ঢাকা-৪ আসনে ভোট দিতে গিয়ে নিজের ভোট আগেই কাস্ট হয়ে গেছে—এমন অভিযোগ করেছেন মোহাম্মদ জনি নামের এক ভোটার। তবে এ ঘটনায় প্রিজাইডিং অফিসার বললেন, ‘ভোট হয়ে গেছে, এখন তো কিছু করার নাই’
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) তিনি সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রে গিয়ে এ ঘটনা ঘটলে গণমাধ্যমে এই অভিযোগ করেন তিনি।
মোহাম্মদ জনি বলেন, ভোট দিতে না পারা মোহাম্মদ জনি বলেন, আমি ঢাকা-৪ আসনের ভোটার এবং পশ্চিম জুরাইন কটন মিল এলাকার বাসিন্দা। ভোট দিতে এসে দেখি, আমার ভোট ইতোমধ্যে কাস্ট হয়ে গেছে। এটা কীভাবে সম্ভব? আমার কাছে ভোটার আইডি কার্ড আছে, আমি উপস্থিত আছি—তারপরও আমার ভোট হয়ে গেছে। এটা কীভাবে সম্ভব বলে আপনারা মনে করেন?
‘আমাকে কেন্দ্রের অফিসাররা বলেন যে তালিকায় টিক চিহ্ন দেওয়া আছে, অর্থাৎ আমার ভোট হয়ে গেছে। তারা যাচাই করে জানিয়েছেন যে ভোট কাস্টিং সম্পন্ন হয়েছে।’
তিনি বলেন, আমার বাড়ির হোল্ডিং নম্বর ১৪২, পশ্চিম জুরাইন তুলাবাগিচা। আমার নাম মোহাম্মদ জনি। আমার বাবার নাম শেখ তৈনু মোল্লা। আমি মূলত বিক্রমপুরের বাসিন্দা। প্রায় ২৫ বছর আগে এখানে বাড়ি করেছি। আমি দীর্ঘদিন প্রবাসে ছিলাম প্রায় ৪০ বছর প্রবাস জীবন কাটিয়েছি। ৪০ বছর পর আশা করে দেশে এসে একটি ভোট দেওয়ার জন্য এসেছি। কিন্তু নিজের ভোট নিজে দিতে পারলাম না—এটাই আমার সবচেয়ে বড় দুঃখ।
তিনি আরও বলেন, আমি সকালে এখানে এসে প্রথমে স্লিপ সংগ্রহ করি। একবার নয়, তিনবার গেছি। আমাকে কখনো তিন তলায়, কখনো চার তলায় যেতে বলা হয়েছে। একবার স্লিপে ভুল থাকায় নতুন করে স্লিপ নিতে হয়েছে। পরে তিন তলায় গিয়ে জানতে পারি, আমার ভোট হয়ে গেছে। তখন আমি বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলি। তিনি বলেন, ‘আপনার ভোট হয়ে গেছে।’
এদিকে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসের হাতে সংরক্ষিত আইডির ভোটার স্লিপ অনুযায়ী, ওই ব্যক্তির কেন্দ্র নম্বর ৫৪, ঢাকা কটন মিল আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়, চতুর্থ তলা ভবনের তৃতীয় তলা, এলাকা পশ্চিম জুরাইন, ওয়ার্ড নম্বর ৫৪। ভোটার নম্বর ১৪৬৩। নাম মোহাম্মদ জনি। ঠিকানা পশ্চিম জুরাইন, শ্যামপুর, ঢাকা। ভোটার আইডি কার্ডে ঠিকানা উল্লেখ আছে—১৪২, গ্রাম/রাস্তা তুলাবাগিচা, পশ্চিম জুরাইন, ডাকঘর ফরিদাবাদ-১২০৪, শ্যামপুর।
অভিযোগের সত্যতা জানতে চাইলে ঢাকা-৪ আসনের ৫৩ নম্বর কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, আমরা একটি অভিযোগ পেয়েছি জনি মিয়া নামে একজন ভোট দিতে এসেছিলেন। কিন্তু তিনি এসে জানতে পারেন, তার ভোট ইতোমধ্যে হয়ে গেছে। অথচ তিনি ভোট দেননি এবং তার হাতে বা আঙুলে অমোচনীয় কালি বা ভোট-সংশ্লিষ্ট কোনো চিহ্নও আমরা পাইনি। এখন বিষয়টি হচ্ছে—এটি কীভাবে ঘটল বা এই জালিয়াতিটি কীভাবে হলো? প্রথমত, এটি জালিয়াতি হয়েছে কি না, তা প্রমাণসাপেক্ষ। আমাদের লক্ষ্য থাকে যেন ভোটে কোনো জালিয়াতি না হয়।
তিনি আরও বলেন, আমি প্রিজাইডিং অফিসার হিসেবে কেন্দ্রের সার্বিক তদারকি করছিলাম। এমন সময় মোহাম্মদ জনি এসে আমাকে বিষয়টি জানান। আমি তাকে নিয়ে তার নির্ধারিত কক্ষে যাই। সেখানে গিয়ে প্রথমে প্রার্থীদের পোলিং এজেন্টদের তালিকা পরীক্ষা করি। উপস্থিত পাঁচজন পোলিং এজেন্টের প্রত্যেকের তালিকায় তার নামে টিক চিহ্ন দেওয়া ছিল। আমার অফিসিয়াল তালিকাতেও টিক চিহ্ন দিয়ে শনাক্ত করা হয়েছে। অর্থাৎ ভোটটি ইতোমধ্যে কাস্টিং হয়ে গেছে। এখন এ বিষয়ে আইনগতভাবে আমার কিছু করার নেই।
প্রিজাইডিং অফিসার বলেন, তিনি ভোট দিতে পারেননি—এ অভিযোগের প্রেক্ষিতে যদি ব্যক্তিগত কোনো বিভ্রান্তির কথা বলা হয়, সে জায়গা এখানে নেই। কারণ এটি একটি আইনগতভাবে কাস্টিং হওয়া ভোট। অন্য কেউ এসে দাবি করলে তার হাতে সরাসরি কোনো চিহ্ন নাও থাকতে পারে, কিন্তু সংশ্লিষ্ট এনআইডির বিপরীতে ভোট কাস্টিং হয়ে গেছে। বিষয়টি পোলিং এজেন্ট ও আমাদের অফিসিয়ালদের মাধ্যমে নিশ্চিত হয়েছে।