Image description

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিদায়ী ভাষণকে ‘উস্কানিমূলক’, ‘টিপ্পানি’ ও ‘হুমকি’ হিসেবে বর্ণনা করে প্রচার করা হয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে।

 

এ সংক্রান্ত ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত কয়েকটি প্রতিবেদন দেখুন এখানে এখানে ও এখানে । তবে যাচাইয়ে দেখা গেছে, তার বক্তব্যে এসম্পর্কিত অংশটি ছিল মূলত অর্থনৈতিক সম্ভাবনার ইঙ্গিত।

 

এদিকে, অন্তর্বর্তী প্রধান উপদেষ্টার বিদায়ী বক্তব্য সম্পর্কিত এনডিটিভি’র প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বিদায়ী ভাষণকে বিদেশে নিজের দৃঢ় অবস্থান প্রদর্শনের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করেছেন। বিশেষ করে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল নিয়ে পরোক্ষ কিন্তু উস্কানিমূলক মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি এটি করেছেন।

 

অপরদিকে বিজনেস টুডে লিখেছে, ২৫ মিনিটের বিদায়ী ভাষণে ইউনূস একটি উস্কানিমূলক বক্তব্য প্রদান করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ তার ‌‘উন্মুক্ত সমুদ্র’ ব্যবহারের মাধ্যমে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় অঞ্চলের জন্য অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরি করে দিতে পারে।

 
 

 

ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়, বিদায়ী ভাষণেও বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন প্রধান মুহাম্মদ ইউনূস ভারতের সংবেদনশীল উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে টেনে এনে ভারতের বিরুদ্ধে তার উস্কানিমূলক বক্তব্য অব্যাহত রেখেছেন।

 

অন্য দিকে, বিদায়ী বক্তব্যের এক পর্যায়ে প্রধান উপদেষ্টা বলতে দেখা যায়, আমাদের খোলা সমুদ্র কেবল ভৌগোলিক সীমারেখা নয়— এটি বাংলাদেশের জন্য বিশ্ব অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত হওয়ার উন্মুক্ত দরজা। নেপাল, ভূটান ও সেভেন সিস্টার্সকে নিয়ে এ অঞ্চলে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে। অর্থনৈতিক অঞ্চল, বাণিজ্যিক চুক্তি ও শুল্কমুক্ত বাজারে প্রবেশের সুযোগের মধ্য দিয়ে এ অঞ্চলে একটি বৈশ্বিক উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে ওঠার শক্তিশালী ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত হবে।
আমাদের বন্দরগুলোর দক্ষতা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নেবার জন্য সেরা আন্তর্জাতিক বন্দর পরিচালনা কোম্পানির সঙ্গে চুক্তির কাজে অনেক এগিয়ে এসেছি। এর দক্ষতা বাড়াতে না পারলে আমরা অর্থনৈতিক অর্জনে পিছিয়ে যাব।

 

এই বক্তব্যে ড. ইউনূস মূলত আঞ্চলিক অর্থনৈতিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে একটি ভৌগোলিক সত্তা হিসেবে ‘সেভেন সিস্টার্স’কে তালিকাভুক্ত করেছেন। এতে হুমকি বা আগ্রাসনের ভাষাগত ইঙ্গিত অনুপস্থিত।