মডেল-অভিনেতা জাহের আলভীর স্ত্রী ইভনাথ খান ইকরার মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। ইকরার আত্মহত্যার ঘটনায় বিনোদন অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল মর্গে আজ (১ মার্চ) এই ময়নাতদন্ত হয়। এ সময় মর্গের বাইরে স্বজনদের আহাজারিতে পরিবশে ভারী হয়ে ওঠে।
একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে পাগলপ্রায় ইকরার বাবা আলভী ও তার মায়ের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ এনেছেন। তার দাবি, আলভী ও তার মায়ের প্ররোচনাতেই ইকরা আত্মহননের পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়েছে। ক্ষুব্ধ এই বাবা তার মেয়ের মৃত্যুকে ‘হত্যা’ আখ্যা দিয়ে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছেন।
মেয়ের শোকে পাথর বাবা ক্ষোভ ও কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, সুষ্ঠু বিচার হোক আলভীর। আলভী একটা অসভ্য ছেলে। সে আমার মেয়েকে মেরে ফেলছে। আগে জানতাম না, মনে করতাম সে ভালো। আমার মেয়েও সংসার টেকানোর জন্য আমাদের কাছে কখনো কিছু প্রকাশ করেনি।
মিডিয়ার মানুষদের প্রতি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, আমি বুঝতে পেরেছিলাম এ খারাপ হবে। মিডিয়ার মানুষ ভালো হয় না। এরা অসভ্য, অসভ্য, অসভ্য। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।
ইকরার শিক্ষাজীবনের আক্ষেপ করে তার বাবা জানান, ইকরা অত্যন্ত মেধাবী ছাত্রী ছিল। আমার মেয়ে যখন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পেয়েছে, আলভী তখন একটি প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিতে পড়ে। আমি তখন বলেছিলাম, আলভীর কাছে মেয়ে বিয়ে দেব না। আমি আলভীর মাকে বলেছিলাম, ভাবি আমি আপনার ছেলের সঙ্গে আমার মেয়ে বিয়ে দেব না। আমার মেয়েকে আপনারা ভিক্ষা দেন। কিন্তু তারা মানেনি।
তিনি অভিযোগ করেন, আলভী ও তার মা যোগসাজশ করে তার অল্পবয়সী মেয়েটাকে নিয়ে গিয়ে বিয়ে করায়। ইকরা তখন মাত্র অনার্স প্রথম বর্ষের ছাত্রী ছিল। শুরুতে বিয়ে মেনে না নিলেও একমাত্র সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবে পরে মেনে নিয়েছিলেন এই অসহায় বাবা।
তিনি আরও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এই সুইসাইডের পেছনে আলভীর মা দায়ী। উনি একজন অ্যাবনরমাল মহিলা। আমার মেয়েটা দারুণ স্টুডেন্ট ছিল। ওদের জন্য তার ক্যারিয়ার, লেখাপড়া সব শেষ হয়ে গেল। আমি ভিক্ষা চেয়েছিলাম ওদের কাছে, কিন্তু ওরা দেয় নাই।
২০১০ সালের ৯ নভেম্বর ভালোবেসে গোপনে বিয়ে করেন আলভী-ইকরা। দীর্ঘ ১৪ বছর পর ২০২৪ সালে তাদের বিয়ের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। তাদের সংসারে একটি সন্তান রয়েছে।
দীর্ঘ ১৫ বছরের দাম্পত্য জীবনে স্বামীর পরকীয়া ও অমানুষিক নির্যাতনের অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইকরার ব্যক্তিগত চ্যাট ফাঁস হওয়ার পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।