Image description

কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসা এক মাকে রাস্তায় ফেলে তার কোল থেকে ২৭ দিন বয়সী কন্যা শিশু অপহরণ করে নিয়ে গেছে প্রতারক চক্র। এ ঘটনার ৩২ ঘন্টা পার হলেও শিশুটিকে উদ্ধার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা বৃহস্পতিবার রাতে দেবিদ্বার থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। এর আগে বৃহস্পতিবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মূল ফটকের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী ওই শিশুটির মা আকলিমা আক্তার দেবিদ্বার পৌর এলাকার বিনাইপাড় গ্রামের অটোচালক মো. কামাল হোসেনের স্ত্রী। শিশুটিই তাদের পরিবারে প্রথম সন্তান ছিল।

জানা গেছে, শিশুটির মা আকলিমা আক্তার বৃহস্পতিবার দুপুরে তাঁর কন্যা শিশুকে নিয়ে দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ চিকিৎসার জন্য আসেন। এ সময় প্রতারক চক্রের সদস্যরা তাকে উন্নতমানের হাসপাতালে ভালো ডাক্তার দেখানোর প্রলোভন দেখিয়ে ওই নারীসহ শিশুটিকে একটি সিএনজিতে তুলে শয়তানের নি:শ্বাস শুকিয়ে অজ্ঞান করে ফেলেন।

পরে বিকালে বুড়িচং উপজেলার ময়নামতি সংলগ্ন সাবের বাজার এলাকায় সড়কের পাশে আকলিমাকে অচেতন অবস।থায় ফেলে শিশুটিকে নিয়ে পালিয়ে যায় প্রতারক চক্র। পরে  ওই নারীকে রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখে ৯৯৯ নম্বরে কল করে  খবর দিলে দেবপুর ফাঁড়ির একদল পুলিশ আকলিমাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।

 

 শিশুটির মা আকলিমা আক্তার বলেন, আমার ২৭ দিন বয়সী কন্যা সন্তানকে নিয়ে চিকিৎসা নিতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে যাই।

হাসপাতাল গেটে পৌঁছানোর পর দু-তিনজন লোক এসে সরকারি হাসপাতালে ভালো ডাক্তার নেই অভিজ্ঞ ও ভালো শিশু বিশেষজ্ঞ দেখাতে হলে আপনি আমাদের সাথে ডাক্তারের চেম্বারে আসুন এসব কথা বলে একটি সিএনজিতে তুলে নেয়। পরে আমাকে অজ্ঞান করে ফেলে এরপর আমি আর কিছু বলতে পারব না। 

 

আকলিমার ভাই শাহনুর আলম বলেন, বিকেলে খবর পেয়ে আকলিমাকে উদ্ধার করে দেবিদ্বার হাসপাতালে ভর্তি করাই। কিন্তু ৩২ ঘন্টা পার হলেও শিশুর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) ডা. মো. কবির হোসেন কালের কন্ঠকে বলেন, আমি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরেছি।

কিন্তু এ বিষয়ে কেউ আমাদেরকে অবগত করেনি।

 

দেবিদ্বার থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান  বলেন, আমরা ঘটনার সিসি ক্যামেরা পর্যবেক্ষণ করছি। শিশুটির মাকে উদ্ধার করা গেলেও শিশুটিকে উদ্ধার করা যায়নি। পুলিশের কয়েকটি টিম অপহরণকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।