Image description
২০২৮ প্রার্থীর মধ্যে জামানত হারিয়েছেন ১৩৪৭ জন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১ হাজার ৩৪৭ জন প্রার্থী তাদের জামানত বাঁচাতে পারেননি। এবার ২৯৯ আসনে মোট ২ হাজার ২৮ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। সে হিসাবে অন্তত ৬৬ শতাংশেরও বেশি প্রার্থী তাদের জামানত রক্ষা করতে পারেননি। নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত ফল বিশ্লেষণ করে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে দেশের ৫১টি রাজনৈতিক দল অংশ নেয়। দলগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ ২৯১ আসনে প্রার্থী দেয় সরকার গঠন করতে যাওয়া বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি। তবে তাদের কোনো প্রার্থীকেই জামানত হারাতে হয়নি। অন্যদিকে বিরোধী দলের আসনে বসতে যাওয়া বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ২২৯টি আসনে প্রার্থী দেয়। তাদের মধ্যে তিন প্রার্থী নির্দিষ্টসংখ্যক ভোট না পাওয়ায় জামানত হারান। বিগত সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টি এবার ১৯৮ আসনে প্রার্থী দিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। দলটির প্রার্থীদের মধ্যে কেবলমাত্র পাঁচজন তাদের জামানত রক্ষা করতে পেরেছেন। নির্দিষ্টসংখ্যক ভোট না পাওয়ায় বাকি সবাই জামানত হারিয়েছেন। জুলাই অভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা তরুণদের রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৩২টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। তাদের মধ্যে তিনজন জামানত হারিয়েছেন। এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, সিপিবি, বাসদ, নাগরিক ঐক্যসহ বাকি দলগুলোর বেশিরভাগ প্রার্থীই তাদের জামানত রক্ষা করতে পারেননি।

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কর্মকর্তারা জানান, এবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের জামানতের টাকা ২০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৫০ হাজার টাকা করা হয়। প্রার্থীকে জামানত রক্ষা করতে হলে প্রদত্ত ভোটের অন্তত ৮ ভাগের একভাগ পেতে হয়। এ পরিমাণ ভোট না পেলে তার জামানতের টাকা বাজেয়াপ্ত করা হয়। অর্থাৎ তিনি জামানতের টাকা ফেরত পান না।

প্রার্থীর মৃত্যুজনিত কারণে শেরপুর-৩ আসনে নির্বাচন হয়নি। তাই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৯টি আসনে নির্বাচন হয়। আদালতে মামলা থাকায় চট্টগ্রাম-২ ও চট্টগ্রাম-৪ ফল ঘোষণা স্থগিত রয়েছে। বাকি ২৯৭ আসনের মধ্যে বিএনপি ২০৯টি, জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি, স্বতন্ত্র প্রার্থী ৭টি, এনসিপি ৬টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২টি এবং গণসংহতি আন্দোলন, গণঅধিকার পরিষদ, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি-বিজেপি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও খেলাফত মজলিস একটি করে আসনে জয় পেয়েছে।