Image description

রাজধানীর বাংলা একাডেমি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত অমর একুশে বইমেলা-২০২৬  পাঠক-দর্শনার্থীদের উপস্থিতিতে প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে। 

শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) মেলার দ্বিতীয় দিনে সকাল থেকেই  বইপ্রেমীদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে, বিশেষ করে পরিবার ও শিশুদের অংশগ্রহণ ছিল উল্লেখযোগ্য। 

ছুটির দিনে বেলা ১১টা থেকে শুরু হয়েছে শিশুদের জন্য বিশেষ “শিশুপ্রহর”, যেখানে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক ও পাঠাভ্যাসভিত্তিক কার্যক্রম আয়োজন করা হয়। আয়োজকরা জানান, নতুন প্রজন্মকে বইমুখী করতেই এ আয়োজন। এছাড়াও কাকতাড়ুয়া পাপেট থিয়েটারের ঐতিহ্যবাহী পুতুলনাট্যেরও আয়োজন ছিলো শিশুদের জন্য। 

বাংলা একাডেমির তথ্য অনুযায়ী, এবারের বইমেলায় মোট ৫৪৯টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে ৮১টি এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ৪৬৮টি স্টল বসেছে। প্রথম দিন প্রস্তুতির ব্যস্ততা থাকলেও সপ্তাহান্ত থেকে বিক্রি ও দর্শনার্থী বাড়বে বলে  আশা করছেন  প্রকাশক ও বিক্রেতারা।

কয়েকজন লেখক ও ক্রেতার সাথে কথা বলে আরটিএনএন। তারা অবশ্য মেলার ভিন্ন চিত্র তুলে ধরে বলেন, এবারের বইমেলা নিয়ে প্রকাশকদের মধ্যে ছিলো ভিন্ন প্রতিক্রিয়া। কোন প্রকাশক চেয়েছেন এবার মেলা না হোক আবার বেশিরভাগ প্রকাশকই চেয়েছেন মেলায় অংশগ্রহণ করবে। অবশেষে এই মিশ্র প্রতিক্রিয়ার মধ্যেই এবারের বই মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।  কয়েকজন বিক্রেতা জানায়, এবারের মেলা অন্যান্য বছরের তুলনায় একটু ভিন্ন। বই বিক্রি কম, পাঠকের উপস্থিতি কম, স্টল সংখ্যা কম, প্যাবিলিয়ন নেই সবমিলিয়ে আমেজও তেমন তৈরি হয়নি এখনও। অবশ্য স্টল ফি ফ্রী করে দেওয়ায় তারা কিছুটা স্বস্তিতে আছেন। 
একজন নারী পাঠক মন্তব্য করে বলেন, বই মানুষের পরম বন্ধু, বই মানুষকে বিবেকবান হতে শেখায়। 

এবারের মেলা ঘিরে নিরাপত্তার প্রশ্নে প্রসাশন জানান, মেলায় তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। সিসিটিভি নজরদারি, আর্চওয়ে গেট, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা হয়েছে।  

সংশ্লিষ্টরা জানান,  বইমেলাকে আন্তর্জাতিক রূপ দেওয়ার পরিকল্পনা চলছে।  সরকার বইমেলাকে ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক পরিসরে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনার কথাও ইতোমধ্যে জানিয়েছে। পাশাপাশি পাঠাভ্যাস বৃদ্ধি ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। 

এবারের বই মেলার সময়সূচি অনুযায়ী প্রতিদিন  দুপুর ২টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা থাকবে,শুধু ছুটির দিনে  সকাল ১১টা থেকে খোলা থাকবে। মেলায় প্রবেশ বন্ধ হয়ে যাবে রাত ৮:৩০ মিনিটে।

সব মিলিয়ে ছুটির দিনের আমেজে আজকের বইমেলা ছিল উৎসবমুখর; নতুন বই ঘিরে পাঠক-লেখক-প্রকাশকদের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে পুরো প্রাঙ্গণ।