বহু আকাঙ্ক্ষার জাতীয় সংসদ নির্বাচন দরজায় কড়া নাড়ছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আসছে ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে এই নির্বাচন। নির্বাচনের সময় যত ঘনিয়ে আসছে, ততই ছড়িয়ে পড়ছে সত্যের আদলে মিথ্যার কল্পকাহিনি। ডিজিটাল প্রচারণা আটকে যাচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই অপতথ্য, ডিপফেক ভিডিও ও ভয়েস ক্লোনিংয়ের মতো গুজবের দুষ্টচক্রে।
অবিকল নকল কণ্ঠস্বর ও এআই জেনারেটেড ভুয়া সংবাদ ছড়িয়ে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে হেয় করা এবং জনমত প্রভাবিত করার নীরব ও ভয়াবহ সাইবার যুদ্ধ এখন ইন্টারনেট বা অন্তর্জালে।
সাইবার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গত কয়েক মাসে নির্বাচনকেন্দ্রিক এআইভিত্তিক অপতথ্য ছড়ানোর হার অন্তত চার গুণ বেড়েছে। তবে এই প্রযুক্তিগত সুনামি মোকাবেলায় নির্বাচন কমিশন (ইসি), আইসিটি বিভাগ বা বিটিআরসির কার্যকর ও দ্রুত তৎপরতা এখনো চোখে পড়ছে না, যা সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশের জন্য হুমকিস্বরূপ। ইসি ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী ডিজিটাল নজরদারি বাড়ালেও প্রযুক্তির এই দ্রুতগতির সঙ্গে তাল মেলানোই এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ।
খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এআইয়ের অপপ্রয়োগ মোকাবেলায় আইন ও কিছু বিধি-বিধান থাকলেও কারিগরি সক্ষমতা ও বিশেষজ্ঞ জনবলের ঘাটতি রয়েছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর। এতে নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বেপরোয়া হয়ে উঠছে সাইবার অপরাধীরা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নির্বাচন কমিশনের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানো, সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোর সঙ্গে সমন্বয় জোরদার করা এবং রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে ভোটারদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করা ছাড়া এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা সম্ভব নয়।
ডিপফেকের উত্থান ও ভোটার বিভ্রান্তি : নির্বাচনী ময়দানে সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র হয়ে উঠেছে ‘ডিপফেক’ প্রযুক্তি। এর মাধ্যমে শীর্ষ নেতাদের চেহারা ও কণ্ঠস্বর হুবহু নকল করে ভুয়া বক্তব্য তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ানো হচ্ছে। ফ্যাক্টচেকিং প্ল্যাটফর্ম ডিসমিসল্যাবের তথ্য মতে, শুধু গত জানুয়ারি মাসেই নির্বাচনকেন্দ্রিক এআই অপতথ্য যাচাইয়ের ঘটনা ১৮টিতে পৌঁছেছে, যা ডিসেম্বরে ছিল মাত্র চারটি। অর্থাৎ এক মাসে এ ধরনের কনটেন্ট চার গুণেরও বেশি বেড়েছে।
এআইয়ের অপপ্রয়োগের আরেক চিত্র হলো ‘মাইক্রো-টার্গেটিং’।
ভোটারদের অনলাইন আচরণ বিশ্লেষণ করে তাঁদের ব্যক্তিগত পছন্দের আলোকে সুনির্দিষ্ট অপতথ্য পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া ‘বট নেটওয়ার্ক’ ব্যবহার করে হাজার হাজার ভুয়া অ্যাকাউন্ট থেকে একযোগে অপপ্রচার চালানো এবং ‘ভয়েস ক্লোনিং’ করে সরাসরি ভোটারদের ফোনে বিভ্রান্তিকর বার্তা পাঠানোর ঘটনাও ঘটছে। নারী প্রার্থীদের লক্ষ্য করেও অশ্লীল এআই কনটেন্ট তৈরি করে চরিত্র হননের চেষ্টা ক্রমেই বাড়ছে।
