Image description

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন, এটি নিশ্চিত। কিন্তু মন্ত্রিসভায় কারা আসছেন? মন্ত্রিসভা ছোট হবে নাকি বড়? বিএনপির ভূমিধস বিজয়ের পর সর্বত্রই উচ্চারিত হচ্ছে এ প্রশ্ন।

একে অন্যের সাথে দেখা হলেই জানতে চাচ্ছেন, বিএনপির কারা মন্ত্রী হচ্ছেন? কত সদস্যের মন্ত্রিসভা করা হচ্ছে? প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী কারা হচ্ছেন? বাস্তবতা হচ্ছে মন্ত্রিসভায় কারা থাকছেন তা তারেক রহমান ছাড়া অন্যেরা খুব কমই জানেন। তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী পদে কারা বসছেন তা নিয়ে মনের মাধুরি মিশিয়ে চলছে প্রচারণা। 

তবে সূত্রের দাবি প্রথম দফায় ৩৫ থেকে ৩৮ জনকে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী করা হতে পারে। পরে মন্ত্রিসভার সদস্য সংখ্যা বাড়ানো হবে। বিগত সরকারে বিতর্কিত হয়েছেন এমন নেতাদের মন্ত্রিসভায় জায়গা নাও হতে পারে। নতুন মন্ত্রিসভায় জায়গা পেতে নবনির্বাচিত এমপিদের মধ্যে দৌড়ঝাঁপ ও তদবির চলছে। মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর পাশাপাশি জাতীয় সংসদের স্পিকার-ডিপুটি স্পিকার, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের বিভিন্ন পদে কর্মকর্তা পদের জন্য দীর্ঘ লাইন শুরু হয়ে গেছে। সবাই মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী পদ চাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ-কম গুরুত্বপূর্ণ সব পদের জন্য শুরু হয়েছে প্রতিযোগিতা। দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য ভেঙে নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান বঙ্গভবনের পরিবর্তে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশের ১৪তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি শপথ গ্রহণ করবেন।

দীর্ঘ দুই দশক পর আবারো রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় ফিরছে বিএনপি। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠনের প্রস্তুতি চলছে। সরকার গঠনকে ঘিরে ইতোমধ্যেই দলীয় ও রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে প্রস্তুতি। এর অংশ হিসেবে তারেক রহমান তার ঘনিষ্ঠ আর দলের সিনিয়র নেতাদের সাথে আলোচনা শুরু করেছেন। এবারের মন্ত্রিসভায় দলের সিনিয়র নেতাদের অভিজ্ঞতার পাশাপাশি গুরুত্ব দেয়া হবে নবীনদেরও। ফলে অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের সমন্বয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ মন্ত্রিসভা গঠনের ইঙ্গিত মিলছে। আগামীকাল মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় নতুন মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের স্বাগত জানাতে জাতীয় সংসদ ভবনকে নতুন রূপে প্রস্তুত করা হচ্ছে। আগামীকাল মঙ্গলবার সকালে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজাতেই নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ গ্রহণ করবেন। এরপর বিকেলে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপির নতুন মন্ত্রিসভাও সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় শপথ নেবে বলে সরকারের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন। সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় শপথ অনুষ্ঠানসহ অধিবেশনের প্রস্তুতির কাজ চলছে।

বিএনপি রাজনৈতিক ইতিহাসে সর্বোচ্চ আসন নিয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। আর এ সরকারের প্রধানমন্ত্রী দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান নিজেই হচ্ছেন, এটি নিশ্চিত। পার্টির চেয়াম্যান তারেক রহমানের মন্ত্রিসভার আকার কত বড় হবে এবং কারা থাকছেন? তা নিয়ে দলের অভ্যন্তরে নানা ধরনের আলোচনা চলছে। বাংলাদেশে প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী হতে যাওয়া বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান তার মন্ত্রিসভার আকার ছোট রাখার কথা ভাবছেন। বর্তমানে বাংলাদেশের সরকার কাঠামোতে ৫৮টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ রয়েছে, সেটির সংখ্যা কমিয়ে ত্রিশের নিচে নামিয়ে আনার কথা ভাবছেন। গত ১২ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সরকার গঠন ও রাষ্ট্রাচার অধিশাখা আয়োজনে মন্ত্রিসভার শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান লক্ষ্যে বিভিন্ন কমিটি গঠন করা হয়েছে। নির্বাচনের পর নতুন সরকার মন্ত্রিসভার শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান নির্ধারিত সময় জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় হবে।

