Image description

সরকারি কর্মকর্তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধির ছুতা দেখিয়ে পরিকল্পনা কমিশনের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) একটি প্রকল্প ঘিরে বিদেশ ভ্রমণের সুযোগ বাড়ানোর পাঁয়তারা চলছে। এর আগে সংশোধনীর মাধ্যমে ব্যয় ও মেয়াদ বৃদ্ধির কারণে ‘ফলাফলভিত্তিক পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন পদ্ধতির কার্যকর ব্যবহারে আইএমইডির সক্ষমতা বৃদ্ধি’ শীর্ষক প্রকল্পটি ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণ বাড়াতে আবারও প্রকল্পটি সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে আইএমইডি। এ নিয়ে নতুন করে শুরু হয়েছে সমালোচনা।

এ প্রকল্পের আওতায় প্রথমে ৪০ কর্মকর্তাকে বিদেশে প্রশিক্ষণে পাঠানো কথা থাকলেও নতুন সংশোধনীতে ৭০ জনকে প্রশিক্ষণে পাঠানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিদেশ ভ্রমণের মাথাপিছু ব্যয় প্রায় আড়াই গুণ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। আগে খরচ ধরা হয়েছিল জনপ্রতি ৪ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। এবার ব্যয় ১০ লাখ টাকার প্রস্তাব করা হয়েছে। বিদেশের পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণেও ব্যয় বাড়ানো হয়েছে অস্বাভাবিক হারে।

মেয়াদ ও ব্যয় বাড়লেও শেষ হয়নি প্রকল্প

পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানিয়েছে, ‘ফলাফলভিত্তিক পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন পদ্ধতির কার্যকর ব্যবহারে আইএমইডির সক্ষমতা বৃদ্ধি’ শীর্ষক প্রকল্পটি ২০২১ সালে ১৪ কোটি ৯১ লাখ ৫৭ হাজার টাকা ব্যয়ে অনুমোদন পায়। পরে এক দফা সংশোধনের মাধ্যমে এক বছর বাড়িয়ে প্রকল্পের মেয়াদ নির্ধারণ করা হয় ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত। একই সঙ্গে প্রায় ১১ কোটি টাকা ব্যয় বাড়িয়ে ২৫ কোটি ৮১ লাখ ৩৪ হাজার টাকা করা হয়।

প্রথম দফায় বর্ধিত মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই সম্প্রতি দ্বিতীয় দফা সংশোধনের প্রস্তাব করা হয়েছে। এবার আরও ১৮ কোটি ১৬ লাখ ৩৯ হাজার টাকা ব্যয় বাড়ানোর পাশাপাশি প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এবারের প্রস্তাব অনুমোদন পেলে মূল অনুমোদিত ব্যয়ের তুলনায় প্রকল্পটির ব্যয় বাড়বে ২৯ কোটি ৬ লাখ টাকা এবং মেয়াদ বাড়বে তিন বছর।

বড় বরাদ্দ বিদেশ ভ্রমণে

প্রকল্পের প্রস্তাব (ডিপিপি) ও সংশোধিত প্রস্তাব (আরডিপিপি) বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ব্যয়ের বড় অংশ বরাদ্দ রাখা হয়েছে বিদেশ ও অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণ, সেমিনার ও কনফারেন্সে অংশগ্রহণের জন্য।

দ্বিতীয় সংশোধনী প্রস্তাবে বিদেশ ও অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণ খাতেই সবচেয়ে বেশি ব্যয় বাড়ানো হয়েছে। ডিপিপির ব্যয় বিভাজন বিশ্লেষণে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রথম অনুমোদিত প্রকল্পে ৪০ কর্মকর্তার বিদেশ প্রশিক্ষণে ব্যয় ধরা হয়েছিল ১ কোটি ৯০ লাখ টাকা। অর্থাৎ মাথাপিছু ব্যয় ধরা ছিল ৪ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। কিন্তু সংশোধনী প্রস্তাবে ৭০ জনের জন্য খরচ চাওয়া হয়েছে ৭ কোটি টাকা। অর্থাৎ সংখ্যা বেড়েছে ৩০, অথচ খরচ বেড়েছে ৫ কোটি ১০ লাখ টাকা। সে হিসাবে বর্ধিত ৩০ জনের প্রতিজনের পেছনে খরচ ধরা হয়েছে ১৭ লাখ টাকা।

