‘এই মুহূর্তে বা ব্রেকিং নিউজ বিএনপি নির্বাচন বর্জন করেছে। এই অবৈধ সরকারের অধীনে বাংলাদেশের কোন সুষ্ঠু নির্বাচন হবে বলে আশা নেই। শুভ বুদ্ধির উদয় হোক।’ এমন দাবিতে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক এবং টিকটকে ছড়ানো হয়েছে। এ সম্পর্কিত কয়েকটি পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে এবং এখানে।
তবে এশিয়া পোস্টের যাচাইয়ে দেখা গেছে প্রচারিত ভিডিওটি পুরোনো। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে এমন কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি বিএনপি।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভিডিওটি আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট বেশকিছু প্রোফাইল থেকে পোস্ট করতে দেখা গেছে। যমুনা টেলিভিশনের স্টুডিওতে সংবাদ উপস্থাপনের ৫১ সেকেন্ডের ভিডিওটি ব্যপকভাবে ছড়াতে দেখা গেছে। এতে উপস্থাপক বলছেন, এই সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচনে যাবে না বিএনপি। এই নিয়ে কোনো সংশয়-সন্দেহ নেই সাফ জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বলেছেন, সবার আগে সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে। এতেই প্রমাণ হয় সরকার ইচ্ছে করেই নির্বাচনি ব্যবস্থা ধ্বংস করছে। পল্টনে যৌথসভা শেষে এসব কথা বলেন বিএনপি মহাসচিব।
প্রচারিত ভিডিওটিতে এরপরই মির্জা ফখরুলকে বলতে শোনা যায়, বর্তমানের অবৈধ সরকারের অধীনে বিএনপি কোনো নির্বাচনে যাবে না। এতটুকুর মধ্যে ফাঁকফোঁকর কিছু নাই। এই সরকারকে যেতে হবে, ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে নিরপেক্ষ সরকারের হাতে এবং নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠন করার পরেই তবেই শুধুমাত্র একটা সুষ্ঠু নির্বাচন করার সুযোগ তৈরি হবে, পরিবেশ তৈরি হবে।
এদিকে, ফেসবুকে ‘মুজিব সৈনিক’ নামে একটি প্রোফাইলে ভিডিওটির পোস্টে অন্তত ৫ শতাধিক প্রতিক্রিয়ার পাশাপাশি দেড়হাজার বার শেয়ার হতে দেখা গেছে। এছাড়াও সেখানে ভিডিওটি অন্তত ৭০ হাজারের অধিকবার দেখা হয়েছে।
অন্যদিকে টিকটকে ‘জয় বাংলা ফ্যান পেইজ’ নামে একটি একাউন্ট থেকে ভিডিওটি পোস্ট করা হয়েছে। সেখানে ভিডিওটি ২ হাজারের অধিক বার ভিউ হতে দেখা গেছে।
প্রচারিত ভিডিও এবং ক্যাপশনে ব্যবহৃত কী-ওয়ার্ডের সাথে প্রাসঙ্গিক কী-ওয়ার্ড সার্চ করে বেসরকারী যমুনা টেলিভিশনে ২০২২ সালের ১০ই মে তারিখে হুবহু একটি সংবাদ পাওয়া যায়। যমুনা টেলিভিশনের ইউটিউব চ্যানেলে প্রচারিত ২ মিনিট ৪৯ সেকেন্ডের ভিডিওটির প্রথম ৫১ সেকেন্ড ব্যবহার করে উল্লিখিত দাবিতে ভিডিওটি প্রচার করা হয়েছে।
এছাড়াও এ সম্পর্কিত কী-ওয়ার্ড সার্চ করে সেসময়ের আরও কিছু সংবাদ পাওয়া গেছে। দেখুন এখানে, এখানে এবং এখানে।
উল্লিখিত সময়ে ঢাকা ট্রিবিউনে ‘আওয়ামী লীগের অধীনে কোনো নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে না’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশ করা হয়। এতে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে উদ্ধৃত করে জানানো হয়, ‘বিএনপি মনে করে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াসহ সব রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মুক্তি, সব মামলা প্রত্যাহার, অবৈধ সরকারের পদত্যাগ, সংসদ বাতিল, নিরপেক্ষ-নির্দলীয় সরকারের অধীনে ক্ষমতা হস্তান্তর, নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠন এবং সব দলের অংশগ্রহণ ছাড়া বর্তমানে সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য হবে না।’
সুতরাং, ‘বিএনপি নির্বাচন বর্জন করেছে। এই অবৈধ সরকারের অধীনে বাংলাদেশের কোন সুষ্ঠু নির্বাচন হবে বলে আশা নেই।’ দাবি করে প্রচারিত যমুনা টিভির ভিডিওটি ২০২২ সালের। বর্তমান প্রেক্ষাপটে দাবিটির সাথে ভিডিওটি অপ্রাসঙ্গিক।