Image description

ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে ভূমিধস বিজয়ের পর ৬০ সদস্যের মন্ত্রিপরিষদ গঠন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ১৭ই ফেব্রুয়ারির শপথ গ্রহণের পর মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিয়ে কাজ শুরু করেছেন এসব মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টারা। নতুন সরকারের এই মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে শুলশান, ধানমণ্ডি, হেয়াররোড, মিন্টুরোড, বেইলি রোডের অন্তত অর্ধশত সরকারি বাংলো বাড়ি- অভিজাত ফ্লাট। জুলাই অভ্যুত্থানে গণভবন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীও উঠছেন হেয়াররোডের রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায়।

সরকারি আবাসন পরিদপ্তর সূত্র বলছে, বেইলি রোড, মিন্টো রোড ও হেয়ার রোড এলাকায় ৪১টি বাংলো বাড়ি ও বাসাকে মন্ত্রীদের জন্য নির্দিষ্ট করে ২০১৩ সালে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছিল। তবে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে সেখানে বিচারপতি ও সাংবিধানিক পদে থাকা ব্যক্তিরা বসবাস শুরু করেন। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর এ সংখ্যা আরও বাড়তে থাকে।

মন্ত্রীদের আবাসন পরিকল্পনার সঙ্গে বাস্তবে ব্যবহারের মিল না থাকায় এলাকাগুলোতে কারা থাকতে পারবেন, সেটি স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করতে গত বছরের ২২শে অক্টোবর আগের সেই প্রজ্ঞাপন বাতিল করে দেয় গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। নতুন করে মন্ত্রীদের জন্য বাড়ি নির্দিষ্ট করে দিতে গত ২রা নভেম্বর সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের পরিচালক মো. আসাদুজ্জামানকে আহ্বায়ক করে সাত সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির প্রতিবেদনে পুরোনো ৪১টির সঙ্গে নতুন করে আরও ৩০টি বাসা যুক্ত করা হয়। নতুন ৩০টি বাসার মধ্যে বেইলি রোডে রয়েছে ১৯টি, গুলশানে ৫টি, ধানমণ্ডিতে ৫টি, মিন্টো রোডে ১টি। মোট ৭১টি বাড়িকে মন্ত্রীদের আবাসনের জন্য নির্দিষ্টকরণের সুপারিশ করা হয়। সেই মতেই বুধবার নতুন সরকারের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীকে বাসা বরাদ্দ দেয়ার কাজ শেষ করেছে সরকারি আবাসন পরিদপ্তর। আর এই তালিকায় রয়েছেন খোদ প্রধানমন্ত্রীও।

গণপূর্ত মন্ত্রণালয় বলছে, রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনাতেই উঠছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সরকারপ্রধানের নিরাপত্তা ও সচিবালয়ে যাতায়াতের সুবিধার্থে রাজধানীর হেয়ার রোডে অবস্থিত যমুনাকে তার সরকারি বাসভবন হিসেবে বেছে নেয়া হয়েছে। সদ্য বিলুপ্ত অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস শুক্রবারে যমুনা ছেড়ে তার নিজ বাসায় ওঠার পর সংস্কার শেষে প্রধানমন্ত্রীর জন্য উপযোগী করে তোলা হবে এই রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন। সব ঠিক থাকলে ঈদের আগে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি ও দলীয় ইফতার মাহাফিল যমুনাতেই অনুষ্ঠিত হবে।

গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরী বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী যমুনায় থাকার অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে নতুন প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন জাতীয় সংসদ ভবন ও শেরেবাংলা নগর এলাকায় দেখা হয়েছিল। কিন্তু সময় স্বল্পতাসহ কয়েকটি কারণে এই দুটি এলাকা আর বিবেচিত হয়নি। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গুলশানে নিজস্ব বাসায় থাকছেন।

তিনি সেখান থেকে আবদুল গণি রোডের সচিবালয় ও তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে যাতায়াত করছেন। সাবেক প্রধান উপদেষ্টা এ মাসেই বাসা ছাড়বেন। কিছু সংস্কার কাজ শেষ হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী যমুনায় উঠবেন। চলতি রমজানে ইফতার অনুষ্ঠান ও আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরে অতিথিদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠান যমুনায় করার অভিপ্রায় জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সে আলোকে দ্রুতই যমুনার সংস্কারকাজ শেষ করা হচ্ছে। তবে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের বাসায় উঠতে কিছুটা সময় লাগবে। কারণ এখনো তাদের বাসাগুলোর কিছু সংস্কার কাজ বাকি আছে। ঈদুল ফিতরের পর মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা বাসায় উঠতে পারবেন। তাদের বাসা বরাদ্দ দেয়ার কাজ শেষ হয়েছে। এখন আনুষ্ঠানিকভাবে নির্দিষ্ট বাসার জন্য চিঠি দেয়া হবে বলেও জানান গণপূর্ত অধিদপ্তরের এই প্রধান প্রকৌশলী।

সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের পরিচালক মো. আসাদুজ্জামান বলেন, মূলত একটা সরকার গিয়ে আরেকটা নতুন সরকার আসলে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের বাসায় উঠতে কিছুটা সময় লাগে। কারণ বাসাগুলোর কিছু সংস্কার করতে হয়। এখন সেই কাজই চলছে। আশা করি ঈদুল ফিতরের পর মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা তাদের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি বাসভবনে উঠতে পারবেন। তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে ৩৫ হেয়ার রোড, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে ২৪ বেইলি রোড, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী হাফিজ উদ্দিন আহমদকে (বীর বিক্রম) ৫ হেয়ার রোড, সমাজকল্যাণমন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেনকে ২৫ বেইলি রোড, ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদকে ৭ মিন্টো রোড, ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনুকে ২ মিন্টো রোড, সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীকে ৫ মিন্টো রোড, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানকে ১ হেয়ার রোড, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানীকে ৬ হেয়ার রোডের বাংলোবাড়ি বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনকে ৩৪ মিন্টো রোড, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামকে ৪১ মিন্টো রোড, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতাকে ১ মিন্টো রোড, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনকে ৪ মিন্টো রোড, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহকে ২ হেয়ার রোডে বাংলোবাড়ি বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। ২৯ নম্বর মিন্টো রোডে অবস্থিত বাংলোবাড়িটি বিরোধীদলীয় নেতার জন্য সংস্কার করা হচ্ছে। এগুলো ছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস ও নজরুল ইসলাম খানকে বেইলি রোডে বাংলোবাড়ি বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে গুলশান, শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীকে গুলশান, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমকে ধানমণ্ডিতে সরকারি বাসা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। আর পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান আগে থেকেই মিন্টো রোডের ৩৩ নম্বর বাংলোতে থাকছেন। ফলে তিনি এই বাড়িতেই থেকে যাচ্ছেন।

আার প্রতিমন্ত্রীদের জন্য হেয়ার রোডে অবস্থিত মিনিস্টার্স অ্যাপার্টমেন্টে বাসা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। হেয়ার রোডে মিনিস্টার্স অ্যাপার্টমেন্ট নামে ৩টি দশতলা ভবন রয়েছে। যেখানে বিচারপতিসহ সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা বসবাস করেন। সেখানকার প্রতিটি ভবনে ১০টি করে ৩০টি ফ্ল্যাট রয়েছে। প্রতিটি ফ্ল্যাট ৫ হাজার স্কয়ার ফুট করে। সেখানেই প্রতিমন্ত্রীদের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে। যমুনার পাশের ২৪ ও ২৫ নম্বর দু’টি বাংলোয় প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তায় নিয়োজিত বাহিনীর কর্মকর্তাদের জন্য বরাদ্দ থাকবে।