Image description

আগামী ১২ মার্চ বৃহস্পতিবার বসছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন। প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি ওই দিন সংসদ অধিবেশন আহ্বান করবেন। অধিবেশনের শুরুতেই আগামী পাঁচ বছরের জন্য নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করা হবে। প্রথম অধিবেশন হওয়ায় সংসদ শুরুর দিন রেওয়াজ অনুযায়ী ভাষণ দেবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।

তবে সংসদের প্রথম অধিবেশনের শুরুতে কে সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন, তা নিয়ে সৃষ্ট ধূম্রজাল এখনো কাটেনি। স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে রাষ্ট্রপতির মনোনীত কেউ ত্রয়োদশ সংসদ অধিবেশনে শুরুর সময় সভাপতির আসনে বসতে পারেন বলে আভাস পাওয়া গেছে।

রবিবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সুস্বাস্থ্যের বাংলাদেশ গঠন বিষয়ক সভা শেষে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বৈঠকে সংসদ কবে বসতে পারে সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। রাষ্ট্রপতির সংসদ অধিবেশন আহ্বানের যে প্রজ্ঞাপন, সেটা যেদিন সেশন হবে তার কমপক্ষে ১৫ দিন আগে প্রজ্ঞাপন করতে হয়। এই সামারিটা জাতীয় সংসদ সচিবালয় থেকে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর হয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে যাবে। রাষ্ট্রপতি সেটা অনুমোদন করে সংসদ অধিবেশন আহ্বান করবেন। সেইমতে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শক্রমেই সংসদ অধিবেশন আহ্বান করবেন রাষ্ট্রপতি। সেটা নির্ধারণ হয়েছে, মার্চের ১২ তারিখে সংসদ অধিবেশন আহ্বান করা হবে।

তিনি বলেন, প্রথম অধিবেশনে কী কী কর্মসূচি থাকবে, কার্যসূচি, দিনের কার্যসূচি সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। যেমন সেই অধিবেশনে স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হবে এবং অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে যে সমস্ত অধ্যাদেশ প্রণয়ন করা হয়েছে সেগুলো উপস্থাপন করা হবে। শোক প্রস্তাব হবে প্রথা মাফিক এবং রাষ্ট্রপতির ভাষণ হবে। আর অন্যান্য যে সমস্ত বিষয় থাকবে সেগুলো পার্লামেন্টের  নিয়মিত কর্মসূচি।  
সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদের ২ উপধারা অনুযায়ী, জাতীয় নির্বাচনের ফলাফলের সরকারি গেজেট প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশন আহ্বান করতে হবে। অধিবেশনটি ডাকবেন রাষ্ট্রপতি, তবে তিনি প্রধানমন্ত্রীর লিখিত পরামর্শ অনুযায়ী তা করবেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল সরকারিভাবে গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয় গত ১৪ ফেব্রুয়ারি। সে হিসাব অনুযায়ী আগামী ১৬ মার্চের মধ্যে সংসদের প্রথম অধিবেশন বসার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সেকারণেই আগামী ১২ মার্চে এ অধিবেশন বসছে। সংসদ সচিবালয় এই লক্ষ্য সামনে রেখেই প্রস্তুতি শুরু করেছে।

জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের একাধিক কর্মকর্তা জানান, শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের পর থেকে সংসদ অধিবেশনের প্রস্তুতি শুরু করেছে সংসদ সচিবালয়। ইতোমধ্যে সংসদ ভবনের ভেতর ও বাইরে পরিচ্ছন্নতা, রক্ষণাবেক্ষণ, প্রয়োজনীয়

সংস্কার ও অবকাঠামোগত প্রস্তুতি কাজ শেষ হয়েছে। অধিবেশনের জন্য অধিবেশনকক্ষ ও সেখানকার সাউন্ড সিস্টেম প্রস্তুত করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রটোকল, নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করতে সচিবালয়ের বিভিন্ন দপ্তর ও শাখা প্রস্তুত করা হচ্ছে।

সংসদের আইন শাখা থেকে অধিবেশন আহ্বান করতে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ নিয়ে দ্রুতই রাষ্ট্রপতির দপ্তরে ফাইল পাঠানো হবে। ঈদের আগে অধিবেশন শুরু হলেও বিরতি দিয়ে এই অধিবেশন এপ্রিল পর্যন্ত চলতে পারে। অধিবেশনের শুরুতে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করা হবে। তবে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে স্পিকার নির্বাচন অনুষ্ঠানে কে সভাপতিত্ব করবেন তা এখনো নিশ্চিত নয়।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, প্রথম অধিবেশনে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে কে প্রথম অধিবেশন পরিচালনা করবেন, তার কোনো বিধান সংবিধানে নেই। তবে জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী প্রথম অধিবেশন পরিচালনার জন্য রাষ্ট্রপতি কাউকে মনোনীত করতে পারেন। অথবা সাংবিধানিক শূন্যতা এড়াতে সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের কাছে রাষ্ট্রপতি পরামর্শ চাইতে পারেন। এভাবে আগামী ১৫ মার্চের আগে আহূত অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি মনোনীত ব্যক্তি সংসদ অধিবেশন পরিচালনার দায়িত্ব পেতে পারেন।