Image description

সদ্য বিদায়ী স্বরাষ্ট্র ও কৃষি উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, কে কোথায় যাচ্ছেন, আমি জানি না। নতুন সরকারের সময় আমি দেশেই থাকবো। আপাতত বাহিরে যাওয়ার কোন ইচ্ছে নেই। তবে আমার যে গানম্যান ছিল আর ড্রাইভার ছিল, তারা দুজন বলেছিল- ‘স্যার, আপনি যদি আজকে আমাকে ছেড়ে দেন, তাহলে আমি অন্য কোনো মন্ত্রীর গানম্যান হতে পারব।’ আমি বললাম, ‘তুমি বিসমিল্লাহ বলে চলে যাও। আমার কোনো গানম্যান দরকার নেই।’ যে আমার গাড়িটা চালাত, সে এসে বলল- ‘স্যার, আমাকে যদি আজকে না ছাড়েন, তাহলে অন্য মন্ত্রীর গাড়ি আমি পাব না।’ আমি বললাম, ‘ঠিক আছে, তুমিও চলে যাও ৷আমি একটা জিপ নিয়ে চলে যাবো।’

মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে শেষ কর্ম দিবস ও বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান তিনি। শেষ কর্ম দিবসে তিনি সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন।

 

জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছি। দায়িত্ব পালনের সময় আমার কোনো আত্মীয়-স্বজন ছিল না।

উপদেষ্টা বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ছিলো বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও উৎসবমুখর নির্বাচন। গত পরশুদিন অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা তিন বার টেবিল চাপড়িয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূয়সী প্রশংসা করেন।

 

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দিতে পেরে আমি আনন্দিত। কেননা, জাতীয় নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব থাকে সবচেয়ে বেশি। তিনি এজন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিকট গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
 
তিনি বলেন, আমি জীবনের চতুর্থ কোয়ার্টার অতিবাহিত করছি। উপদেষ্টা বাকি জীবন পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যাতে সুখে-শান্তিতে অতিবাহিত করতে পারেন, সেজন্য উপস্থিত সকলের নিকট দোয়া কামনা করেন।

পরে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকদেরকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, গত দেড় বছরে আমার দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে আপনারা আমার বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও সভায় মিডিয়া কাভারেজ প্রদানের মাধ্যমে জনগণের নিকট আমাদের কার্যক্রম তুলে ধরেছেন, আমাদের ভুলত্রুটিও ধরিয়ে দিয়েছেন- যা আমাদের সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে।

তিনি বলেন, গণমাধ্যমকে রাষ্ট্রের 'চতুর্থ স্তম্ভ' বলা হয়। গণমাধ্যম যেকোনো রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক কাঠামোর এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। বিচার বিভাগ, নির্বাহী বিভাগ এবং আইনসভা—এই তিনটি স্তম্ভের পাশাপাশি গণমাধ্যম সমাজে জবাবদিহিতা এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এসময় উপদেষ্টা ভবিষ্যতেও গণমাধ্যমের এ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা বজায় থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।