নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে তরুণ প্রজন্ম জেগে উঠেছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর ও ঢাকা-১৩ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী আল্লামা মামুনুল হক। তিনি বলেছেন, জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে স্থায়ীভাবে প্রতিষ্ঠিত করতে তরুণ সমাজ এখন দৃঢ়প্রতিজ্ঞ এবং এ শক্তিকেই ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র বিনির্মাণের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ময়মনসিংহ-২ (ফুলপুর-তারাকান্দা) আসনে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য মনোনীত প্রার্থী মুফতি মোহাম্মদুল্লাহর রিকশা প্রতীকের সমর্থনে আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মামুনুল হক বলেন, দীর্ঘদিন ধরে গুন্ডামি, দখলদারিত্ব ও সন্ত্রাসের মাধ্যমে যারা ক্ষমতায় থেকে সাধারণ মানুষের ওপর নির্যাতন চালিয়েছে, তাদের সেই দিন এখন শেষের পথে। যারা এখনও দুর্নীতি ও কালো টাকার জোরে দেশ শোষণের স্বপ্ন দেখছে, সেই স্বপ্ন খুব শিগগিরই দুঃস্বপ্নে পরিণত হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
তিনি আরও বলেন, এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচন শুধু ক্ষমতার হাতবদলের নির্বাচন নয়; এটি দেশের মানুষের ভাগ্য নির্ধারণের নির্বাচন। এই নির্বাচন দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও কালো টাকার বিরুদ্ধে একটি ঐতিহাসিক সংগ্রাম। জনগণ যদি সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে বাংলাদেশ একটি ন্যায়ভিত্তিক ও কল্যাণমূলক রাষ্ট্রে রূপ নিতে পারে।
জনসভায় বক্তারা বলেন, দেশের মানুষ আর শোষণ ও অনিয়মের রাজনীতি দেখতে চায় না। তারা একটি দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও বৈষম্যমুক্ত সমাজ গঠনের প্রত্যাশা করছে। সেই প্রত্যাশা বাস্তবায়নে রিকশা প্রতীকে ভোট দিয়ে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য মনোনীত প্রার্থী মুফতি মোহাম্মদুল্লাহকে বিজয়ী করার আহ্বান জানান বক্তারা।
সভাপতির বক্তব্যে প্রার্থী মুফতি মোহাম্মদুল্লাহ বলেন, জনগণ তাকে আগামী পাঁচ বছরের জন্য দায়িত্ব দিলে তিনি এমন কাজ করে যাবেন, যার সুফল আগামী একশ বছর পর্যন্ত মানুষ স্মরণ করবে। তিনি বলেন, আইনের শাসন নিশ্চিত করা, অপরাধমুক্ত সমাজ গঠন এবং সাধারণ মানুষের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠাই হবে তার প্রধান লক্ষ্য।
তিনি নিজেকে জনগণের সেবক হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ক্ষমতা নয়-সেবা করতেই তিনি রাজনীতিতে এসেছেন। এলাকার উন্নয়ন, শিক্ষা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় তিনি আপসহীনভাবে কাজ করবেন বলেও অঙ্গীকার করেন।
জনসভা শেষে আল্লামা মামুনুল হক ময়মনসিংহ-২ আসনের ভোটারদের উদ্দেশে রিকশা মার্কায় ভোট দিয়ে মুফতি মোহাম্মদ উল্লাহকে বিজয়ী করার আহ্বান জানান এবং বলেন, এই বিজয় শুধু একজন প্রার্থীর নয়, বরং ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশের বিজয় হবে।