ঢাকায় ‘জুলাই বীর সম্মাননা’ মঞ্চে ১২০০ শহীদ ও আহত পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল ৫০ হাজার টাকার চেক। প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির সাবেক যুগ্ম মহাসচিব ও চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনে দলীয় প্রার্থী আসলাম চৌধুরী। অনুষ্ঠানের আয়োজক তার একমাত্র কন্যা। চেকে স্বাক্ষরও তার। কিন্তু অনুষ্ঠানের তিন সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও সেই চেক ভাঙাতে গিয়ে বারবার ফিরতে হচ্ছে ব্যাংক থেকে। হিসাবে টাকা না থাকায় একের পর এক চেক বাউন্স হচ্ছে। সবমিলিয়ে ১২০০ জনের জন্য মোট ৬ কোটি টাকার চেক বিতরণ করা হয় ওই অনুষ্ঠানে।
ঢাকায় ঘটা করে সম্মাননা
গত ৭ জানুয়ারি ঢাকার ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে ‘জুলাই বীর সম্মাননা’ প্রদান অনুষ্ঠান হয়। জুলাই আন্দোলনে নিহত, আহত ও ভূমিকা রাখা মোট ১২০০ জনকে ক্রেস্ট ও ৫০ হাজার টাকার চেক দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে চেক তুলে দেন বিএনপির সাবেক যুগ্ম মহাসচিব ও চট্টগ্রাম-৪ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আসলাম চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেএএম সংস্থার চেয়ারম্যান মেহরীন আনহার উজমা। তিনি আসলাম চৌধুরীর একমাত্র কন্যা। জেএএম সংস্থাই অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিগবাতুল্লাহ সিগবাহ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আসলাম চৌধুরী ১২০০ জনকে ৫০ হাজার টাকার চেক তুলে দেওয়ার কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘আমরা আজ প্রাথমিকভাবে আপনাদের পাশে থাকতে পেরে আনন্দিত। আগামীতেও এই ধারা অব্যহত থাকবে। শুধু তাই নয়, আপনাদের কর্মসংস্থান কিভাবে তৈরি করা যায় তা নিয়েও আমরা কাজ করব।’
ব্যাংকে গিয়ে চেক বাউন্স
অনুষ্ঠানের পর চেক নিয়ে ব্যাংকে গেলে উপকারভোগীরা জানতে পারেন, হিসাবে পর্যাপ্ত টাকা নেই। ফলে প্রত্যেকের চেক বাউন্স হয়। চেকে স্বাক্ষর রয়েছে আসলাম চৌধুরীর কন্যা মেহরীন আনহার উজমার।
এ নিয়ে আয়োজকদের পক্ষ থেকে আসলাম চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ১৬ জানুয়ারি ব্যাংকে টাকা জমা দেওয়ার আশ্বাস দেন। কিন্তু ১৮ জানুয়ারি ব্যাংকে গিয়ে দেখা যায়, হিসাবে মাত্র ২০ হাজার টাকা রয়েছে। এরপর থেকে আজ-কাল-পরশু করে সময় নেওয়া হয়। এতে জুলাই যোদ্ধা পরিবারগুলো বারবার ব্যাংকে গিয়ে হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
পরে ২৮ জানুয়ারির মধ্যে টাকা না দিলে আন্দোলনের ডাক দেওয়ার কথা জানানো হলে ৩ ফেব্রুয়ারি টাকা জমা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। সেদিনও ব্যাংকে গিয়ে চেক বাউন্স হয়। সর্বশেষ সবাইকে আবার ব্যাংকে যেতে বলা হয়। কিন্তু সকাল সাড়ে ১০টায় গিয়ে দেখা যায়, হিসাবে মাত্র ১৬ হাজার টাকা রয়েছে।
এ বিষয়ে আসলাম চৌধুরীর বক্তব্য জানতে ‘চট্টগ্রাম প্রতিদিন’-এর পক্ষ থেকে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তার সাড়া পাওয়া যায়নি।
প্রার্থিতা বহাল, ফল স্থগিত
গত মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) চট্টগ্রাম-৪ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বহালের হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে করা লিভ টু আপিল মঞ্জুর করেন আপিল বিভাগ। আদালত বলেন, আসলাম চৌধুরী নির্বাচন করতে পারবেন, তবে আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ফলাফল স্থগিত থাকবে এবং ফল প্রকাশ হবে না।
এর আগে ৩ জানুয়ারি সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা তার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছিলেন। তবে ঋণখেলাপির অভিযোগে নির্বাচন কমিশনে আপিল করা হয়। জামায়াতের প্রার্থী আনোয়ার সিদ্দিকী অভিযোগটি করেন। সংশ্লিষ্ট ব্যাংকও পৃথক আপিল করে।
সম্পদ ও ঋণের হিসাব
চট্টগ্রাম-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী ও দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা লায়ন আসলাম চৌধুরীর স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৪৫৬ কোটি ৯৫ লাখ ৭ হাজার টাকা। তবে অন্য প্রার্থীদের তুলনায় তার ঋণের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। বর্তমানে তার মোট ঋণ প্রায় ১ হাজার ৭০০ কোটি টাকা।
পাঁচটি ব্যাংক ও অন্যান্য খাতে তার ঋণ ৩৫৪ কোটি ৪১ লাখ ৬৩ হাজার ২৬৯ টাকা। এ ছাড়া জামিনদার হিসেবে ঋণ রয়েছে ১ হাজার ৫৯ কোটি টাকা এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পরিচালক হিসেবে ২৮৫ কোটি টাকা।
সম্পদের তুলনায় ঋণের পরিমাণ ২৪ দশমিক ২৫ গুণ বেশি। যদিও হলফনামায় আসলাম চৌধুরী উল্লেখ করেন, এসব ঋণের বড় অংশই জামিনদার ও পরিচালক থাকার কারণে যুক্ত হয়েছে।