ইসরায়েলের পর বাহরাইন, আরব আমিরাত, কুয়েত, কাতার ও সউদী আরবে বিস্ফোরণের পর মধ্যপ্রাচ্যের সব দেশে যাত্রী পরিবহন স্থগিত করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। গতকাল শনিবার বিমানের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) বোসরা ইসলাম এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান। এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে কর্মরত শ্রমিকদের একটি বড় অংশ ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফিরছিলেন। আবার অনেকে নতুন ভিসা নিয়ে প্রথমবারের মতো বিদেশযাত্রার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। ফ্লাইট স্থগিত হওয়ায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কর্মস্থলে যোগদান অনেকটাই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। গতকাল হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অসংখ্য যাত্রীকে ফ্লাইটের জন্য অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। যারা দেশের পথে রওনা দিয়েছিলেন তাদের স্বজনরাও অপেক্ষমান ছিল। পরে বিমানের এক বিজ্ঞপ্তিতে বিমান বন্দরে অপেক্ষা না করতে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত বিমান বন্দরে যেতে নিষেধ করা হয়েছে।
বিমানের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত এবং বাহরাইনে চলমান হামলার কারণে মধ্যপ্রাচ্যের সব ফ্লাইট স্থগিত করা হয়েছে। কিন্তু ঠিক কয়টি ফ্লাইট স্থগিত করা হয়েছে, আবার কখন ফ্লাইট স্বাভাবিক হবে, যাত্রীদের কোথায় রাখা হয়েছে, তার বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি। বোসরা ইসলাম জানান, আজ মিডলইস্ট গামী যেসব ফ্লাইট যথা দাম্মাম, জেদ্দা, মদিনা, রিয়াদ, শারজাহ্, আবুধাবিসহ যেসব গন্তব্যে যাত্রীরা যাত্রা করছিলেন তাদের অনুরোধ করা হচ্ছে, তারা যেন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যতিরেকে এয়ারপোর্টে না আসেন। এ সংক্রান্ত তথ্যের জন্য ১৩৬৩৬ নাম্বারে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানিয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স।
এদিকে হঠাৎ করেই মধ্যপ্রাচ্যগামী সব ফ্লাইট স্থগিত ঘোষণা করায় রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-এ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন শত শত যাত্রী। নির্ধারিত সময়ে বিমানবন্দরে পৌঁছেও ফ্লাইট বাতিল বা স্থগিতের খবর পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রবাসগামী শ্রমিক ও তাদের স্বজনরা। বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন গন্তব্যে ফ্লাইট সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। তবে কবে নাগাদ ফ্লাইট স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো ঘোষণা পাওয়া যায়নি। মিলন নামে দুবাইগামী এক যাত্রী জানান, তার ভিসার মেয়াদ প্রায় শেষের দিকে। দুদিন ফ্লাইট বন্ধ থাকলেই তার ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে। তাতে চাকরি চলে যাবে। এমতবস্থায় তিনি মহাবিপদে পড়েছেন। তার মতো অনেকেই ভিসার মেয়াদ শেষের দিকে। একই সাথে প্রিয়জনদের সাথে আসন্ন ঈদ উদযাপনের জন্য যারা দেশে আসতে চেয়েছিলেন তারাও বিপদে পড়েছেন। কয়েকজন যাত্রী আরও জানান, তারা ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে টিকিট সংগ্রহ করলেও বাতিল বা পুনঃনির্ধারণ সংক্রান্ত সঠিক তথ্য পাচ্ছেন না। জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স-এর একজন কর্মকর্তা বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে যাত্রীদের পুনঃতফসিল অনুযায়ী ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে। যাত্রীদের ধৈর্য্য ধরার আহ্বান জানানো হয়েছে। এদিকে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যাত্রীদের সুবিধার্থে হেল্পডেস্ক চালু করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, হঠাৎ ফ্লাইট স্থগিতের ঘটনায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন নি¤œআয়ের প্রবাসগামী শ্রমিকরা। যথাযথ সমন্বয় ও দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। ফ্লাইট পুনরায় চালুর বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত যাত্রীদের সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্স ও ট্রাভেল এজেন্সির সঙ্গে যোগাযোগ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।