গতকাল রোববার সচিবালয়ে আইন, বিচার ও সংসদ-বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেছেন, আগামী মঙ্গলবার সকাল ১০টায় জাতীয় সংসদ ভবনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করানো হবে এবং একই দিন বিকেলে নতুন মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান হবে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে প্রধান নির্বাচন কমিশনার-সিইসি এই শপথ পরিচালনা করবেন বলে তিনি ধারণা করেন। আইন উপদেষ্টা বলেন, সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের পরপরই সকাল সাড়ে ১১টা থেকে দুপুুর ১২টার মধ্যে বিএনপি তাদের সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচন করবে। আইন উপদেষ্টা জানান, ঐতিহ্যগতভাবে বঙ্গভবনে মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠান হলেও এবার তা জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় (সাউথ প্লাজা) বিকেল ৪টায় অনুষ্ঠিত হবে। বিএনপি এই অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছে। আইন উপদেষ্টা বলেন, ‘এখন পর্যন্ত যতটুকু জানি, প্রেসিডেন্ট নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করাবেন।’

তবে এর আগে শপথের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। জাতীয় সংসদের নির্বাচিত ২৯৭ আসনের প্রার্থীদের এ শপথ আগামীকাল মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হবে। ওই দিন সকালে তাদের শপথ পড়াবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন। এদিকে নতুন মন্ত্রিসভায় শপথ পাঠ করাবেন প্রেসিডেন্ট। নতুন সরকারের শপথের মধ্য দিয়ে অবসান ঘটছে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ১৮ মাসের অন্তর্বর্তীকালীন শাসনের।

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের উত্তরসূরি তারেক রহমান এবারই প্রথম নির্বাচনে অংশ নেন। তিনি ঢাকা-১৭ ও বগুড়া-৬ উভয় আসনেই বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন। গত ৩০ ডিসেম্বর বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণের পর ৯ জানুয়ারি তিনি দলের চেয়ারম্যান হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন শেষে গত বছরের ২৫ নভেম্বর দেশে ফেরেন তিনি। ১৯৮৮ সালে বগুড়ার গাবতলী উপজেলা বিএনপির সদস্য হিসেবে তার রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয়েছিল। ১৯৯৩ সালে তৃণমূল রাজনীতিতে গোপন ব্যালটে নেতা নির্বাচনের পদ্ধতি প্রবর্তন করে তিনি চমক সৃষ্টি করেছিলেন। এবার জনগণের সরাসরি ভোটে বিজয়ী হয়ে তিনি দেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী, ঘোষিত ২৯৭টি আসনের মধ্যে ২০৯টি আসনে জয় পেয়েছেন বিএনপির প্রার্থীরা। এর ফলে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ২০ বছর পর আবারো রাষ্ট্রক্ষমতায় যাচ্ছে দলটি। সংবিধান অনুযায়ী, নতুন সরকার গঠনের শুরুটা হবে নবনির্বাচিত সদস্যদের শপথ গ্রহণের মাধ্যমে। সংসদ সদস্যদের সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়োগ করবেন প্রেসিডেন্ট। প্রধানমন্ত্রী শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। এরপর নতুন প্রধানমন্ত্রী তার নেতৃত্বে মন্ত্রিসভা গঠন শুরু করবেন।

নতুন মন্ত্রিসভা কত সদস্যবিশিষ্ট হবে সেটি নির্ধারণ করবে নির্বাচনে বিজয়ী দল। এবারে বাংলাদেশে ইতিহাসে এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে যাচ্ছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বাংলাদেশে এর আগে অনেক সরকার ক্ষমতায় এসে শপথ গ্রহণ করেছে সংসদের ভেতরে, আবার মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ ও নিয়োগ হয়েছে বঙ্গভবনে। এরার তা হচ্ছে প্রকাশ্য জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায়। এই শপথ অনুষ্ঠান একটি ইতিহাস বলে মনে করছেন অনেকেই।

