শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও মানসম্মত ও শিক্ষার্থী কেন্দ্রীক করতে কোচিং সেন্টার, নোট-গাইড ও প্রাইভেট টিউশন কার্যক্রম ধাপে ধাপে বন্ধের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এজন্য একটি বিধিমালা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিধিমালার খসড়া মতামত গ্রহণের জন্য অনলাইনে প্রকাশ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ থেকে প্রকাশিত শিক্ষা আইন, ২০২৬ এর খসড়ায় কোচিং সেন্টার, সহায়ক পুস্তক (নোট বই), গাইড বই প্রকাশ এবং প্রাইভেট টিউশন নিয়ন্ত্রণে একটি বিধিমালা প্রণয়নের সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
শিক্ষা আইনের খসড়ায় বলা হয়েছ, প্রস্তাবিত বিধিমালার মাধ্যমে প্রথমে এসব কার্যক্রমকে নিয়ন্ত্রণ করা হবে এবং ধারাবাহিকভাবে নিরুৎসাহিত করা হবে। এরপর আইনটি কার্যকর হওয়ার তিন থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে কোচিং সেন্টার স্থাপন, নোট–গাইড প্রকাশ ও প্রাইভেট টিউশন কার্যক্রম স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হবে।
কেন এই উদ্যোগ
শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোচিং ও নোট-গাইড নির্ভরতা শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা ও মৌলিক শেখার ক্ষমতাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। পাঠ্যবইয়ের পরিবর্তে নোট ও গাইডের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার কারণে শিক্ষার্থীরা মুখস্থবিদ্যায় অভ্যস্ত হয়ে পড়ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে শিক্ষার মান কমিয়ে দিচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কোচিং ও নোট-গাইডের কারণে আর্থিকভাবে সচ্ছল শিক্ষার্থীরা কোচিং ও প্রাইভেট টিউশনের সুবিধা পেলেও দরিদ্র ও প্রান্তিক শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে পড়ছে। শিক্ষার্থীরা মূল পাঠ্যবই না পড়ে সংক্ষিপ্ত নোট ও গাইডের ওপর নির্ভর করছে। প্রশ্ন বিশ্লেষণ ও নিজস্ব চিন্তার পরিবর্তে প্রস্তুত উত্তর মুখস্থ করার প্রবণতা বাড়ছে। শিক্ষার্থী সম্পর্ক দুর্বল হওয়া: শ্রেণিকক্ষের গুরুত্ব কমে গিয়ে কোচিং সেন্টার শিক্ষার মূল কেন্দ্র হয়ে উঠছে। কোচিং নির্ভর প্রতিযোগিতার কারণে শিক্ষার্থীদের ওপর মানসিক চাপ বাড়ছে।
নাম অপ্রকাশিত রাখার শর্তে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘শ্রেণিকক্ষ ভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করাই সরকারের মূল লক্ষ্য। এজন্য দক্ষ শিক্ষক নিয়োগ, পাঠ্যবইভিত্তিক মূল্যায়ন পদ্ধতি জোরদার এবং বিদ্যালয়ে মানসম্মত পাঠদান নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। এগুলো বাস্তবায়ন করতে হলে কোচিং সেন্টার, নোট-গাইড এবং প্রাইভেট টিউশনি বন্ধ করা প্রয়োজন। সরকার শিক্ষা আইনের খসড়ায় এ বিষয়গুলোই উল্লেখ করেছে।’