কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে চিকিৎসকের অবহেলায় আফরোজা বেগম (৪২) নামে এক প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (২ মার্চ) বিকেলে সদর হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার প্রতিবাদে হাসপাতাল চত্বরে বিক্ষোভ করেন নিহতের স্বজন ও স্থানীয়রা।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে চিকিৎসক ও নার্সরা কর্মবিরতি পালন শুরু করেন।
স্বজনদের অভিযোগ, সোমবার বিকেলে কুড়িগ্রাম শহরতলির হিঙ্গনরায় ডাকবাংলা এলাকার আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী আফরোজা বেগম প্রসবজনিত জটিলতা নিয়ে সদর হাসপাতালে ভর্তি হতে আসেন। এ সময় ভর্তি সংক্রান্ত কাগজপত্রে জটিলতা দেখিয়ে অযথা বিলম্ব করা হয়। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার কারণে রোগীর শারীরিক অবস্থার আরো অবনতি ঘটে।
নিহতের স্বজন আপেয়ারা বেগম, দরদী ও লিলি বেগম অভিযোগ করে বলেন, আমরা রোগী নিয়ে আসার পর দেখি কয়েকজন নার্স মোবাইল ফোনে ব্যস্ত। রোগীর অবস্থা গুরুতর হওয়ায় দ্রুত চিকিৎসার অনুরোধ জানালে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে কাগজপত্রের জটিলতার কথা বলে সময়ক্ষেপণ করেন। প্রায় এক ঘণ্টা পর ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। এরই মধ্যে রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে।
তাদের দাবি, একপর্যায়ে আফরোজা বেগম মারা গেলে পরিস্থিতি সামাল দিতে তার শরীরে স্যালাইন দেওয়া শুরু হয়। প্রতিবাদ জানাতে গেলে ইমারজেন্সি বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক শুভ’র নেতৃত্বে কয়েকজন হাসপাতালকর্মী রোগীর স্বজনদের মারধর করেন বলেও অভিযোগ করেন তারা।
অন্যদিকে, হাসপাতালের ইমারজেন্সি মেডিক্যাল অফিসার শুভ তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ভর্তি ছাড়া চিকিৎসা দেওয়ার নিয়ম নেই। রোগীর স্বজনরা নিয়ম না মেনে চিকিৎসা দেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছিলেন।
ঘটনার পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক নুর নেওয়াজ আহমেদের কার্যালয় সাময়িকভাবে বন্ধ পাওয়া যায়। মোবাইল ফোনে তিনি বলেন, ‘ঘটনায় উভয় পক্ষেরই কিছু অপেশাদার আচরণ ছিল। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করছি।
এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম সিভিল সার্জন ডা. স্বপন কুমার বিশ্বাস বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি এবং আনঅফিশিয়ালি তদন্ত করা হচ্ছে। আগামীকাল খোঁজ-খবর নিয়ে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।