনিয়নের কসবা গ্রামের জাবেদ কাজীর ছেলে। ক্ষতিগ্রস্ত আরেক ব্যবসায়ী তোফাজ্জেল সরদার রাজবাড়ীর পাংশার বাসিন্দা। তিনি প্রায় সাত বছর ধরে ওসমান কাজীর বাড়িতে ভাড়া থেকে নৌকা ও ট্রলার থেকে বালু নামানোর কাজ করছেন।

 

আর অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতা আশরাফ প্রামাণিক শিলাইদহ ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও কসবা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ভাঙচুরের ঘটনা স্বীকার করেছেন। তবে দলীয় পদ ও লুটপাটের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।

 
 

 

এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, শিলাইদহ ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আশরাফ প্রামাণিকের সঙ্গে বিএনপি কর্মী ওসমান কাজীর জমি, আধিপত্য বিস্তার ও সংসদ নির্বাচনে ভোট করা নিয়ে বিরোধ চলছিল। তারা নির্বাচন-পরবর্তী কয়েক দফা সহিংসতায়ও জড়িয়ে পড়েন। এসব ঘটনায় উভয়পক্ষের অন্তত পাঁচটি মামলা থানায় নথিভুক্ত রয়েছে।

 

এসব বিষয় মীমাংসার জন্য বুধবার সকাল ৮টার দিকে গ্রামে সালিশ বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সকাল ৬টার দিকে আওয়ামী লীগ নেতা আশরাফ প্রামাণিক তার লোকজন নিয়ে প্রতিপক্ষের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছেন। এছাড়া ভাড়াটিয়া বালু ব্যবসায়ী তোফাজ্জেল সরকারের অন্তত ৬৫টি পাইপ ভেঙে ফেলা হয়।

 

দুপুরে সরেজমিনে শিলাইদহ গিয়ে দেখা গেছে, পদ্মা নদীর পাড়ে অবস্থিত শিলাইদহ বালুঘাটের ব্যবসায়ী তোফাজ্জেল সরদারের অন্তত ৬৫টি প্লাস্টিকের পাইপ ভাঙা অবস্থায় পড়ে আছে। এ ছাড়া বিএনপি কর্মী ওসমান কাজীর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

 

বুধবারে সকালে শিলাইদহ বালুঘাটে হামলা ও ভাঙচুরের কয়েকটি ভিডিও এসেছে প্রতিবেদকের হাতে। এতে দেখা যায়, অর্ধশতাধিক মানুষের হাতে ঢাল, লাঠিসোঁটাসহ দেশীয় অস্ত্র। তারা একটি ঘর ভাঙচুর করছেন।

 

এ সময় বালু ব্যবসায়ী তোফাজ্জেল সরদার বলেন, ওসমান কাজীর বাড়িতে ভাড়া থেকে প্রায় সাত বছর ধরে বালুর ব্যবসা করছি। আমার কারও সঙ্গে কোনো শত্রুতা নেই। কিন্তু ওসমান কাজীর সঙ্গে আশরাফের বিরোধ আছে আগে থেকেই। সেই শত্রুতার জের ধরে আশরাফ তার লোকজন নিয়ে সকালে প্রথমে কাজীর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং পরে আমার ৬৫টি পাইপ ভাঙচুর করেছে। এতে প্রায় সাড়ে সাত লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। পুলিশ আসছিল, থানায় মামলা করা হবে।

 

বিএনপি কর্মী ওসমান কাজী বলেন, আওয়ামী লীগ নেতা আশরাফ প্রামাণিকের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে জমি ও নদীতে নৌকা ছিদ্র করা নিয়ে বিরোধ চলছে। ইতোপূর্বে একাধিকবার হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় থানায় একাধিক মামলা করা হয়েছে। এরপর গত নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতা আশরাফ জামায়াতের সঙ্গে মিলে ভোট করেছেন। ভোটে জামায়াত জিতে যাওয়ার পর কয়েক দফা হামলা ও লুটপাট করেছেন তারা।

 

তিনি বলেন, এসব ঝামেলা থেকে বাঁচতে আজ সকালে উভয়পক্ষের মধ্যে মীমাংসার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই প্রতিপক্ষের অন্তত অর্ধশতাধিক লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট করেছে।

 

ওসমান কাজী বলেন, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের হিসাবের ঘর ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছে। সিন্দুক ভেঙে অন্তত সাড়ে চার লাখ টাকা লুট করেছে প্রতিপক্ষরা। মিলতাল দরকার নেই, আবারও থানায় মামলা করা হবে।

 

ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলার কথা স্বীকার করেছেন অভিযুক্ত আশরাফ প্রামাণিক। তিনি বলেন, বিশেষ কাজে এলাকার বাইরে আছি। ওসমান কাজী আমার জমি দখল করে বালুর ব্যবসা করছে। সালিশ-বৈঠকেও কাজ হয় না। তাই সকালে জমিতে থাকা ঘর ও পাইপগুলো ভেঙে দেওয়া হয়েছে।

 

এ বিষয়ে কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন বলেন, বালুঘাটে প্রতিপক্ষের হামলার ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।