Image description

Tanzil Rahman

শহীদ মিনারে ফুল দেওয়া ইস্যুতে জামায়াত আবারও কমিউনিকেশনে ফেইল করেছে

জামায়াত দুই ভাবে এই কমিউনিকেশন করতে পারতো-

১. যদি শহীদ মিনারে ফুল দেওয়ায় কোন কনফ্লিক্ট না দেখে তাহলে পরিস্কার ভাবে বলতে পারতো যে ফুল দেওয়ার এই সংস্কৃতিকে আমরা আপন করে নিয়েছি।

২. যদি এটাকে সঠিক মনে না করে শুধু রাষ্ট্রীয় প্রটোকলের স্বার্থে বাধ্য হয়ে করে থাকে, সেই অসহায়ত্বকে পরিস্কারভাবে উল্লেখ করতে পারতো। এতে অন্তত দেশের ৭০ ভাগ মানুষ খুশি হতো।

হ্যাঁ, সেক্ষেত্রে বিতর্কও উঠতো। এই বিতর্ককে এড়ানোর জন্য জামায়াত জাতীয় মসজিদের খতিব এবং হেফাজতের আমীরের কাছে অফিসিয়ালি চিঠি দিয়ে ফতোয়া চাইতে পারতো। সেই ফতোয়ার আলোকে অংশ নিতো অথবা নিতো না। যাই হোক- এতে পুরো প্রক্রিয়ায় একটা স্বচ্ছতা থাকতো।

মাওলানা মওদূদী পাকিস্তান আন্দোলনের সময় বলেছিলেন শুধুমাত্র ইসলামী স্লোগান দিয়ে রাষ্ট্র বানালেই সেটা ইসলামি রাষ্ট্র হয়ে যাবে না। আম গাছ লাগিয়ে সেখান থেকে লিচু আসা করা যায় না৷ এই জন্য যোগ্য ইসলামী নেতৃত্ব গঠনের পদ্ধতি তৈরি করতে হবে।

এই নেতৃত্ব তৈরির জন্য জামায়াত তার নেতা কর্মীদের সিলেবাস তৈরি করে বই পড়ায়, দেশব্যাপী ইসলামী তালিম দেয়, আবার জামায়াতের একটা সাংস্কৃতিক আন্দোলনেরও রূপরেখা আছে। ফলে শহীদ মিনারে ফুল দেওয়ার বিরুদ্ধে শুধু এদেশের আলেমদের ফতোয়া আছে এমনটাই না, জামায়াতের নিজেরও এর বিপরীতে একটা রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক এবং ধর্মীয় অবস্থান ছিলো।

এখন ফুল দেওয়া যেহেতু সরাসরি কুরআন বা হাদীসের দলিলে সুস্পষ্ট হারাম না, তাই আগের অবস্থান সময়ের সাথে পরিবর্তন হতে পারে। সেটা কোন সমস্যা না। আপনি আপনার নীতিমালা রিভাইজও করতে পারেন। কিন্তু আপনি যখন আপনার কথা অনুযায়ী চলবেন না, সেটা সঠিকভাবে কমিউনিকেশন করতে হবে। আপনি আপনার কথা থেকে কি প্রেক্ষিতে সরে আসছেন, কেন সরে আসছেন, কতটুকু সরে আসছেন সেটা পরিস্কার করে বলতে হবে। না বলতে পারলে হতাশা তৈরি হবে, বিদ্রোহ তৈরি হবে।

একটা দলের প্রথম স্টেকহোল্ডার তার নেতা-কর্মীরা, এর পরে জনগণ। জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধির পাবে ভেবে ফুল দেন অথবা তথাকথিত প্রটোকল রক্ষার জন্য দেন, যেটাই হোক না কেন সেটা নিজের নেতা কর্মীদের কাছে আগে পরিস্কার করে তুলে ধরতে হবে।

এই নেতা কর্মীর পরিসরও এখন অনেক বিস্তৃত। আড়াই কোটি মানুষ জামায়াতকে ভোট দিয়েছে।
যারা জামায়াত পছন্দ করে, তার বড় একটা অংশ ইসলামকে ভালোবাসার কারণে করে। এদের সাথে সঠিকভাবে কমিউনিকেশন না করতে পারলে বিএনপির ভোটারদের বিশাল একটা অংশ যেমন জামায়াতে চলে এসেছে, জামায়াতের এই ভোটারদেরও অন্য দলে চলে যেতে সময় লাগবে না।

ভুগিজুগি বুঝানো বা আগের মতো চুপ করে থাকি, দেখি কি হয়- এগুলো বাদ দিয়ে জামায়াতের নেতৃত্বকে আরও পরিস্কারভাবে কমিউনিকেশন করতে হবে।

ক্লোজ ডোর শূরা বৈঠকে পঞ্চাশজনের সামনে জবাবদিহির অভ্যাস থেকে বের হয়ে এসে নেতা-কর্মী এবং জনগণের সাথে জবাবদিহিতা মূলকভাবে কানেক্টেড থাকতে হবে।