ফ্যাক্টচেকিং প্রতিষ্ঠান রিউমার স্ক্যানার, ডিসমিসল্যাব ও ফ্যাক্ট ওয়াচের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনগুলো বিশ্লেষণ করলে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে ভয়াবহ অপতথ্যের চিত্র পাওয়া যায়।
ডিসমিসল্যাবের একটি ফ্যাক্টচেক রিপোর্টে দেখা গেছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একজন পুলিশ কর্মকর্তার ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। ফ্যাক্টচেকাররা কারিগরি বিশ্লেষণ করে নিশ্চিত করেছেন যে, ভিডিওটি সম্পূর্ণ কৃত্রিম বা ‘ডিপফেক’।
নির্বাচনী প্রচারণায় সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে দেশের নামি সংবাদপত্রের ও টিভি চ্যানেলের লোগো সংবলিত ভুয়া ‘ফটোকার্ড’। রিউমার স্ক্যানার সম্প্রতি একটি ফটোকার্ড শনাক্ত করেছে, যেখানে কার্ডসংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমের গ্রাফিকস নকল করে ফটোশপের মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছে।
ফ্যাক্টচেকিং প্ল্যাটফর্ম ডিসমিসল্যাবের তথ্য অনুযায়ী, গত ডিসেম্বর মাসে নির্বাচন নিয়ে এআইকেন্দ্রিক অপতথ্য ফ্যাক্টচেক হয়েছিল চারটি, যা জানুয়ারি মাসের ২৮ তারিখ পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী ১৮টিতে পৌঁছেছে। অর্থাৎ নির্বাচনকেন্দ্রিক এআই অপতথ্য এক মাসে চার গুণেরও বেশি বেড়েছে।
আবার ২০২৫ সালে প্রকাশিত ফ্যাক্টচেকগুলো পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ফেসবুকেই সবচেয়ে বেশি অপতথ্য ছড়ানো হয়েছে। পর্যালোচনায় দেখা যায়, প্রতি ১০টি ফ্যাক্টচেকের একটি ছিল এআই দিয়ে তৈরি অপতথ্য নিয়ে।
২০২৫ সাল জুড়ে অনলাইন মাধ্যমে চার হাজারের বেশি অপতথ্য ছড়ানো হয়েছে বলে ডিসমিসল্যাবের গবেষণায় উঠে এসেছে। এর মধ্যে দুই হাজার ৩৯১টিই রাজনৈতিক। অর্থাৎ গত বছর ছড়ানো অপতথ্যের প্রায় ৫৮ শতাংশ রাজনৈতিক। এর পরের অবস্থানেই আছে আইন-শৃঙ্খলা ও ধর্মীয় অপতথ্য।
সবচেয়ে বেশি অপতথ্য ছড়ানো হয়েছে ভিডিওর মাধ্যমে, যেগুলোর বেশির ভাগই এআই দিয়ে তৈরি করা হয়েছে। দেশে কাজ করা ৯টি তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠানের গত বছরের পাঁচ হাজারের বেশি যাচাই প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে এমন তথ্য পেয়েছে ডিসমিসল্যাব।
এআইকেন্দ্রিক ভুল তথ্য বিশ্লেষণ করে ডিসমিসল্যাব জানিয়েছে বিভিন্ন এআই চরিত্রের মাধ্যমে নির্বাচন নিয়ে ভিত্তিহীন জরিপের বিবরণ দিতে। বিভিন্ন এআই দিয়ে তৈরি চরিত্র দাবি করে, কোনো একটি নির্দিষ্ট দল একটি নির্দিষ্ট শতাংশ ভোট পাবে। এইসব এআই চরিত্রের মধ্যে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যও দেখা যায়। মার্কিন প্রেসিডেন্টের এআই ভিডিও দিয়ে নির্বাচনকেন্দ্রিক অপতথ্য ছড়াতেও দেখা গেছে।
ডিসমিসল্যাবের গবেষণা কর্মকর্তা আহমেদ ইয়াসীর আবরার গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘রাজনৈতিক প্রচারণায় এআই ব্যবহার করার ঘটনা আমরা অনেক আগে থেকেই দেখতে পাচ্ছি। ২০২৫ সালের জুনেও ডিসমিসল্যাবের একটি প্রতিবেদনে আমরা দেখতে পেয়েছি রাজনীতি ও নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এআই জেনারেটেড ভিডিও প্রচার হতে। এ ছাড়া পিআর ক্যাম্পেইন নিয়েও আমরা রাজনৈতিক দলগুলোর এআই দিয়ে তৈরি ভিডিও প্রচার দেখতে পেয়েছিলাম। বর্তমানেও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষে-বিপক্ষে এআই ভিডিওর মাধ্যমে প্রচারণা করা হচ্ছে।’
