আওয়ামী লীগ সরকারের সাড়ে ১৫ বছরে দেশের বিদ্যুৎ খাতে ভয়াবহ লুটপাট হয়েছে। এর সঙ্গে ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা ও তার প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু ছাড়াও ১১ জন জড়িত ছিলেন। ওই সময় রাজনৈতিক কারণে গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর এ খাত ভারতের হাতে তুলে দিয়ে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তাকে মারাত্মক হুমকির মুখে ঠেলে দেওয়া হয়। শুধু ভারতের বিতর্কিত শিল্প গ্রুপ আদানিকে নির্ধারিত দামের বাইরে ২৫ বছরে ক্যাপাসিটি চার্জ বাবদ অতিরিক্ত দিতে হবে এক লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা। অসম এ চুক্তির সঙ্গে জড়িত তৎকালীন কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে চার মিলিয়ন ডলার লেনদেনের তথ্য মিলেছে।
আওয়ামী আমলের বিদ্যুৎ খাতের চুক্তি পর্যালোচনায় গঠিত জাতীয় কমিটির প্রতিবেদনে অনিয়ম, লুটপাটের ভয়াবহ এসব তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণসহ বিদ্যুৎ খাতের সক্ষমতা বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে আওয়ামী লীগ আমলে করা চুক্তিগুলো পর্যালোচনা সংক্রান্ত জাতীয় কমিটির চেয়ারম্যান বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী গতকাল রোববার রাজধানীর বিদ্যুৎ ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপ তুলে ধরেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুর্নীতির কারণে দেশে বিদ্যুতের পাইকারি দাম ৫০ শতাংশের বেশি বাড়ানো হয়েছে। এতে শিল্প খাত মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছে।
অসম চুক্তির মাধ্যমে হাসিনা ও বিপু ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হয়েছেন বলেও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, যার প্রমাণসহ নথিপত্র দুর্নীতি দমন কমিশনে ইতোমধ্যে পাঠানো হয়েছে বলে জানান বিচারপতি মইনুল ইসলাম। তদন্তে বিগত সরকারের ১১ কর্মকর্তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গেছে বলে জানান তিনি। সংবাদ সম্মেলনে বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ অফিসের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন, ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের ফ্যাকাল্টি অব ল অ্যান্ড সোশ্যাল সায়েন্সের অর্থনীতির অধ্যাপক মোশতাক হোসেন খানসহ কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
১৫২ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের দেড় দশকে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতে এক পরিকল্পিত ও ভয়াবহ আর্থিক বিপর্যয় নেমে আসে। ২০০৯ সালে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি)-এর বার্ষিক লোকসান ছিল মাত্র পাঁচ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। পরবর্তী ৯ বছরে এ লোকসান অবিশ্বাস্যভাবে বেড়ে দাঁড়ায় ৪৫ হাজার কোটি টাকায়। ওই সময় তথাকথিত বিশেষ বিধান আইনের আড়ালে প্রতিযোগিতাহীন ও অস্বচ্ছ চুক্তির মাধ্যমে এ খাতে লুটপাটের এক বিশাল ক্ষেত্র তৈরি করা হয়। জাতীয় স্বার্থকে বিসর্জন দিয়ে একটি বিশেষ স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর লাভ নিশ্চিত করাই ছিল এসব চুক্তির মূল লক্ষ্য। বর্তমান এ সংকট থেকে বের হতে হলে পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম অন্তত ৮৬ শতাংশ বাড়ানোর প্রয়োজন হতে পারে, এমন আশঙ্কার কথা তুলে ধরা হয়েছে প্রতিবেদনে।
হাসিনা ও বিপু ছাড়াও যাদের ব্যাংক হিসাবে অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে তারা হলেন-সাবেক মুখ্য সচিব আহমেদ কায়কাউস (সাবেক বিদ্যুৎ সচিব), সাবেক অতিরিক্ত সচিব মো. আলাউদ্দিন, সাবেক যুগ্ম সচিব শেখ ফায়জুল আমিন, পিডিবির সাবেক চেয়ারম্যান খালেদ মাহমুদ ও মো. মাহবুবুর রহমান, পাওয়ার সেলের সাবেক পরিচালক মো. আমজাদ হোসেন, পাওয়ার গ্রিড কোম্পানির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক গোলাম কিবরিয়া, পিডিবির সাবেক সদস্য মিনহাজ উদ্দিন আহমেদ, পিডিবির কর্মকর্তা মিনা মওদুদুজ্জামান ও মো. সেলিম রেজা এবং সাবেক সিনিয়র সহকারী সচিব প্রণব কুমার ঘোষ।