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশের নবনির্বাচিত সরকার শপথ নিতে যাচ্ছে। নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রেফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস বিশ্বের চীন, ভারত, পাকিস্তানসহ ১৩ দেশের সরকারপ্রধানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী দল বিএনপির নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ের নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে সরকার ১৩ দেশের সরকারপ্রধানকে আমন্ত্রণ জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ পর্যন্ত আমন্ত্রিত দেশের তালিকায় রয়েছেÑ চীন, সৌদি আরব, তুরস্ক, ভারত, পাকিস্তান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, মালয়েশিয়া, ব্রুনেই, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, মালদ্বীপ ও ভুটান।

নিয়ম অনুসারে, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের (এমপি) শপথ গ্রহণের পর সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনকারী বিএনপির সংসদীয় বোর্ডের একটি সভা অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে তাদের সংসদীয় নেতা নির্বাচন করা হবে। এরপর দলের নেতা প্রেসিডেন্টের সাথে দেখা করবেন এবং তাকে জানাবেন যে, সংসদে দলটির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে এবং আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগের জন্য আবেদন করবেন। প্রেসিডেন্ট সংসদ নেতাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেবেন, যিনি পরবর্তীতে মন্ত্রিসভার সদস্যদের নির্বাচন করবেন। রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে মো. সাহাবুদ্দিন প্রথমে প্রধানমন্ত্রীকে শপথ পাঠ করাবেন, এরপর মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের শপথ পাঠ করাবেন। সংবিধান অনুসারে, গেজেট প্রকাশের তিন দিনের মধ্যে নির্বাচিত সদস্যদের শপথ গ্রহণ করতে হয়।

বিএনপির দলীয় সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়ন, প্রশাসনে গতি আনা, নীতি-নির্ধারণে নতুন ভাবনা এবং নতুন নেতৃত্ব সৃষ্টি করতেই তরুণদের অন্তর্ভুক্তির ওপর জোর দেয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে দলটির অভ্যন্তরে মন্ত্রিপরিষদ গঠন নিয়ে আলোচনা চলছে। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বিষয়টি দেখভাল করছেন। আজকের মধ্যে বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যাবে। কারা কারা থাকছেন তা আগাম বলা কঠিন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের বলেন, বিএনপির কেমন মন্ত্রিসভা হতে যাচ্ছে, তা দেখার জন্য দেশবাসীকে অল্প সময় অপেক্ষা করতে হবে। এক্ষেত্রে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের দেড় দশকের শাসনামলে যেসব মন্ত্রণালয়কে ভেঙে আলাদা করা হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে বেশ কয়েকটিকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নিয়ে মন্ত্রণালয়ের সংখ্যা কমানোর চিন্তা করা হচ্ছে। এছাড়া একই খাত নিয়ে কাজ করছে এমন কিছু মন্ত্রণালয়কে এক ছাতার নিয়ে আসার বিষয়টিও ভেবে দেখছে বিএনপি। শেষ পর্যন্ত সেটি বাস্তবায়ন করা হলে সড়ক পরিবহন ও রেল একই মন্ত্রণালয়ের আওতায় চলে আসতে পারে বলে জানা যাচ্ছে।

নতুন মন্ত্রিসভায় দুই ডজনের মতো পূর্ণমন্ত্রী থাকতে পারে বলে ধারণা দিয়েছেন বিএনপির সিনিয়র নেতারা। এর বাইরে এক ডজনের মতো উপমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী রাখা হতে পারে বলেও জানিয়েছেন তারা। নতুন মন্ত্রিসভায় আলোচনায় যারা বিএনপির ২০০১-০৬ সরকারের সময়ের বেশ কয়েকজন মন্ত্রীকে এবারের মন্ত্রিপরিষদেও রাখার কথা ভাবছে বিএনপি। এবারের মন্ত্রিসভায় অভিজ্ঞ প্রবীণ নেতাদের পাশাপাশি মেধাবী তরুণদের প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে বলে বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন বিএনপির নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতা। এর মধ্যে তুলনামূলক কম বিতর্কিত ও অতীতে সফলভাবে মন্ত্রণালয় চালিয়েছেন এমন অভিজ্ঞ নেতারা গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে যাচ্ছেন।

