Image description

নির্বাচনের বাকি ৫ দিন। প্রার্থীরা যাচ্ছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে। দিচ্ছেন উন্নয়ন ও সংস্কারের নানা রকম প্রতিশ্রুতি। অন্যান্য দলের মতোই নির্বাচনী মাঠে ব্যস্ত সময় পার করছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পদযাত্রা, পথসভা, উঠান বৈঠক ও ঘরে ঘরে গণসংযোগে নেমেছেন দলটির কেন্দ্রীয় নেতা ও প্রার্থীরা।

জামায়াতসহ ১১ দলের সমঝোতার ভিত্তিতে এনসিপি ৩০ টি আসনে নির্বাচন করছে। এর মধ্যে কিছু আসনে জোট শরিক জামায়াতসহ অন্যান্য দলের পক্ষ থেকে তেমন সহযোগিতা না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন এনসিপি প্রার্থীরা। এতে কিছুটা অখুশিও তারা। কিছু কিছু আসনে আবার এনসিপি প্রার্থীকে জোরালো সমর্থন দিচ্ছেন জোট শরিক দলের নেতাকর্মীরা।

রংপুর-৪ আসনে আখতার হোসেন, পঞ্চগড়-১ আসনে সারজিস আলমের নির্বাচনী এলাকাতে জামায়াত ও এনসিপি’র নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনী মাঠে কাজ করছেন। নেতাকর্মীরা জানান, একমাত্র লক্ষ্য হলো- পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী এই উত্তরাঞ্চলের মানুষ। এখানে সবাই উন্নয়নের গল্প শুনিয়ে গেছেন এতদিন, কাজের কাজ কেউ করেনি। এলাকার উন্নয়নে তাই এবার এই দুই তরুণ নেতৃত্বকে সংসদে দেখতে চান বলেও জানিয়েছেন। 

দ্বিতীয় দফার পদযাত্রায় ময়মনসিংহের ভালুকা, টাঙ্গাইলের ঘাটাইল, সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর, রংপুরের কাউনিয়া, দিনাজপুরের পার্বতীপুর, পঞ্চগড় ও নাটোরসহ বিভিন্ন এলাকায় সফর করেন এনসিপি’র কেন্দ্রীয় নেতারা। তারা শাপলা কলি মার্কায় ভোট চেয়ে সংস্কার, বাংলাদেশপন্থি রাজনীতি এবং স্বৈরাচার ঠেকাতে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেয়ার আহ্বান জানান সাধারণ মানুষকে।

দলটির সূত্র জানায়, মাঠে প্রচারণায় গতি থাকলেও জোট রাজনীতি নিয়ে দলটির ভেতরে ও বাইরে টানাপড়েন রয়েছে। জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের সঙ্গে সমঝোতায় ৩০টি আসনে ছাড় পাওয়ার কথা থাকলেও মাঠের বাস্তবতায় সব জায়গায় তার প্রতিফলন মিলছে না। কয়েকটি আসনে স্থানীয় এনসিপি নেতারা বলছেন, জোটের কারণে যে সাংগঠনিক ও নির্বাচনী সুবিধা পাওয়ার কথা ছিল, বাস্তবে তার পুরোপুরি সুফল পাওয়া যাচ্ছে না।

এরইমধ্যে এনসিপি আসন্ন নির্বাচনের জন্য ৩৬ দফা ইশতেহার ঘোষণা করেছে। এতে ভোটাধিকার বয়স ১৬ বছরে নামিয়ে আনা, আগামী পাঁচ বছরে এক কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টি, চাঁদাবাজি বন্ধ করা এবং এককালীন তহবিল দিয়ে মেধাবীদের দেশে ফেরানোর মতো প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে। সরজমিন উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি পদযাত্রায় দেখা গেছে, এনসিপি’র প্রতি তরুণদের আগ্রহ তুলনামূলক বেশি। তবে অনেক জায়গায় জনসমাগম প্রত্যাশার তুলনায় কম ছিল। ব্যতিক্রম দেখা গেছে রংপুর-৪ ও পঞ্চগড়-১ আসনে, যেখানে নারী-পুরুষ, তরুণ-প্রবীণ সব শ্রেণির মানুষের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো ছিল।

