Image description

ইফতারের ভিন্নধর্মী ও অভিজাত আয়োজন নিয়ে আলাদা পরিচিতি গড়ে তুলেছে বেইলি রোড। এখানে ঐতিহ্যের সঙ্গে মিশেছে আধুনিক রুচি ও পরিবেশনা। শুরু থেকেই উৎসবমুখর হয়ে উঠেছে বেইলি রোডের ইফতার বাজার। পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, বৈচিত্র্যময় খাবার এবং স্বাদের সুনামের কারণে দূর-দূরান্ত থেকে ক্রেতারা ছুটে আসছেন এখানে। বিকাল গড়াতেই স্থায়ী ও অস্থায়ী দোকানগুলোতে জমে ওঠে ভিড়।

সরজমিন গতকাল ঘুরে দেখা যায়, আসরের আগ থেকেই বিক্রেতারা তাদের বাহারি ইফতারির পসরা সাজাতে শুরু করেন। ভোজ্য তেলে আর মসলার ঘ্রাণে পুরো এলাকা নানা পদের ইফতারির সুগন্ধে মেতে ওঠে। নানা পদের কাবাব, শাহী গরুর হালিম, শাহী জিলাপি, স্পাইসি চিকেন, ফালুদা, দই বড়া, ফিরনি, পরোটা, রোল, কাটলেটসহ নানা পদের ইফতারি দোকানের সামনে সাজিয়ে ক্রেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন। তবে খাবারের ‘আকাশছোঁয়া’ দাম নিয়ে সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে কিছুটা মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। মধ্যবিত্তের নাগালে ছোলা-পিয়াজু থাকলেও স্পেশাল আইটেমগুলোর দাম সাধারণের নাগালের বাইরে।

বেইলি রোডে আকর্ষণের কেন্দ্রে রয়েছে গরুর শাহী হালিম ও গুড়ের চিকন জিলাপি। গুড়ের জিলাপি কেজিপ্রতি ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা এবং শাহী জিলাপি ৫০০ থেকে ৬৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিফ চাপের প্লেট মিলছে ২৮০ থেকে ৩০০ টাকায়। এ ছাড়া রেশমি কাবাব, চিকেন কাঠি, পনির সমুচা, চিকেন টেংরি কাবাব, হারিয়ালি কাবাব, বিফ কিমা ও বোম্বে জিলাপিও রয়েছে ক্রেতাদের পছন্দের তালিকায়। ‘বেইলি পিঠাঘর’-এ প্রায় ৩০ ধরনের পিঠার পাশাপাশি পাওয়া যাচ্ছে রেশমি ও বোম্বে জিলাপি, বিফ ও মাটন হালিম। এখানে শাহী হালিমের দাম ৩০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত।

বিভিন্ন দোকান ঘুরে দেখা যায়, চিকেন পরোটা বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা, ডিমের চপ ৩০ টাকা (প্রতি পিস), ছোলা ১৫০ টাকা কেজি, জিলাপি ২৩০ টাকা প্রতি কেজি এবং হালিম ৪০০ টাকা কেজি দরে। পিয়াজু, বেগুনি ও আলুর চপ প্রতি পিস ১০ টাকা। এ ছাড়া, চিকেন আচারি কাবাব ৩৪০ টাকা, হারিয়ালি কাবাব ৩৫০ টাকা, চিকেন টিক্কা কাবাব ৩২০ টাকা, লাল বাদশা ২০০ টাকা এবং ফালুদা প্রতি বাটি ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। হালিম পাত্রের আকারভেদে ৬০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত রাখা হয়েছে।

অন্যদিকে, বুমারস্‌-এর ইফতার বাজারে রয়েছে দেশি চানা মসলা, কাশ্মীরি নান, তান্দুরি চিকেন ও থাই ফ্রাইড চিকেনের সমারোহ। এগুলো কিনতে ক্রেতাদের খরচ করতে হচ্ছে ৩০০ টাকার উপরে।

বেইলি রোডের জনপ্রিয় প্রতিষ্ঠান ‘এ ওয়ান ফুড’-এ কিমা পরোটা ১৫০ টাকা, ওয়েস্টার কাবাব ৮০ টাকা, ভেজিটেবল কাটলেট ৫০ টাকা, চিকেন অন্থন ৪০ টাকা, ফিশ বল ৯০ টাকা, জালি কাবাব ৭০ টাকা, চিকেন মালাই কাবাব ১২০ টাকা, বার-বি-কিউ চিকেন রোল ১৬০ টাকা, চিকেন ওনিয়ন রোল ১৫০ টাকা, স্পাইসি চিকেন ও চিকেন ললিপপ ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া, দই বড়া ১৬০ থেকে ২০০ টাকা, ফালুদা ৮০ টাকা, গাজর ফিরনি ৮০ টাকা এবং হালিম ৩০০ থেকে ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

অন্যদিকে, কাচারি বাড়ি ইফতার বাজারে মোরগ পোলাও ২৮০ টাকা, গরুর তেহারি ৩৫০ টাকা, খাসির রেজালা (হাফ কেজি) ১ হাজার ২০০ টাকা ও এক কেজি ২ হাজার ৪০০ টাকা, গরুর লাল ভুনা ১ হাজার ৬০০ টাকা এবং কালা ভুনা ১ হাজার ৭০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া ঘি পরোটা ১০০ টাকা, আলু পরোটা ৮০ টাকা, লেমন মিন্ট ২২০ টাকা ও মহব্বত শরবত ২৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

পল্টন থেকে ইফতারি কিনতে এসেছেন কামাল হোসেন। তিনি বলেন, এখানে শুধু ভাজাপোড়া নয়, আমাদের দেশীয় আইটেমের পাশাপাশি সুলভ মূল্যে কিছু বিদেশি আইটেমও পাওয়া যায়। তা ছাড়া, বেইলি রোডের ইফতার বাজার অনেক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন। তাই এখান থেকে ইফতারি কিনতে এসেছি।

শান্তিনগর এলাকার বাসিন্দা সাকিল রহমান বলেন, এখানে এক এলাকায় বৈচিত্র্যময় খাবার পাওয়া যায়। ইফতারির আলাদা আভিজাত্য রয়েছে, পাশাপাশি এখানে পরিবেশ অনেক পরিষ্কার-পরিছন্ন, তাই এখানে থেকে ইফতারি কিনতে এসেছি। তবে এখানে দাম কিছুটা বেশি রয়েছে। নানা পদের ইফতারির আইটেম থাকলেও বাড়তি দামের কারণে সবাই সবকিছু কিনতে পারে না।

দাম বৃদ্ধির প্রসঙ্গে ডেইলি বার-বি-কিউ’র স্বত্বাধিকারী কাজী হারুন অর রশিদ বলেন, আমাদের কমার্শিয়াল গ্যাস সংযোগ থাকলেও গ্যাসের চাপ খুবই কম। ফলে চড়া দামে সিলিন্ডার গ্যাস কিনে রান্না করতে হচ্ছে। গ্যাসের অতিরিক্ত খরচ সমন্বয় না করলে ব্যবসা চালানো কঠিন।