অন্যদিকে, অভিজ্ঞতা নেই; কিন্তু মেধাবীÑ এ রকম তরুণ নেতারা পাচ্ছেন উপমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব। বিএনপির সিনিয়র নেতাদের মধ্যে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, অবসরপ্রাপ্ত মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমদ, মির্জা আব্বাস, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এবং দলের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টুসহ আরো বেশ কয়েকজনের নাম আলোচনায় রয়েছে। বিএনপির বিগত সরকারের সময়ে যেসব মন্ত্রণালয় বিতর্কের ঊর্ধ্বে ছিল, পরিচ্ছন্নদের নতুন সরকারের বিভিন্ন দায়িত্বে রাখা হবে। এদের মধ্যে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে আগে মন্ত্রী এবং পরে প্রেসিডেন্ট করা হতে পারে। মন্ত্রণালয়ে স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন, অ্যাডভোকেট শামছুল ইসলাম শিমুল বিশ্বাস, অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেয়া হতে পারে। টেকনোক্র্যাটে মন্ত্রিসভায় স্থান পেতে পারেন বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক প্রফেসর মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ড. জিয়াউদ্দিন হায়দারও। কিন্তু আলোচনায় যাদের নামই থাকুক না কেন, মন্ত্রিসভায় শেষ পর্যন্ত কাদের জায়গা হচ্ছে এবং কে কোন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাচ্ছেন, শপথ অনুষ্ঠানের পরই সেটি পরিষ্কার হয়ে যাবে।

নতুন প্রজন্মের যারা মন্ত্রিপরিষদে আসতে পারেন : নারীদের মধ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান এবং কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ। এছাড়া তরুণ নেতাদের মধ্যে প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী হিসেবে যারা মন্ত্রিসভায় জায়গা পেতে পারেন তাদের মধ্যে আলোচনায় রয়েছেন লক্ষ্মীপুর সদর আসন থেকে বিজয়ী বিএনপি নেতা শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এবং ইশরাক হোসেন। নতুন মন্ত্রিপরিষদে যুক্ত হচ্ছে একাধিক নতুন মুখ। দলের নতুন নেতৃত্ব তৈরি করতে আধুনিক শিক্ষায় উচ্চশিক্ষিত তরুণদের যুক্ত করা হবে। সম্ভাবনাময়ী এমন কয়েক জনকে মন্ত্রিপরিষদে রাখা হচ্ছে। এদের মধ্যে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী, সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান, আলী আজগার লবী, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হক, বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পররাষ্ট্র-বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির আলোচনায় আছেন। সাবেক মেয়র আরিফুর রহমান চৌধুরী, শহীদুল ইসলাম বাবুল, হাবিবুর রশীদ হাবিব, সাঈদ আল নোমানও মন্ত্রিসভায় স্থান পেতে পারেন।

মন্ত্রিপরিষদে থাকবেন যুগপৎ আন্দোলনের শরিকরা : কয়েক বছর আগেই আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দাবি ও যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলগুলো নিয়ে জাতীয় সরকারের ঘোষণা দিয়েছিল বিএনপি। ফলে নতুন মন্ত্রিপরিষদে থাকছেন যুগপৎ আন্দোলনের একাধিক নেতা। দলটির নেতারা বলছেন, দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামে যারা একসাথে ছিল, সরকার গঠন প্রক্রিয়াতেও তাদের অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করা হবে। অংশগ্রহণমূলক ও প্রতিনিধিত্বশীল কাঠামোর মাধ্যমে গণতন্ত্র পুনর্গঠন, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণই হবে এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। এদের মধ্যে রয়েছেÑ বিএনপিতে যোগ দেয়া ড. রেজা কিবরিয়াকে অর্থ মন্ত্রণালয়, জোনায়েদ সাকিকে প্রতিমন্ত্রী, বিএনপিতে যোগ দেয়া ববি হাজ্জাজ, বিজেপির ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ, গণঅধিকার পরিষদের নুরুল হক নুরু ও টেকনোক্র্যাট কোটায় ১২ দলীয় জোট প্রধান ও জাতীয় পার্টি (জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার, মাহমুদুর রহমান মান্নার নামও শোনা যাচ্ছে।

এ বিষয়ে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলা ইনকিলাবকে বলেন, সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আগামী মঙ্গলবার বিকেলে নতুন মন্ত্রিসভার শপথবাক্য পাঠ করাবেন প্রেসিডেন্ট মো. সাহাবুদ্দিন। নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে সকালে সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান হবে। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের দুই দিন পর শনিবার থেকে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি শুরু করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এবং সংসদ সচিবালয়। মন্ত্রিপরিষদ সচিব এম সিরাজ মিয়া শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করবেন।