Image description

দেশে ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারির রাজনৈতিক পালাবদল ‘এক-এগারো’ নামেই বেশি পরিচিত। সে সময় সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান ছিলেন ফখরুদ্দীন আহমদ। তার সরকারের রাষ্ট্র পরিচালনা ও বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে তখন যেমন আলোচনা ও বিতর্ক ছিল, তেমনি এখনো তা অব্যাহত রয়েছে। কেননা তৎকালীন সাংবিধানিক, সামরিক ও বেসামরিক কাঠামোর প্রভাবশালী কয়েকজন বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়েও সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন।

নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে আওয়ামী লীগের অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগের অভিযোগ এবং ওই নির্বাচনে ভোটারদের অস্বাভাবিক উচ্চ উপস্থিতি ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। ২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত ওই নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ছিল ৮৭ শতাংশের বেশি। এর মধ্যে ৭৪টি আসনেই ৯০ শতাংশের অধিক ভোট পড়ে, যা অনেক প্রশ্নের জন্ম দেয়। সেই এক-এগারোর সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের অনেকেই বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের নীতিনির্ধারক। ২০২৬ সালের নির্বাচন কতটা প্রভাবমুক্ত ও নিরপেক্ষ হবে, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে। খোদ রাজনৈতিক দলগুলো থেকেও প্রশ্ন উঠেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ সর্বজনগ্রহণযোগ্য হবে, নাকি আবারো বিতর্ক ও উদ্বেগজনক পথ তৈরি করবে?

সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় নির্বাচন কমিশনার ছিলেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন। বর্তমানে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন। তার রয়েছে নির্বাচন ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা।

আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও আরো ১৩ উপদেষ্টার সঙ্গে এম সাখাওয়াত হোসেন শপথ নেন। এরপর তাকে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার দায়িত্ব দেয়া হয়। পরবর্তী সময়ে দপ্তর পুনর্বণ্টনের মাধ্যমে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান। সর্বশেষ পুনর্বিন্যাসে তিনি শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করছেন।

এম সাখাওয়াত হোসেন ১৯৬৬ সালে তৎকালীন পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে কমিশন লাভ করেন। মুক্তিযুদ্ধের পর প্রায় দুই বছর পাকিস্তানের বন্দিশিবিরে আটক ছিলেন। ১৯৭৩ সালে দেশে ফেরার পর বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। কর্মজীবনে তিনি ব্রিগেডে স্টাফ অফিসার, অপারেশন ডিরেক্টরেটের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, দুটি ইনফ্যান্ট্রি ব্রিগেড এবং একটি আর্টিলারি ব্রিগেডের অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘ সামরিক জীবনের পর ১৯৯৪ সালে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পদে থাকা অবস্থায় অবসর নেন। পরে ২০০৭ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত তিনি নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কেমন হবে জানতে চাইলে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন বণিক বার্তাকে বলেন, ‘নির্বাচন নিয়ে আমি কোনো মন্তব্য করব না। নির্বাচনটা পুরোপুরি ইলেকশন কমিশনের বিষয়। এক-এগারোর সময় তৎকালীন সরকারের প্রভাবশালীরা আওয়ামী লীগের সঙ্গে যোগাযোগ রাখত কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমার কথা বলতে পারি, আমি করিনি। নির্বাচন কমিশনের কেউ করেনি। অন্য কেউ সে সময় তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে কিনা সেটা বলতে পারব না।’

২০০৬ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০০৮ সালের নভেম্বরে অবসরের আগপর্যন্ত ফখরুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বাধীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব ছিলেন বর্তমান খাদ্য ও ভূমি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার। অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে মুখ্য সচিবের দায়িত্বও পালন করেন। তার আগে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব ছিলেন।

প্রশাসন ক্যাডারের মাধ্যমে ১৯৭৭ সালে সরকারি চাকরিতে যোগ দেয়া আলী ইমাম মজুমদার পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ও সোনালী ব্যাংক লিমিটেডের চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য ও জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (জাইকা) বিভিন্ন প্রকল্পের পরামর্শক হিসেবেও কাজ করছেন সাবেক এ প্রভাবশালী আমলা।

আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ২০২৪ সালের ১২ আগস্ট প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিশেষ সহকারী হিসেবে অন্তর্বর্তী সরকারে যুক্ত হন আলী ইমাম মজুমদার। এর চারদিন পর খাদ্য উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নেন। গত বছরের ২০ জানুয়ারি ‘অতিরিক্ত দায়িত্ব’ হিসেবে ভূমি মন্ত্রণালয়েরও দায়িত্ব পান।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে পররাষ্ট্র সচিব হিসেবে কর্মরত ছিলেন মো. তৌহিদ হোসেন। শেখ হাসিনার পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান। এর আগে ২০০৬ সালের ১৭ ডিসেম্বর একই মন্ত্রণালয়ের সচিব হন। ২০০৯ সালের ৮ জুলাই পর্যন্ত এ পদে ছিলেন। এরপর তিনি ফরেন সার্ভিস একাডেমির প্রিন্সিপাল হিসেবে নিয়োগ পান। ২০১২ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার নিযুক্ত হন। এর আগে ২০০১-০৫ সাল পর্যন্ত কলকাতায় বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশনার ছিলেন।

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে গত বছর অক্টোবরে দেখা করে উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দেয় বিএনপি। তবে সে সময়ে কোনো পক্ষ তা প্রকাশ না করলেও পরবর্তী সময়ে কয়েকজনের নাম উঠে আসে। বিএনপি সূত্রে জানা যায়, তাদের অভিযুক্তদের তালিকায় ছিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান। এক-এগারোর সময় তিনি একই মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বর্তমানে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়েরও দায়িত্ব সামলাচ্ছেন।

বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের প্রশাসন ক্যাডারে ১৯৭৯ সালে যোগ দেয়া ফাওজুল কবির বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টার দায়িত্ব নেন ২০২৪ সালের ১৬ আগস্ট। তার আগে সরকারি চাকরি থেকে লিয়েন নিয়ে তিনি ১৯৯২-৯৫ সাল পর্যন্ত সিঙ্গাপুর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে অধ্যাপনা করেন। এছাড়া বিদেশে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পার্টটাইম ও ফুলটাইম ফ্যাকাল্টি হিসেবে শিক্ষকতা করেছেন। রাষ্ট্রমালিকানাধীন ব্যাংক-বহির্ভূত আর্থিক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের (ইডকল) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে ১৯৯৮ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৭-০৯ সাল পর্যন্ত তিনি বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

এক-এগারো সরকারের আমলের আরেক প্রভাবশালী কর্মকর্তা ছিলেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। ওই সময় তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) ছিলেন। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ২০২৪ সালের ১৬ আগস্ট স্বরাষ্ট্র ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পান।

জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী ১৯৭৫ সালের ১১ জানুয়ারি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আর্টিলারি কোরে কমিশন লাভের মাধ্যমে তার কর্মজীবনের সূচনা করেন। তিনি স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম কমিশনপ্রাপ্ত অফিসারদের মধ্যে অন্যতম। ২০০৩-০৬ সাল পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশ রাইফেলসের (বর্তমান বিজিবি) মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৯ সালে বিডিআর বিদ্রোহের পর তিনি সেনাবাহিনীর তদন্ত কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১০ সালের ২ ফেব্রুয়ারি সেনাবাহিনী থেকে অবসর গ্রহণ করেন মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সরকারের সাবেক এক শীর্ষ কর্মকর্তা বণিক বার্তাকে বলেন, ‘এখন তারা কতটা নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে পারবেন, সেটিই মূল প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ ফখরুদ্দীন আহমদ ও সেনাপ্রধান মইন উদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বাধীন সে সময়ের সরকারের সঙ্গে আওয়ামী লীগের অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগ ছিল। আলী ইমাম মজুমদারসহ আরো কয়েকজন কর্মকর্তার ক্ষেত্রেও ঘনিষ্ঠতার অভিযোগ উঠেছিল। ফাওজুল কবির খানের নামও সে সময়ের প্রশাসনিক কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে আলোচনায় ছিল, যদিও পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর তিনি সরাসরি কোনো কিছুতে সম্পৃক্ত ছিলেন না। তবে এ-ও বলা হয়, ক্ষমতার পালাবদলের সময় কিছু ব্যক্তি পরিস্থিতি বুঝে অবস্থান বদলাতে পারদর্শী হন এবং বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন, যা নিয়ে জনপরিসরে নানা সন্দেহ ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে।’

সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) প্রধান হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন বর্তমান পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম। বিসিএস পুলিশ ক্যাডারের ১৯৮৪ ব্যাচের এ কর্মকর্তা পরে পুলিশ সদর দপ্তরে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০০৯-১৩ সাল পর্যন্ত জাতিসংঘ সদর দপ্তরের শান্তিরক্ষা বিভাগে পুলিশ লিয়াজোঁ অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন তিনি। ২০১৫ সালে আফগানিস্তানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের সিনিয়র পুলিশ অ্যাডভাইজার হিসেবে কাজ করেন। এর আগে ক্রোয়েশিয়া, সার্বিয়া, কসোভো ও সিয়েরা লিওনে দায়িত্ব পালন করেন বাহারুল আলম। আওয়ামী লীগ সরকার আমলে দুই দফা পদোন্নতিবঞ্চিত হয়ে এ কর্মকর্তা ২০২০ সালে অবসরে যান।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এক-এগারোর সময় রাষ্ট্র পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা একাধিক ব্যক্তি বর্তমানে আন্তর্বর্তী সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত। তবে তাদের বর্তমান ভূমিকা কতটা কার্যকর বা বিতর্কিত হবে, তা নির্ভর করবে সরকারের স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ওপর।

এ বিষয়ে সাবেক সচিব ও বাংলাদেশ লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সাবেক রেক্টর একেএম আবদুল আউয়াল মজুমদার বণিক বার্তাকে বলেন, ‘সামনে নির্বাচন, আমি মনে করি সবাই নির্বাচনটা ভালো করার জন্য চেষ্টা করবেন। কারণ এটা ছাড়া তো আর কোনো বিকল্প নেই। নির্বাচন কমিশন, সরকার, রাজনৈতিক দলগুলো মিলে একটা ভালো নির্বাচন হোক—এটাই প্রত্যাশা।’

এক-এগারোর সময় দুর্নীতি দমন কমিশনের সচিব হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন প্রশাসন ক্যাডারের ১৯৮২ ব্যাচের কর্মকর্তা মো. মোখলেস উর রহমান। বর্তমানে তিনি জ্যেষ্ঠ সচিব হিসেবে পরিকল্পনা কমিশনের শিল্প ও শক্তি বিভাগে কর্মরত। ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকার গঠন হলে তৎকালীন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মোহাম্মদ মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরীকে সরিয়ে দেয়া হয়। ২০২৪ সালের ২৮ আগস্ট তার পরিবর্তে মোখলেস উর রহমানকে অবসর থেকে ফিরিয়ে এনে দুই বছরের চুক্তিতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। তবে তিনি সরকারের গুরুত্বপূর্ণ এ মন্ত্রণালয়ের সচিবের দায়িত্ব নেয়ার পর বদলি, পদায়ন, পদোন্নতি নিয়ে চরম বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। তার বিরুদ্ধে ডিসি নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগও উঠেছিল। অবশেষে নিয়োগের ১৩ মাসের মাথায় তাকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে পরিকল্পনা বিভাগে বদলি করা হয়। এর আগে অতিরিক্ত সচিব থাকা অবস্থায় ২০১৫ সালে মোখলেস উর রহমানকে অবসরে পাঠিয়েছিল বিগত আওয়ামী লীগ সরকার। তার আগে তিনি চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার ও সরকারি কর্মকমিশনের সচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশীদ সম্প্রতি বণিক বার্তাকে বলেন, ‘নির্বাচনে প্রশাসন যথাযথভাবে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনের জন্য সম্পূর্ণরূপে প্রস্তুত রয়েছে। এ কাজে আমরা এখন পর্যন্ত কোনো বড় ধরনের সংকট দেখছি না। এবার একটি সম্পূর্ণ সুষ্ঠু নির্বাচন হতে যাচ্ছে বলে আমরা আশাবাদী। এর জন্য যা যা করণীয় প্রশাসন তা-ই করবে।’