পাবনার ঈশ্বরদীতে দাদিকে হত্যা করে নাতনিকে অপহরণ ও ধর্ষণের ঘটনার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে নিহত সুফিয়া খাতুনের আপন ভাগ্নে মো. শরিফুল ইসলামকে (৩০) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শরিফুল ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন
রবিবার (১ মার্চ) জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ও ঈশ্বরদী থানা পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত শরিফুলকে তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে।
নিহত সুফিয়া খাতুন ঈশ্বরদীর ভবানীপুর উত্তরপাড়া গ্রামের জয়নাল খানের মা ও জামিলা আক্তার সেতু জয়নালের মেয়ে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে পাবনার পুলিশ সুপার আনোয়ার জাহিদ বলেন, ২৭ ফেব্রুয়ারি রাতে সুফিয়া খাতুন ও তার নাতনি সেতু প্রতিদিনের মতো নিজেদের ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন। পরদিন শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে বাড়ির গেটের সামনে সুফিয়া খাতুনের রক্তাক্ত মরদেহ এবং পাশের একটি গমক্ষেতে সেতুর বিবস্ত্র মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পরে পাবনার পুলিশ সুপার মো. আনোয়ার জাহিদের নেতৃত্বে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ঈশ্বরদী সার্কেল) ও ডিবি পুলিশের একটি বিশেষ দল তদন্তে নিশ্চিত হয় যে এ হত্যাকাণ্ডে সুফিয়া খাতুনের আপন ভাগ্নে শরিফুল জড়িত। আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের স্বীকারোক্তিও দেন তিনি।
যেভাবে হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয় :
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার শরিফুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের লোমহর্ষক বর্ণনা দিয়েছেন। তিনি জানান, খালার বাসায় যাতায়াতের সুবাদে ঘাতক শরিফুল খালা সুফিয়া খাতুনের নাতনি জামিলার ওপর তার কুদৃষ্টি পড়েছিল।
এরপর শরিফুল ঘরের ভেতর গিয়ে জামিলাকে জাপটে ধরেন। এ সময় সেতু চিৎকার করলে শরিফুল হাতুড়ি ও বাঁশের বাটাম দিয়ে মাথায় আঘাত করে তাকে অচেতন করে ফেলেন।
পরবর্তীতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি হাতুড়ি, একটি বাঁশের কাঠি, একটি কাঠের বাটাম এবং আসামির ব্যবহৃত একটি বাটন মোবাইল ফোন জব্দ করেছে। এ ঘটনায় ভিকটিম জামিলার ফুফু মোছা. মর্জিনা খাতুন বাদী হয়ে ঈশ্বরদী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন।
পুলিশ সুপার আনোয়ার জাহিদ বলেন, আইনি প্রক্রিয়া শেষে আসামিকে রবিবার বিকেলে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।