Image description

নৃশংস হত্যাকাণ্ডে ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন নিহত হন। গত বছর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দিনটিকে ‘জাতীয় শহীদ সেনা দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করে।

প্রধানমন্ত্রীর বাণী

দিবসটি উপলক্ষে বাণী দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সহানুভূতি প্রকাশ করেন।
বাণীতে তিনি বলেন, বিচারাধীন বিষয় নিয়ে মন্তব্যের সুযোগ না থাকলেও পিলখানা হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ববিরোধী তৎপরতা ছিল—এ উপলব্ধি নাগরিকদের থাকা জরুরি। ভবিষ্যতে সশস্ত্র বাহিনীর বিরুদ্ধে যেন আর কোনো ষড়যন্ত্র না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।

বিচারপ্রক্রিয়ার বর্তমান অবস্থা

পিলখানা হত্যাকাণ্ডে দায়ের করা হত্যা মামলার রায়ে ২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর বিচারিক আদালত ১৫২ জনকে মৃত্যুদণ্ড, ১৬০ জনকে যাবজ্জীবন এবং ২৫৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেন। পরবর্তীতে হাইকোর্ট ১৩৯ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন। বর্তমানে মামলাটি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট–এর আপিল বিভাগে চূড়ান্ত নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে।

অন্যদিকে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলাটি এখনও বিচারিক আদালতে বিচারাধীন। এ মামলায় ১২০০ সাক্ষীর মধ্যে প্রায় ৩০০ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. বোরহান উদ্দিন জানিয়েছেন, বিস্ফোরক আইনের মামলায় প্রথমবারের মতো সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগ নেতা জাহাঙ্গীর কবির নানক, ফজলে নূর তাপসসহ একাধিক ব্যক্তিকে আসামি করার প্রক্রিয়া চলছে।

তবে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা বলছেন, দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়ায় পরিবারগুলো ক্লান্ত ও হতাশ। অনেক আসামি দীর্ঘ সময় ধরে কারাবন্দি রয়েছেন এবং জামিন প্রক্রিয়া জটিলতায় আটকে আছে।

স্মরণ ও শপথ

২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারির সেই রক্তাক্ত অধ্যায় দেশের ইতিহাসে এক বেদনাবিধুর দিন হিসেবে চিহ্নিত। নিজ দেশের সুরক্ষিত সামরিক স্থাপনাতেই এতসংখ্যক চৌকস সেনা কর্মকর্তার মৃত্যু জাতিকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছিল।

জাতীয় শহীদ সেনা দিবসে আজ বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হচ্ছে। একইসঙ্গে দেশ ও জনগণের স্বার্থবিরোধী যে কোনো ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন রাষ্ট্রনেতারা।

শীর্ষনিউজ