জোটের পক্ষ থেকে ৩০টি আসনে এনসিপিকে ছাড় দেয়ার ঘোষণা এলেও নরসিংদী-২ ও চট্টগ্রাম-৮ আসনে এখনো জামায়াত প্রার্থীরা প্রচারণা চালাচ্ছেন। কাগজে-কলমে একক প্রার্থী থাকলেও মাঠে দুই দলের আলাদা প্রচারণা চলায় স্থানীয় পর্যায়ে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বাড়ছে।

গত ১৫ই জানুয়ারি ১১ দলীয় জোটের সংবাদ সম্মেলন থেকে ৩০টি আসনে এনসিপি’র প্রার্থিতা ঘোষণা করা হয়। পরে ঢাকায় ছয়টিসহ ২৭টি আসনে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করে দলটি। বাকি তিনটি আসন-নরসিংদী-২, চট্টগ্রাম-৮ ও মৌলভীবাজার-৪ চূড়ান্ত করার কথা জানানো হয়। মৌলভীবাজার-৪ আসন উন্মুক্ত রাখা হয়, যেখানে এনসিপি’র পাশাপাশি বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থীও নির্বাচনে লড়াই করছেন।
সূত্র জানায়, অন্তত ১০টি আসনে তাদের অবস্থান ভালো। ঢাকার তিনটি গুরুত্বপূর্ণ আসনে লড়ছেন দলের শীর্ষ তিন নেতা। ঢাকা-১১ আসনে আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, ঢাকা-৮ আসনে মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এবং ঢাকা-১৮ আসনে আরিফুল ইসলাম আদীব। এসব আসনে বিএনপি’র হেভিওয়েট প্রার্থীরা থাকলেও এনসিপি জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী।

ঢাকার বাইরে রংপুর-৪ আসনে আখতার হোসেন, কুমিল্লা-৪ আসনে হাসনাত আবদুল্লাহ, পঞ্চগড়-১ আসনে সারজিস আলম, নোয়াখালী-৬ আসনে আবদুল হান্নান মাসউদ, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে আবদুল্লাহ আল আমিন, কুড়িগ্রাম-২ আসনে আতিকুর রহমান মুজাহিদ এবং দিনাজপুর-৫ আসনে ডা. আবদুল আহাদকে এগিয়ে রাখছে দলটি।

এনসিপি সূত্র বলছে, জোটের সঙ্গে ৩০ আসনে সমঝোতা হলেও মাঠপর্যায়ে কাঙ্ক্ষিত সহায়তা মিলছে না। কয়েকটি আসনে জামায়াতের নেতাকর্মীরা প্রত্যাশিতভাবে পাশে দাঁড়াচ্ছেন না বলেও অভিযোগ রয়েছে। 
এনসিপি’র যুগ্ম আহ্বায়ক ও কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সেক্রেটারি মনিরা শারমিন মানবজমিনকে বলেন, উত্তরাঞ্চলের নির্বাচনী পদযাত্রায় ভালো সাড়া পেয়েছি। খানিকটা দুর্বলতা ও বাস্তবতা মেনে নিয়েই আমাদের প্রার্থীরা মাঠে নেমেছে। সবাই চায় যে এই তরুণ নেতৃত্বদের সংসদে যাওয়া প্রয়োজন। এই উৎসাহ উদ্দীপনা মানুষের মধ্যে দেখেছি। 

তিনি বলেন, জামায়াতসহ যারা আমাদের জোট সঙ্গী তাদের থেকেও সাপোর্ট পাচ্ছি। কিছু কিছু জায়গায় স্থানীয় নেতাকর্মীদের সাপোর্ট পাচ্ছেন না এনসিপির কিছু সংসদ সদস্য প্রার্থী। এই রকম কিছু জটিলতা আমাদের আছে।

এসব বিষয়ে এনসিপি’র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক মাহাবুব আলম মানবজমিনকে বলেন, আগামী সংসদে এনসিপি’র একটি বড় প্রতিনিধিত্ব থাকবে। নির্বাচনী পদযাত্রায় মানুষের সঙ্গে কথা বলে আমাদের সেটাই মনে হয়েছে। শাপলা কলি প্রতীকে ভোট দিয়ে জনগণ তরুণদের সংসদে পাঠাবেন। 
জামায়াতে ইসলামীর তৃণমূলে সহায়তা প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখনও পর্যন্ত সব জায়গায় সহায়তা পাচ্ছেন প্রার্থীরা। স্থানীয় পর্যায়ে দু-একটি জায়গায় স্থানীয় নেতাকর্মীরা একটু কম সহায়তা করছেন। আমরা এটা নিয়ে কাজ করছি।