৭০ জনের গড় হিসাব করলে মাথাপিছু খরচ হবে ১০ লাখ টাকা। শুরুতে যেখানে একজন কর্মকর্তার জন্য ব্যয় ধরা হয়েছিল ৪ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। নতুন প্রস্তাবে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত খরচের আবদার করা হয়েছে। এতে প্রতিজনের পেছনে খরচ বাড়বে ৫ লাখ ২৫ হাজার টাকা।

ব্যয় বাড়ানোর প্রস্তাবেও অসঙ্গতি

বিদেশ প্রশিক্ষণের ব্যয় পর্যালোচনায় দেখা গেছে, কয়েকটি ব্যাচে ভাগ হয়ে প্রশিক্ষণে যাবেন কর্মকর্তারা। মাথাপিছু একক দর হিসাবে ১০ লাখ টাকা করে হিসাব দেওয়া হলেও অসঙ্গতি দেখা গেছে ব্যাচভিত্তিক ব্যয় বিভাজনে। একই ধরনের প্রশিক্ষণের জন্য একাধিক ব্যাচে ভিন্ন ভিন্ন ব্যয় দেখানো হলেও এ বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা রাখা হয়নি প্রস্তাবে। প্রশিক্ষণের বিষয় ও সময়কাল প্রায় অভিন্ন হলেও ব্যয়ের অঙ্কে তারতম্য রয়েছে।

প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ব্যবস্থাপনা ও ফলাফলভিত্তিক প্রকল্প পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিতে থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন, দক্ষিণ কোরিয়া বা ভিয়েতনামের মতো দেশ নির্বাচন করা হয়েছে। ওই সব দেশে নবম ও দশম গ্রেডের তদূর্ধ্ব সরকারি কর্মকর্তারা সাত দিনের জন্য প্রশিক্ষণ নিতে যাবেন। যে ৭০ কর্মকর্তাকে প্রশিক্ষণে পাঠানোর প্রস্তাব করা হয়েছে, তাদের মধ্যে আইএমইডির ৫০ জন এবং বাকি ২০ কর্মকর্তা অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের।

এ ছাড়া প্রশিক্ষণের জন্য কর্মকর্তা নির্বাচনের প্রস্তাব নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। আইএমইডির একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে এশিয়া পোস্টকে বলেন, প্রকল্পের নাম ‘ফলাফলভিত্তিক পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন পদ্ধতির কার্যকর ব্যবহারে আইএমইডির সক্ষমতা বৃদ্ধি’, অর্থাৎ আইএমইডির কর্মকর্তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য এ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। বাস্তবায়নকারী সংস্থাও আইএমইডি। কিন্তু এ প্রকল্পের আওতায় অন্য মন্ত্রণালয়ের ২০ কর্মকর্তা কেন বিদেশে যাবেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আইএমইডির কর্মকর্তারা।

অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণ, গবেষণা ও পরিবহন খাতেও অসঙ্গতি

নতুন প্রস্তাবে বিদেশের পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণেও ব্যয় বেড়েছে অস্বাভাবিক হারে। প্রথম প্রস্তাবে ৮২৫ জনের অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণের ব্যয় ধরা হয়েছিল ২ কোটি ৩০ লাখ টাকা। সংশোধনী প্রস্তাবে ১ হাজার ৪৮৫ জনের জন্য খরচ ধরা হয়েছে ১১ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। এতে প্রশিক্ষণার্থীর সংখ্যা বেড়েছে ৬৬০ জন, কিন্তু খরচ বেড়েছে ৯ কোটি ২৪ লাখ টাকা। তাতে মাথাপিছু ব্যয় ২৭ হাজার ৮৭৮ থেকে বেড়ে দাঁড়াচ্ছে ৭৭ হাজার ৭১০ টাকা। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী মাথাপিছু খরচ বাড়ানো হয়েছে প্রায় ৫০ হাজার টাকা।

