Image description

সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সাবেক মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান ও তার বোন, একইসঙ্গে তার আইনজীবী নাজনীন নাহারের ব্যাংক হিসাবের যাবতীয় তথ্য চেয়ে ব্যাংকগুলোকে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। 

সম্প্রতি এই চিঠি ব্যাংকগুলোতে পৌছেছে। ব্যাংকগুলোর অভ্যন্তরীণ সূত্র থেকে এ তথ্য জানা যায়।

চিঠিতে বিএফআইইউ উল্লেখ করেছে, এই ব্যক্তিদের যেকোনো ধরনের ব্যাংক লেনদেন, সঞ্চয়পত্র, মেয়াদি আমানতসহ যাবতীয় তথ্য তিন কর্মদিবসের মধ্যে বিএফআইইউকে পাঠাতে হবে।

চিঠিতে জিয়াউল আহসানের স্ত্রী নুসরাত জাহানের নামও উল্লেখ করা হয়। প্রত্যেক ব্যক্তির জাতীয় পরিচয়পত্র ও পাসপোর্ট নম্বরসহ অন্যান্য তথ্যাদী উল্লেখ করা হয়।

জানা গেছে, গত ১ মার্চ বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ গুম-খুনের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার শুনানিকালে মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের রায় না হওয়া পর্যন্ত আসামি হিসেবে তাকে ‘যথাযথ সম্মান’ জানানোর আরজি জানান তার বোন ও আইনজীবী নাজনীন নাহার।

এর পরপরই ব্যাংকগুলোতে চিঠি দিয়ে নাজনীন নাহারের ব্যাংক হিসাবের তথ্য চাওয়া হয়।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ওই বছর ৭ আগষ্ট রাতে ঢাকা ক‍্যন্টনমেন্ট এর বাসার রোডের জিয়ার অফিসিয়াল বাসভবন থেকে ডিজিএফআই তাকে নিয়ে যায়। পরে তাকে নিউমার্কেট থানায় দায়ের করা একটি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয় এবং রিমান্ডে নেওয়া হয়। পরে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর তাকে বিভিন্ন মামলাসহ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মামলাতেও গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

ওই বছরের ১৯ আগস্ট জিয়াউল আহসানের ব্যাংক হিসাব এবং তার স্ত্রী-সন্তান এবং তাদের মালিকানাধীন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবের লেনদেন স্থগিত করে বিএফআইইউ।

গত বছরের ২৪ নভেম্বরে বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবী নাজনীন নাহারের সঙ্গে চিফ প্রসিকিউটরের করা মন্তব্য ও আচরণ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সরগরম হয়ে ওঠে। 

ওই দিন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শুনানির সময় তৎকালীন চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম মামলার আসামি সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের আইনজীবী নাজনীন নাহারকে উদ্দেশ্য করে বলেন,‘আপনি চুপ থাকুন। কথা বলবেন না। আপনাকেও আসামি করা হতে পারে।

বিভিন্ন জায়গা থেকে আপনার বিরুদ্ধে আমরা অভিযোগ পাচ্ছি।’

চব্বিশের গণ অভ্যুত্থানের পরে ৫ সেপ্টেম্বর তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী তাজুল ইসলামকে চিফ প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ দেয়। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে এবং সরকার গঠন করে। এরপরপই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলামকে সরিয়ে দিয়ে আমিনুল ইসলামকে নতুন চিফ প্রসিকিউটর নিয়োগ দেওয়া হয়।

ব্যাংক হিসাব তলবের বিষয়ে জানতে জিয়াউল আহসানের বোন ও তার আইনজীবী নাজনীন নাহারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বাংলানিউজকে বলেন, ‘ব্যাংক হিসাব তলবের বিষয়ে ব্যাংক বা অন্যা কোনো সংস্থা থেকে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়নি। আমি এ বিষয়ে কিছু জানি না।’

জানা গেছে, আইনজীবী নাজনীন নাহারকে কোর্টরুমের মধ্যে হুমকি দেওয়ায় মঙ্গলবার (৩ মার্চ) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বরাবর মৌখিকভাবে অভিযোগ করেন তিনি। বুধবার লিখিত আকারে অভিযোগ দায়ের করেন। কোর্টরুমে প্রবেশ ও প্রস্থানের সময় তাকে যেন হুমকি-ধামকিমূলক কথা না বলা হয় সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আবেদন জানান তিনি।