আইনের ফাঁক ও কারিগরি সক্ষমতার ঘাটতি : এআইয়ের অপব্যবহার রোধে ‘গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২’-এর ৭৩ অনুচ্ছেদে কঠোর বিধান রয়েছে। এতে নির্বাচনী সময়ে এআই বা স্বয়ংক্রিয় বট ব্যবহার করে মিথ্যা তথ্য, ডিপফেক ভিডিও বা বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট ছড়ালে দুই থেকে সাত বছর সশ্রম কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসও এ ধরনের অপপ্রচার বন্ধে কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন।
কিন্তু আইন থাকলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন। এআইচালিত অপপ্রচার মোকাবেলায় আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর প্রয়োজনীয় কারিগরি সক্ষমতা ও বিশেষজ্ঞ জনবলের ব্যাপক ঘাটতি রয়েছে। পুলিশের সাইবার সিকিউরিটি ইউনিটের এক শীর্ষ কর্মকর্তা স্বীকার করেন, ‘আমরা আমাদের সক্ষমতা অনুযায়ী চেষ্টা করছি। তবে অপরাধীদের চেয়েও এগিয়ে থাকার জন্য আরো বিশেষজ্ঞ ও প্রযুক্তির প্রয়োজন।’
প্রস্তাবিত ‘জাতীয় এআই নীতিমালা (২০২৬-২০৩০)’-এ নির্বাচনে এআইয়ের অপব্যবহার রোধে বেশ কিছু পদক্ষেপের কথা বলা হয়েছে। এতে ভোটার প্রোফাইলিং ও মাইক্রো-টার্গেটিং সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ ছাড়া জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সির (এনসিএসএ) অধীনে একটি ‘জাতীয় ইনসিডেন্ট রিপোর্টিং পোর্টাল’ চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার মাধ্যমে দ্রুত অপতথ্য শনাক্ত ও অপসারণ করা হবে।
বিশ্বব্যাপী পদক্ষেপ, বাংলাদেশের পিছিয়ে থাকা : এআইয়ের অপব্যবহার রোধে বিশ্বজুড়ে এখন কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন তাদের ‘এআই অ্যাক্ট’-এর মাধ্যমে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এআই সিস্টেমের ওপর কড়া নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে এবং ডিপফেক কনটেন্টে বাধ্যতামূলক লেবেলিং চালু করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়াসহ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক ডিপফেক প্রচার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়া নির্বাচনের ৯০ দিন আগে থেকে এআই জেনারেটেড যেকোনো প্রচারণামূলক ভিডিও সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেছে।
কিন্তু বাংলাদেশে এখনো এই প্রযুক্তির অপপ্রয়োগ মোকাবেলায় সুনির্দিষ্ট ও সময়োপযোগী কার্যকর কাঠামো গড়ে ওঠেনি। ডিসমিসল্যাবের গবেষণা কর্মকর্তা আহমেদ ইয়াসীর আবরার বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের দেওয়া বিধিমালায় এআই কনটেন্ট চিহ্নিত করার মতো স্পষ্ট নির্দেশনা নেই। ভারতের নির্বাচন কমিশন এআই কনটেন্টে লেবেল সংযুক্তির নির্দেশ দিয়েছে, যা আমাদের এখানে অনুপস্থিত।’
সরকারি সংস্থার সীমাবদ্ধতা : নির্বাচনী মাঠে সুস্থ পরিবেশ বজায় রাখার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের হলেও ডিজিটাল অঙ্গনে অপতথ্য রোধে তাদের ভূমিকা সীমিত। ইসির এখনো এআই সক্ষম কোনো বিশেষ মনিটরিং সেল বা পর্যাপ্ত কারিগরি দক্ষতা গড়ে ওঠেনি। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন স্বীকার করেন, ‘আগামী নির্বাচনে এআইয়ের অপব্যবহার একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এটি মোকাবেলা করা আমাদের জন্য বড় সমস্যা হতে পারে।’ নির্বাচনে অপতথ্য রোধে ২৪ ঘণ্টার কার্যকর মনিটরিং ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন সিইসি।
