Image description

১৭ বছর পর দেশে ফিরে গুলশান অ্যাভিনিউয়ের ১৯৬ নম্বর বাড়িতে ওঠেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার দল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তার দল নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করেছে। আগামী মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকালে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় হবে নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠান।

 

প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন ‘গণভবন’ এখন জুলাই স্মৃতি জাদুঘর। তাই সবার মনে প্রশ্ন, প্রধানমন্ত্রী হয়ে তারেক রহমান থাকবেন কোথায়?

 

নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রীর জন্য গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের নেওয়া ‘বিশ্বমানের’ আবাসনের পরিকল্পনা এখনো অসম্পূর্ণ থাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনার সংস্কার হলে আপাতত সেখানেই উঠবেন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে যাওয়া তারেক রহমান।

 

গণপূর্ত অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা বলেছেন, ‘যমুনা প্রস্তুত হতে মাসখানেক সময় লাগবে। এর আগ পর্যন্ত উনি যেখানে আছেন, সেখানেই থাকবেন বলে শুনেছি।’

 
 

 

নতুন প্রধানমন্ত্রীর থাকার ব্যবস্থা কোথায় হচ্ছে, জানতে চাইলে গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান চৌধুরী বলেন, ‘যমুনার সংস্কার এক মাসের ভেতরেই করতে পারব, তবে আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যেখানে বলবেন, সেখানেই আমরা করব। এখনো কোনো নির্দেশনা আমরা পাইনি।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘আপাতত মন্ত্রী মহোদয়দের বাসাগুলো সব রেডি করছি, অফিস রেডি করছি, সচিবালয়ে আমাদের প্রস্তুতি আছে।’

 

এদিকে মিন্টো রোডে অবস্থিত বিরোধী দলীয় নেতার সরকারি বাসভবনও প্রস্তুত করেছে সরকার। হেয়ার রোডে অবস্থিত যমুনার পাশেই ২৯ নম্বর ভবন বিরোধী দলীয় নেতার জন্য নির্ধারিত।

 

যদিও নির্বাচনের আগে জামায়াতে ইসলামের শীর্ষ নেতারা বলেছিলেন, তারা কেউ সরকারি গাড়ি-বাড়ি ব্যবহার করবেন না।

 

 

প্রধানমন্ত্রী হয়ে তারেক রহমান থাকবেন যেখানে

 

 

যমুনায় আগে যারা ছিলেন
বর্তমানে যমুনায় আছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি সেখানে ওঠেন।

 

এর আগে ১৯৯৬ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা বিচারপতি হাবিবুর রহমান এবং ২০০১ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা লতিফুর রহমান তাদের দায়িত্বের দিনগুলো রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যুমনাতেই ছিলেন।

 

২০০৮ সালে এক-এগারোর পটপরিবর্তনের পর সেনা-নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ফখরুদ্দীন আহমেদও এ ভবনেই থেকেছেন।

 

২০২৪ সালের অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা কিছুদিন যমুনায় ২০০৯ সালে তার বাসভবন হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন শেরেবাংলা নগরের গণভবনকে। ৫ আগস্ট তার সরকারের পতনের দিন সেখানে ব্যাপক হামলা-লুটপাট হয়। সেই ভবনকে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ হিসেবে গড়ে তুলেছে অন্তর্বর্তী সরকার।

 

প্রয়াত খালেদা জিয়া যখন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, দুবারই তিনি ছিলেন ঢাকা সেনানিবাসের মঈনুল রোডের ৬ নম্বর বাসায়। শেখ হাসিনা ২০১০ সালে তাকে ওই বাড়ি থেকে উৎখাত করে। পরে তিনি গুলশানে ভাড়া বাসায় ওঠেন।

 

নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের জন্য নতুন করে বাসভবন নির্মাণ করতে আগেই শুরু করেছিল গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। এ জন্য একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছিল। সেই কমিটি নির্বাচিত সরকারের প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের আবাসনের বিষয়ে সুপারিশও জমা দিয়েছে।

 

ওই কমিটি শেরেবাংলা নগরে দুটি স্থান প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন হিসেবে প্রস্তুত করার বিষয়টি বিবেচনা করে। যার একটি হল শেরেবাংলা নগরে সংসদ ভবন এলাকার স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের বাসভবন, আরেকটি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এলাকা।

 

শেষ পর্যন্ত পুরাতন গণভবনের পেছনে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এলাকায় নতুন বাসভবন করার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে প্রধান প্রকৌশলী বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের জন্য একটা নতুন প্রকল্প আমরা রেডি করছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেখার পরে এটা ফাইনাল করব। এটা ইন্টারন্যাশনাল লেভেলের যে কোনো বাসভবনের চেয়ে আমরা ভালো করার চেষ্টা করব।

 

‘এরিয়াটা এখনো ফাইনাল না। আমরা যেটা করেছি, এখন যে জুলাই মিউজিয়াম, তার পিছনে যে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের জায়গা, সেখানে আমরা আপাতত চিন্তা করে রেখেছি। এটা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সিদ্ধান্ত নেবেন।’

 

সূত্র : বিডিনিউজ