গবেষণা খাতেও একই চিত্র। প্রথমে একটি গবেষণার জন্য ৪০ লাখ ব্যয় ধরা হলেও সংশোধনী প্রস্তাবে দুটি গবেষণার জন্য খরচ ধরা হয়েছে ২ কোটি ১০ লাখ টাকা। অর্থাৎ প্রতি গবেষণায় অতিরিক্ত ৬৫ লাখ টাকা করে ব্যয় বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

অসঙ্গতি দেখা গেছে পরিবহনের ক্ষেত্রেও। প্রকল্পের আওতায় গাড়ি ভাড়ার জন্য যে ব্যয় ধরা হয়েছে, তা বাস্তবতার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। নথি অনুযায়ী, ছয়টি জিপ গাড়ির জন্য মাসিক প্রতিটি ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা এবং প্রতি মাইক্রোবাসের জন্য মাসিক ২ লাখ টাকা করে মোট ৭টি গাড়িতে ব্যয় দেখানো হয়েছে প্রায় ১১ কোটি ৩৭ লাখ ৮ হাজার টাকা। যদিও প্রথমে ৮টি গাড়ির ভাড়া বাবদ খরচ ধরা ছিল ৯ কোটি ৯৭ লাখ টাকা। সংশোধনী প্রস্তাবে গাড়ির সংখ্যা কমলেও খরচ বাড়নো হয়েছে ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা।

প্রকল্প-সংশ্লিষ্টদের মতে, শুধু যানবাহন ভাড়াতেই এ পরিমাণ ব্যয় প্রকল্পের সামগ্রিক ব্যয়ের একটি বড় অংশ দখল করে নেবে, যা উন্নয়ন প্রকল্পের স্বাভাবিক কাঠামোর সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। সাধারণত এ ধরনের ব্যয় প্রশাসনিক সহায়ক হিসেবে সীমিত থাকার কথা। কিন্তু এখানে তা প্রকল্প ব্যয়ের একটি ভারী খাতে পরিণত হয়েছে। বাজারদরের তুলনায় ভাড়ার হার বেশি হওয়া, প্রকল্পের মেয়াদজুড়ে নিয়মিত ভাড়া পরিশোধের ফলে স্থায়ী কোনো সরকারি সম্পদ তৈরি না হওয়া এবং বিদ্যমান সরকারি যানবাহন বা বিকল্প ব্যবস্থার সম্ভাবনা বিবেচনায় না নেওয়ায় পুরো বিষয়টি সামগ্রিকভাবে অপচয় ও অদক্ষ ব্যয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন আইএমইডির কর্মকর্তারাই।

প্রকল্পের পরতে পরতে প্রশ্ন

আইএমইডির এই প্রকল্পটি শুরু থেকেই প্রশ্নবিদ্ধ বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনা কমিশনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা। প্রকল্পের প্রথম প্রস্তাব পর্যালোচনার পর মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভায় বিভিন্ন খাত নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। পিইসি সভায় ব্যয় কমানো, জনবল হ্রাস, বিদেশ প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন অঙ্গভিত্তিক ব্যয় যৌক্তিকভাবে পুনর্নির্ধারণ, আউটসোর্সিং ও প্রশিক্ষণ খাতে ব্যয় কমানোর সুপারিশ করা হয়েছিল। তারপরও সংশোধনী প্রস্তাবে বিদেশে প্রশিক্ষণ খাতে বড় ব্যয় বহাল রাখা হয়েছে।

কমিশন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, আলোচ্য প্রকল্প বাস্তবায়নে পুরো অর্থই সরকারি তহবিল থেকে ব্যয়ের প্রস্তাব করা হয়েছে। কিন্তু ব্যয় বৃদ্ধির বিপরীতে প্রকল্প আউটপুট কতটা বাড়ছে সে বিষয়ে কোনো সুস্পষ্ট মূল্যায়ন নেই।

পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তারা আরও বলছেন, সরকার একদিকে ব্যয় সংকোচন, মিতব্যয়িতা ও অপ্রয়োজনীয় বিদেশ সফর কমানোর ঘোষণা দিচ্ছে। অন্যদিকে একই সময়ে সরকারি প্রকল্পে বিদেশ ভ্রমণ ও প্রশিক্ষণ খাতে ব্যয় কয়েক গুণ বাড়ানোর প্রস্তাব আসছে। একই প্রকল্পে বারবার সংশোধনের মাধ্যমে বিদেশ ভ্রমণ, প্রশিক্ষণ, গবেষণা ও গাড়ি ভাড়া খাতে ব্যয় বাড়ানোর উদ্যোগ কতটা যুক্তিসংগত তা নিয়ে বিশ্লেষণ হওয়া জরুরি।

