খামেনির মৃত্যুর পর ইরানে নতুন করে হামলা শুরু করেছে ইসরায়েল। তবে ইরানের দিক থেকে পাল্টা হামলা হলে তার কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রোববার (১ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া এক পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছেন, ‘ইরান আরও কঠোর আঘাতের হুমকি দিয়েছে, তবে তারা যেন সেটি না করে। কারণ, তা না হলে যুক্তরাষ্ট্র এমন শক্তিপ্রয়োগ করবে যা আগে করা হয়নি।’
এদিকে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেন, ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সীমা অতিক্রম করেছেন। তাদেরকে এর মূল্য দিতে হবে।
রয়টার্স জানায়, ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলী লারিজানি বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানকে ভেঙে ফেলার ষড়যন্ত্র করছে।’ বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোকে কঠোর সতর্কবার্তা দেয়ার পাশাপাশি সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর দেশটির রাষ্ট্রীয় কার্যাদি পরিচালনার জন্য অন্তর্বর্তীকালীন একটি নেতৃত্ব পরিষদ গঠন করার কথা জানান তিনি।
এদিকে ইরানি সংবাদ সংস্থা তাসনিম জানায়, দেশটির বিমান বাহিনী ইরাকের উত্তরাঞ্চলের কুর্দি এলাকায় এবং উপসাগরীয় কয়েকটি দেশে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে।
সূত্রের বরাতে রয়টার্স জানায়, খামেনির মৃত্যুর পরও সামরিক কৌশলে কোনো পরিবর্তন আনেনি ইসরায়েল। ইরানের কর্মকর্তা ও দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালানোর সিদ্ধান্তে তারা অনড়।
রোববার দুবাই ও কাতারের রাজধানী দোহায় বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। ইরানের পাল্টা হামলার পর আকাশে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধের সাদা ধোঁয়া দেখা যায়। দুবাইয়ের জেবেল আলি বন্দরের ওপর কালো ধোঁয়া উড়তে দেখা গেছে বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম। রয়টার্স জানায়, দুবাইয়ে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ড্রোন ভূপাতিত করার পর তার ধ্বংসাবশেষ পড়ে দুইজন আহত হয়েছেন।
রোববার ভোরে একাধিকবার সাইরেন বেজে ওঠে ইসরায়েলেও। তেল আবিবে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। তবে তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।