ভোটের সকাল দেখে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে জামায়ায়াতে ইসলামী, ভোট গ্রহণের পুরোটা সময় এই পরিবেশ থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেছে দলটি।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন এবং গণভোট শুরুর পর দুপুরে রাজধানীর মগবাজারে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে সাংবাদিকের সামনে আসেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জোবায়ের।
সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জোবায়ের বলেন, ‘সকালটা আরম্ভ হয়েছে আলহামদুলিল্লাহ, সন্ধ্যাটা যেন আরও সুন্দর হয়। পরে আরেকটা নতুন ডায়মেনশনে যাব, গণনা আরম্ভ হবে। সময় পাস হবে। আমরা দেখতে পাব। আমরা জাতিকে নিয়ে জনগণকে নিয়ে গভীর পর্যবেক্ষণে রেখেছি।’
সার্বিক পরিস্থিতিতে সন্তোষ জানালেও ভোলা-২, কুমিল্লা-৮ ও নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনে জামায়াত সমর্থকদের ওপর হামলা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন এহসানুল মাহবুব। তিনি আরও বলেন, ‘ভোলাতে গতকালও আমাদের ওপর হামলা হয়েছে। আমাদের এজেন্টদের ওপর হামলা হয়েছে। কাগজপত্র রেডি করার সময় তাঁদের কাজ করতে দেওয়া হয়নি। আজও ভোলা-২ আসনে সংঘাত হচ্ছে। কিছু সেন্টারে সন্ত্রাসীরা মারাত্মকভাবে তাণ্ডব করছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে খুব বেশি কার্যকর সহযোগিতা করছে না, এই অভিযোগ আছে। কুমিল্লা-৮ ও হাতিয়াতেও একই ধরনের সমস্যা রয়েছে।’
জুলাই অভ্যুত্থানের পর এই নির্বাচনে বিএনপির প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে আবির্ভূত হয়েছে জামায়াত। তারা ১১–দলীয় ঐক্য গড়ে এই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। প্রচারের পুরোটা সময় বিএনপি-জামায়াত নেতাদের পাল্টাপাল্টি বাক–আক্রমণ চলছিল।
সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের গুরুত্ব তুলে ধরে এহসানুল মাহবুব বলেন, ‘তারা জাতির কাছে কমিটেড। প্রধান উপদেষ্টা গতকালকেও বলেছেন, তাঁরা জাতিকে একটা সুস্থ সুন্দর নির্বাচন উপহার দিতে চান, যেটা ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যতিক্রমধর্মী নির্বাচন হবে। আমরা আশা করছি, তাঁরা তাঁদের কথা রাখবেন এবং সেটার জন্য সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাবেন।’

কিছু সংবাদমাধ্যমের কার্যক্রম নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে জামায়াতের এই নেতা বলেন, ‘আমরা আশ্চর্য হয়ে লক্ষ করেছি কিছু কিছু মিডিয়া খুবই হতাশাব্যঞ্জক রিপোর্ট করেছে। যে মিডিয়াগুলো চব্বিশের (জুলাই অভ্যুত্থান) পরিবর্তনে ভালো ভূমিকা রেখেছেন। কিন্তু কিছু মিডিয়ার ভূমিকা হতাশাব্যঞ্জক ছিল বলে আমি মনে করি। আমরা আশা করব মিডিয়া তার নিরপেক্ষতা, জবাবদিহি ও স্বচ্ছতার জায়গায় অটল থাকবে।’
জামায়াতের আমির শফিকুর রহমানসহ দলের শীর্ষনেতারা ভোট দিয়েছেন বলে সাংবাদিকদের জানানো হয়।
জামায়াত আমির সকালে ভোট দিয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা ছোটখাটো কোনো বিষয় হলে অবশ্যই ইগনোর করব (এড়িয়ে যাব), কিন্তু বড় কোনো বিষয় হলে আমরা ছাড় দেব না। আমাদের যা করা প্রয়োজন, তা-ই করব। কারণ, মানুষের ভোটের অধিকার হারিয়ে যায়, এটা আমরা কোনোভাবেই চাই না।’