Image description
 

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বলেছেন, বিগত ১৬ বছর ভোট দেওয়ার কোনো সুযোগই ছিল না। গণভোটের সুযোগ না থাকলে হয়তো ভোট দিতে যাওয়ার আগ্রহও তৈরি হতো না। আমি মনে করি এটি রক্তের ঋণ। আমি অবশ্যই গণভোটে হ্যাঁ ভোট দেবো। জুলাই বিপ্লবে শহিদদের স্মরণ করে আমাদের করণীয় কাজগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি হলো গণভোটে হ্যাঁ বলা।

 

তিনি বলেন, গণভোটের কোনো দৃশ্যমান মার্কা নেই, কিন্তু আমার মনের গভীরে একটি মার্কা আছে-লাল রঙের, যা আমাদের সন্তানদের রক্তের চিহ্ন। হ্যাঁ ভোট মানেই সেই রক্তের ঋণ শোধ করা।

 

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে অনুষ্ঠিত ‘গণভোট বিষয়ে জনসচেতনতামূলক প্রচার-প্রচারণ’ সংক্রান্ত মতবিনিময় সভায় সভাপতির বক্তব্যে এ কথা বলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. সালেহ্ হাসান নকীব।

উপাচার্য বলেন, সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আসে মানুষের চিন্তায়। লাগামহীন ক্ষমতার চর্চা বাংলাদেশে আর চলতে দেওয়া যাবে না, এই বিষয়টি আমাদের মগজে গেঁথে নিতে হবে। ১২ তারিখের ভোটকে ঘিরে কিছু মানুষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা যাচ্ছে, যারা পুরনো ব্যবস্থায় ফিরতে চায়। তবে সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হবে। আগের পথ ধরে এই রাষ্ট্র আর চলবে না। তরুণ সমাজ এবং সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের ভয় ভেঙে গেছে। তারা এখন আর কোনো কিছুকেই ভয় পায় না।

তিনি আরো বলেন, '২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ঘটনাপ্রবাহ স্মরণ করলে বোঝা যায়, দেশের সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য গণভোটের প্রস্তুতি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জায়গা। হ্যাঁ ভোট দেওয়ার অর্থ শুধু একটি মত প্রকাশ নয়, বরং তরুণদের আত্মত্যাগের প্রতি সম্মান জানানো এবং তাদের রক্তের ঋণ শোধের প্রতীক।'

এ সময় রাষ্ট্রের বিদ্যমান পরিস্থিতি প্রসঙ্গে উপাচার্য বলেন, '১২ তারিখের ভোটকে ঘিরে দেশে এক ধরনের প্রবল উত্তেজনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। রাষ্ট্রে কিছু গোষ্ঠী বিদ্যমান ব্যবস্থাকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। কিন্তু দেশে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে, যা আর পেছনের দিকে ফেরানো সম্ভব নয়। কিছু মানুষ হয়তো আগের পদ্ধতিতে রাষ্ট্র পরিচালনার চেষ্টা করতে পারে, কিন্তু আমি লিখে দিতে পারি এই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হবে। তরুণ সমাজ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে যে ভয় ও দুর্বলতা ছিল, তা ভেঙে গেছে। যারা ভয় পায় না, তাদের আতঙ্ক সৃষ্টি করে শাসন করা দুঃস্বপ্ন ছাড়া কিছু নয়। তরুণ সমাজ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে যে ভয় ও দুর্বলতা একসময় ছিল, তা ভেঙে গেছে। এখন তারা আর কোনো কিছুতে ভীত নয়।