বৈচিত্র্যপূর্ণ আসন ঢাকা-১০। আসনটিতে অভিজাত আবাসিক এলাকা, বাণিজ্যিক কেন্দ্র, নামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিল্প এবং শিল্প সংশ্লিষ্ট শ্রমজীবী মানুষের বাস। এই এলাকার প্রধান সমস্যা নিরাপত্তাহীনতা, মাদক, পরিবেশ দূষণ। সব থেকে বেশি ভোগায় যানজট।
ঢাকা-১০ আসন দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ১৪, ১৫, ১৬, ১৭, ১৮, ২২ ও ৫৫ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে। এই আসনের আওতায় রয়েছে ধানমণ্ডি, নিউমার্কেট, কলাবাগান, হাজারীবাগ থানা এবং কামরাঙ্গীরচরের কিছু অংশ। ধানমণ্ডি এলাকার বাসিন্দা এরিক চৌধুরী সনেট। ’২৪ গণ-অভ্যুত্থানে ছিলেন সক্রিয়। তিনি বলেন, আমাদের ধানমণ্ডি জোনের এই মুহূর্তে প্রধান সমস্যা ছিনতাই। আমার এলাকায় আমি স্বাচ্ছন্দ্যে রাতে বের হতে পারি না। অভিজাত এলাকা হওয়ার কারণে অন্য এলাকা থেকে ছিনতাইকারীরা এসে সহজেই ছিনতাই করে চলে যাচ্ছে। ভবিষ্যৎটা সুন্দর হোক। যেই ক্ষমতায় আসুক আমাদের ভোটে আসুক। তবে এই আসনে জাতীয় নির্বাচনের প্রভাব বেশি। প্রার্থীদের থেকে প্রতীক বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। সে হিসেবে ডানপন্থার দল হিসেবে জামায়াত পিছিয়েই আছে। কলাবাগান এলাকার বাসিন্দা শাকিল আহমেদ খানও বলেন, ভোটের লড়াইটা জমজমাট হবে। তবে সার্বিক দিক বিবেচনায় জামায়াত ক্ষমতায় আসতে পারে বলে মত দেন তিনি।
হাজারীবাগ এলাকায় সন্ত্রাসী কার্যক্রমের বাইরে রয়েছে পরিবেশ দূষণের সমস্যা। এই এলাকা দিয়ে বয়ে চলা খালগুলো এখন ময়লার ভাগাড়। এই এলাকার বাসিন্দা ও শিক্ষার্থী সাকিব হাসান বলেন, এই এলাকাগুলো ঢাকার অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করছে। চামড়াকেন্দ্রিক ব্যবসাসহ ছোট মাঝারি নানান পণ্য তৈরি হয়। কিন্তু পরিবেশের জন্য চিন্তার বালাই নেই। শুধুই টাকার চিন্তা। এই এলাকাটি নিয়মতান্ত্রিকভাবে পরিচালনা করা খুবই জরুরি।
এই এলাকায় নির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ১০ জন। তবে টক্কর হবে বিএনপি এবং জামায়াতের মাঝে। এলাকাটিতে বিএনপি’র পক্ষে হাওয়া জোরদার। পিছিয়ে নেই জামায়াতও। প্রচার প্রচারণাসহ জনসংযোগে ব্যস্ত সময় পার করছেন বিএনপি প্রার্থী শেখ রবিউল আলম। পিছিয়ে নেই জামায়াতের প্রার্থী এডভোকেট মো. জমির উদ্দীন সরকারও। দুই প্রার্থীই যাচ্ছেন ভোটারদের দুয়ারে দুয়ারে। এই আসনে আরও লড়াই করছেন, বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির (বিআরপি) প্রার্থী মো. আবু হানিফ হৃদয় (হাতি), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মো. আ. আউয়াল (হাতপাখা), বাংলাদেশ লেবার পার্টির প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ (আনারস), এবি পার্টির প্রার্থী নাসরীন সুলতানা (ঈগল), জাতীয় পার্টির প্রার্থী বহ্নি বেপারী (লাঙ্গল), বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের প্রার্থী মো. আনিছুর রহমান (ছড়ি), আমজনতার দলের প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল হুসাইন (প্রজাপতি) এবং জনতার দলের প্রার্থী মো. জাকির হোসেন (কলম)। এই আসনের মোট ভোটার তিন লাখ ৪৪ হাজার ৬৬০ জন। যার মধ্যে পুরুষ দুই লাখ ৪ হাজার ৬০৪, নারী ভোটার এক লাখ ৮৪ হাজার ৫০ জন ও হিজড়া ৬ জন।
জানতে চাইলে বিএনপি’র প্রার্থী শেখ রবিউল আলম বলেন, আমি ৩৩ বছর রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। সুরাজনীতির মাধ্যমে দেশ গঠনে এখন বিএনপি’র বিকল্প নাই। এই এলাকার জনকল্যাণের জন্য পরীক্ষিত দলের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ চাই। জামায়াতের প্রার্থী মো. জসীম উদ্দীন সরকার বলেন, আমরা মানুষের কাছে যাচ্ছি। তাদের দুুঃখ-কষ্ট বোঝার চেষ্টা করছি এবং আমাদের পরিকল্পনা তুলে ধরছি। সুশৃঙ্খল, দুর্নীতিমুক্ত সমাজের জন্য ভোটাররা দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেবেন আশা করি।