ইরানের ড্রোন হামলার পর সাইপ্রাসে যুদ্ধজাহাজ ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাঠাচ্ছে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স। আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করছে গ্রিস। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের আগ্রাসন এবং ইরানের পাল্টা আক্রমণের মধ্যে ইউরোপীয় দেশগুলোর পক্ষ থেকে এই সামরিক পদক্ষেপ নেয়া হলো। খবর রয়টার্সের।
যুক্তরাজ্য সরকার জানিয়েছে, তারা সাইপ্রাসে একটি যুদ্ধজাহাজ ও হেলিকপ্টার পাঠাচ্ছে। ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, ব্রিটিশ নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ এইচএমএস ড্রাগন পূর্ব ভূমধ্যসাগরে মোতায়েন করা হচ্ছে। এর সঙ্গে দুটি অগাস্টাওয়েস্টল্যান্ড এডাব্লিউ১৫৯ ওয়াইল্ডক্যাট হেলিকপ্টারও পাঠানো হচ্ছে, যাতে সাইপ্রাসকে ড্রোন হামলা থেকে সুরক্ষা দিতে সহায়তা করা যায়।
এই যুদ্ধজাহাজটি টাইপ-৪৫ শ্রেণির এয়ার ডিফেন্স ডেস্ট্রয়ার। এতে সি ভাইপার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা রয়েছে, যা খুব অল্প সময়ের মধ্যে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ ও নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার সামাজিক মাধ্যমে জানিয়েছেন, সাইপ্রাস ও সেখানে অবস্থানরত ব্রিটিশ সেনাদের নিরাপত্তায় যুক্তরাজ্য সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
অন্যদিকে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ফ্রান্সের পারমাণবিক শক্তিচালিত বিমানবাহী রণতরী চার্লস দা গল বাল্টিক সাগর থেকে ভূমধ্যসাগরে মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছেন। এই রণতরীর সঙ্গে এর যুদ্ধবিমান ও ফ্রিগেট জাহাজ থাকবে। তিনি আরও জানিয়েছেন, ইতিমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে রাফাল যুদ্ধবিমান, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং আকাশে নজরদারি রাডার মোতায়েন করা হয়েছে।
সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েনের কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, সম্প্রতি সাইপ্রাসে একটি ব্রিটিশ বিমানঘাঁটিতে হামলার ঘটনা ঘটেছে। সাইপ্রাস ও ফ্রান্সের মধ্যে কৌশলগত অংশীদারিত্ব চুক্তি রয়েছে। তাই সাইপ্রাসকে সমর্থন দিতে ফ্রান্স অতিরিক্ত আকাশ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও একটি ফ্রিগেট সেখানে পাঠাচ্ছে। এই জাহাজটি সাইপ্রাস উপকূলে পৌঁছাবে বলে তিনি জানান।
আর গ্রিস চারটি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান এবং দুটি ফ্রিগেট পাঠিয়েছে। এর মধ্যে একটি জাহাজে সেন্টোরো অ্যান্টি-ড্রোন জ্যামিং সিস্টেম রয়েছে, যা আগে ইয়েমেন উপকূলে হুথি হামলা ঠেকাতে ব্যবহার করা হয়েছিল। এই সিস্টেম নিচু দিয়ে উড়ে আসা ড্রোন, এমনকি মাটির খুব কাছ দিয়ে বা সমুদ্রপৃষ্ঠ ঘেঁষে চলা ড্রোনও শনাক্ত করে অকার্যকর করতে পারে।
গ্রিসের প্রতিরক্ষামন্ত্রী নিকোস ডেনডিয়াস নিকোসিয়া সফরকালে বলেন, ‘গ্রিস সামরিকভাবে উপস্থিত আছে এবং সাইপ্রাস প্রজাতন্ত্রের প্রতিরক্ষায় যেকোনোভাবে সহায়তা করতে ভবিষ্যতেও উপস্থিত থাকবে।’