প্রকল্প পরিচালক অসঙ্গতি দেখছেন না

সংশোধনী প্রস্তাবের অসঙ্গতি নিয়ে কথা হয় ‘ফলাফলভিত্তিক পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন পদ্ধতির কার্যকর ব্যবহারে আইএমইডির সক্ষমতা বৃদ্ধি’ শীর্ষক প্রকল্পের পরিচালক মোহম্মদ মিজানুর রহমানের সঙ্গে। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) এশিয়া পোস্টকে তিনি বলেন, এখনো কাউকে বিদেশে প্রশিক্ষণের জন্য পাঠানো হয়নি এবং এ খাতে এখনো কোনো খরচ হয়নি। প্রাথমিকভাবে নেদারল্যান্ডসসহ ইউরোপের কয়েকটি দেশে প্রশিক্ষণে পাঠানোর কথা ভাবা হয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত ব্যয়ে ওই দেশগুলোতে কার্যক্রম বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। তাই প্রস্তাবটি পুনর্বিবেচনা করা হয়।

তিনি আরও বলেন, পরবর্তীতে পরিকল্পনা কমিশনে সর্বশেষ একটি ডিপিপি অনুমোদন পায়। সেখানে ভিয়েতনামসহ অনুরূপ কয়েকটি দেশের ব্যয়-কাঠামো বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে যে পরিমাণ ব্যয় প্রয়োজন, সেটা পর্যালোচনা করে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া ব্যয়ের সঙ্গে অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ হারে আইটি সংক্রান্ত সংযোজন রাখা হয়েছে। এগুলো বিভাগীয় পর্যায়ে যাচাই-বাছাই করা হবে।

সংশোধনী প্রস্তাবে ৩০ কর্মকর্তার সংখ্যা বাড়ানোর বিষয়ে জানতে চাইলে প্রকল্প পরিচালক কোনো বক্তব্য না দিয়ে বিষয়টি এড়িয়ে যান।

অদক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন বিশেষজ্ঞ

প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়টি অবগত করে এ ব্যাপারে মতামত জানতে চাওয়া হয় পরিকল্পনা বিভাগের সাবেক সচিব মো. মামুন আল রশিদের সঙ্গে। এশিয়া পোস্টকে তিনি বলেন, যারা (আইএমইডি) দেশের সব প্রকল্প মূল্যায়ন করবে, তারা নিজেরাই যদি এ রকম একটি ছোট প্রকল্প বারবার সংশোধন করে, তাহলে প্রশ্ন থেকে যায়, তারা হাজার হাজার কোটি টাকার বিশাল প্রকল্প কীভাবে দক্ষতার সঙ্গে মূল্যায়ন করবে?

ব্যয় বৃদ্ধির ব্যাপারেও একই প্রশ্ন উঠবে মন্তব্য করে সাবেক এই সচিব আরও বলেন, আইএমইডি কেন আগে সঠিকভাবে প্রাক্কলন করতে পারল না? এটা অদক্ষতার পরিচয় বহন করে। ছোট একটি প্রকল্প। এমন তো নয় যে, গত দুই-তিন বছরে বিদেশে এসব খরচ হঠাৎ বেড়ে গেছে, তা নয়। কিন্তু তারপরও কেন এটি হয়েছে?

যদিও এ প্রকল্প দেশের অর্থনীতিতে বিরাট কোনো প্রভাব ফেলবে না বলেই মনে করেন মামুন আল রশিদ। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি একটি ছোট প্রকল্প। তবে তাদের (আইএমইডি কর্মকর্তাদের) নিজেদের দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। আবার যদি এসব সফরে গিয়ে তারা প্রকল্প মূল্যায়ন ও বাস্তবায়নপ্রক্রিয়া দেখে শিখে আসতে পারেন, তাহলে সেটি ইতিবাচক হতে পারে। কিন্তু সামগ্রিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে, এমন প্রকল্প এটি নয়।