অন্যদিকে বিটিআরসি ও আইসিটি বিভাগের সক্ষমতা থাকলেও তাদের সাড়া দেওয়ার গতি অনেক ক্ষেত্রেই অপরাধীদের গতির পেছনে। একটি ভুয়া ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর তা শনাক্তকরণ ও অপসারণের প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা হয়; ফলে তা লাখো মানুষের কাছে পৌঁছে যায় এবং সামাজিক বিভ্রান্তি তৈরি করে।
প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রযুক্তি মোকাবেলা জরুরি : ইউনিভার্সিটি অব ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজির উপাচার্য ও তথ্য-প্রযুক্তিবিদ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আবু ইউসুফ বলেন, “শুধু আইন বা নীতিমালা দিয়ে এআইয়ের অপব্যবহার রোধ করা সম্ভব নয়। প্রয়োজন নিয়মিত ‘অ্যালগরিদমিক অডিট’ এবং গুগল-মেটার মতো টেক জায়ান্টদের সঙ্গে রিয়াল টাইম তথ্য বিনিময়। আমাদের রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলো এখনো অ্যানালগ মানসিকতা নিয়ে ডিজিটাল চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে চাইছে, যা অকার্যকর।’
তিনি আরো বলেন, ‘নির্বাচনের মতো সংবেদনশীল সময়ে এআইয়ের অপব্যবহার মানে সরাসরি জনমতকে হাইজ্যাক করা। বর্তমানে অপতথ্য চার গুণ বাড়লেও আমাদের সক্ষমতা বাড়েনি বললেই চলে। এটি গণতন্ত্রের জন্য একটি অশনিসংকেত।’
সরকারি পদক্ষেপ ও সমন্বয়ের চেষ্টা : ইসি ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী ডিজিটাল নজরদারি বাড়ালেও প্রযুক্তির দ্রুতগতির সঙ্গে তাল মেলানো চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। তবে ভুয়া তথ্য ও গুজব প্রতিরোধে এনসিএসএ আগামী নির্বাচন পর্যন্ত একটি বিশেষ সেল গঠন করেছে। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং, প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ, বাসস, বিটিআরসি ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করছে এই সংস্থা।
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মিস-ইনফরমেশন মোকাবেলায় বিভিন্ন বিভাগ ও এজেন্সির সমন্বয়ে একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি কাজ করছে। ১৫ সদস্যের একটি টিম নিয়মিত মনিটরিং করছে। পাশাপাশি ২১ জন প্রকৌশলী ২৪ ঘণ্টা এই কাজে নিয়োজিত রয়েছেন।’
এআই ও ডিপফেক ভিডিও চেনার উপায় : এআই বা ডিপফেক ভিডিও চিনতে হলে কয়েকটি সহজ লক্ষণ খেয়াল করতে হবে। প্রথমত, চোখের পলক অস্বাভাবিক মনে হতে পারে—পলক পড়ার হার কম বা ছন্দভঙ্গ থাকতে পারে। দ্বিতীয়ত, মুখের নড়াচড়া ও ঠোঁটের সঙ্গে কথার মিল সূক্ষ্মভাবে যাচাই। তৃতীয়ত, ব্যক্তির চেহারায় আলোর প্রতিফলন বা ছায়া যদি আশপাশের পরিবেশের সঙ্গে না মেলে, অথবা কান ও চুলের কিনারায় অস্বচ্ছ বা ঝাপসা দেখায়, তাহলে সেটা সন্দেহজনক। এ ছাড়া এআই ক্লোন করা কণ্ঠস্বর আবেগহীন ও যান্ত্রিক শোনায়, যেখানে স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাস বা কথার মাঝের বিরতিতে স্বাভাবিকতা থাকে না। কোনো ভিডিও দেখে সন্দেহ হলে সর্বদা তা ব্যক্তির ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্ট বা বিশ্বস্ত গণমাধ্যমের রিপোর্টে আছে কি না, যাচাইয়ের পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।