তাদের অ্যাকাউন্টে কী পরিমাণ টাকা লেনদেন হয়েছে-এমন প্রশ্নের জবাবে মইনুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, এ-সংক্রান্ত তথ্যগুলো আমরা একটি অন্তর্বর্তী প্রতিবেদনের মাধ্যমে সরকারের হাতে দিয়েছি। একই সঙ্গে এসব নথি আমাদের কাছ থেকে বিভিন্ন সময় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) চেয়ে নিয়েছে। আশা করছি দুদক ব্যবস্থা নিলে সেটা জাতি জানতে পারবে।
আদানির মতো অসম চুক্তির নজির বিশ্বে নেই ভারতের আদানি পাওয়ারের সঙ্গে সম্পাদিত ২৫ বছর মেয়াদি চুক্তিটি বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতের দুর্নীতির সবচেয়ে বড় প্রতীক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে জাতীয় কমিটির প্রতিবেদনে। এতে বলা হয়েছে, এমন ভয়ানক ও আত্মঘাতী চুক্তি বিশ্বে আর দ্বিতীয়টির হদিস পাওয়া যায়নি। এ চুক্তির মাধ্যমে প্রতি বছর বাংলাদেশ প্রায় এক বিলিয়ন ডলার বা ১২ হাজার কোটি টাকা পরিশোধ করছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, আদানির বিদ্যুতের দাম ভারতের গ্রিড থেকে কেনা বিদ্যুতের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। ভারতের গ্রিড থেকে যেখানে ৪ দশমিক ৪৬ সেন্টে বিদ্যুৎ পাওয়া যেত, সেখানে আদানিকে শুরুতে ৮ দশমিক ৬১ সেন্ট এবং পরে ১৪ দশমিক ৮৭ সেন্ট পর্যন্ত পরিশোধ করতে হয়েছে। এ চুক্তিতে বিদ্যুতের দাম স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ বেশি ধরা হয়েছে, যার ফলে ২৫ বছরে বাংলাদেশের অতিরিক্ত লোকসান হবে প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার বা এক লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা।
কয়লার অযৌক্তিক দাম ও ট্রান্সমিশন ব্যয় প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, আদানির প্রকল্পের স্থান নির্ধারণ এবং কয়লা আমদানির প্রক্রিয়াটিও ছিল চরম রহস্যজনক ও যুক্তিহীন। প্রকল্পটি ভারতের ঝাড়খণ্ড রাজ্যের গোড্ডায় স্থাপন করা হয়েছে, যেখানে স্থানীয় কয়লা ব্যবহারের সুযোগ থাকলেও তা করা হয়নি। ভারতের আইন অনুযায়ী স্থানীয় কয়লায় উৎপাদিত বিদ্যুৎ রপ্তানি করা যায় না জেনেও সেখানে কেন্দ্রটি করা হয়। এর ফলে অস্ট্রেলিয়া থেকে জাহাজযোগে কয়লা আমদানি করে তা আবার ভারতীয় রেলপথে শত শত কিলোমিটার পরিবহন করে গোড্ডায় নিতে হচ্ছে। দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল এ প্রক্রিয়ার পুরো খরচই বহন করছে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ। এছাড়া ভারতের অভ্যন্তরীণ ট্রান্সমিশন লাইনের খরচ এবং আদানির ওপর ধার্যকৃত ভারতীয় করও বাংলাদেশকে পরিশোধ করতে হচ্ছে। কোনো সুস্থ মস্তিষ্কের কর্মকর্তা বা রাজনীতিবিদ এমন অসম চুক্তিতে সই করতে পারেন না বলে পর্যালোচনা কমিটি মন্তব্য করেছে।
আদানির দুর্নীতি ও হাসিনার দায়
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আদানির চুক্তির পেছনে দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গেছে। হুইসেল ব্লোয়ারদের মাধ্যমে অর্থ লেনদেনের নির্দিষ্ট তারিখ, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরের নথিপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী হাসিনার কার্যালয়ের সরাসরি নির্দেশে এসব চুক্তি সম্পাদিত হয়। হাসিনা এবং তৎকালীন জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী বিপুর সরাসরি সংশ্লিষ্টতারও পরিষ্কার তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গেছে। চুক্তির সঙ্গে জড়িত অনেক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার অ্যাকাউন্টে চার মিলিয়ন ডলার লেনদেনের তথ্য মিলেছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী এ তথ্যগুলো একটি শক্তিশালী আইনি লড়াই বা ফ্রন্ড মামলা জেতার জন্য যথেষ্ট বলে কমিটি মনে করছে। ক্যাপাসিটি পেমেন্ট ও সিস্টেম লস হাসিনার শাসনামলে দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা চারগুণ বাড়লেও বেসরকারি খাত বা আইপিপি খাতে বিল বেড়েছে ১১ গুণ-এমন তথ্যের উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্যাপাসিটি পেমেন্ট বা বিদ্যুৎকেন্দ্র বসিয়ে রেখে টাকা দেওয়ার হার বেড়েছে ২০ গুণ। বর্তমানে জাতীয় গ্রিডের প্রায় মাত হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সম্পূর্ণ অব্যবহৃত বা ব্যবহারযোগ্য নয়।
জ্বালানি সংকট বা অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে এ সক্ষমতা কাজে লাগানো যাচ্ছে না। অব্যবহৃত এ সক্ষমতার জন্য বিপিডিবিকে বছরে প্রায় দেড় বিলিয়ন ডলার দণ্ড দিতে হচ্ছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন হোক বা না হোক, চুক্তির শর্ত অনুযায়ী বিশাল অঙ্কের এ অর্থ সরকার নির্দিষ্ট কিছু কোম্পানিকে দিয়ে যাচ্ছে। অন্যান্য বিতর্কিত প্রকল্প ও গোষ্ঠীস্বার্থ শুধু আদানি নয়; সামিট, এসএস পাওয়ার এবং রিলায়েন্সের মতো প্রতিষ্ঠানও এ লুটপাটে অংশীদার ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, সামিট মেঘনাঘাট প্রকল্পে গ্যাসের স্বল্পতা জানা সত্ত্বেও বড় বড় কেন্দ্র স্থাপন করে, যার ইউনিটপ্রতি খরচ অন্যান্য কেন্দ্রের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। এস আলম গ্রুপের এসএস পাওয়ার (বাঁশখালী) কেন্দ্রটি সমমানের কয়লাভিত্তিক প্রকল্পের মধ্যে সবচেয়ে ব্যয়বহুল। এছাড়া রিলায়েন্সের ক্ষেত্রে ভারতের একটি অচল বা পরিত্যক্ত বিদ্যুৎকেন্দ্র বাংলাদেশে আনার প্রক্রিয়াও ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। এ চুক্তিগুলো প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রের পরিবর্তে বিশেষ বিধান আইনের অধীন সমঝোতার মাধ্যমে করা হয়েছিল, যা প্রকৃতপক্ষে রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে একটি প্রক্রিয়া।
ভবিষ্যৎ পথচিত্র ও সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিদ্যুৎ খাতের এ রক্তক্ষরণ বন্ধে কমিটি বেশকিছু কঠোর পদক্ষেপের সুপারিশ করেছে। প্রথমত, যেসব চুক্তিতে দুর্নীতির প্রমাণ মিলবে, সেগুলো অবিলম্বে বাতিল করার প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। দ্বিতীয়ত, উচ্চব্যয়ী ও অসম চুক্তিগুলো পুনরায় আলোচনার মাধ্যমে সংশোধন করতে হবে। এক্ষেত্রে ব্যবহারের তুলনায় অতিরিক্ত ক্যাপাসিটি পেমেন্ট এবং বৈদেশিক মুদ্রার হারের সঙ্গে সমন্বয় করা চুক্তিগুলোকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। এছাড়া ভবিষ্যতে যেকোনো বিদ্যুৎ প্রকল্পের ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রকে বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে প্রতিবেদনে। পাশাপাশি একটি স্বাধীন জ্বালানি তদন্ত প্রতিষ্ঠান গঠনের মাধ্যমে এ খাতের দীর্ঘমেয়াদি স্বচ্ছতা নিশ্চিতের কথাও বলা হয়েছে।
জনগণের প্রতি আহ্বান ও সাময়িক ত্যাগ আদানির মতো বড় ও অসম চুক্তিগুলো চ্যালেঞ্জ করলে বা বাতিল করলে সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিতে পারে বলেও আশঙ্কার কথা বলা হয়েছে জাতীয় কমিটির এ প্রতিবেদনে। এতে আরো বলা হয়েছে, আদানি একা সরবরাহ বন্ধ করে দিলে দেশে বড় ধরনের লোডশেডিং হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিচারপতি মইনুল কমিটির প্রতিবেদনে এ বিষয়ে জনমত তৈরির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
কমিটির মতে, দীর্ঘমেয়াদি সুফল পেতে এবং আগামী ২৫ বছরের জন্য অভিশপ্ত এ চুক্তিগুলো থেকে মুক্তি পেতে হলে জনগণকে সাময়িক কষ্ট সহ্য করার মানসিক প্রস্তুতি নিতে হবে। তা না হলে উচ্চমূল্যের বিদ্যুতের চাপে দেশের শিল্পায়ন ও সামগ্রিক অর্থনীতি ধ্বংস হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বিদ্যুৎ খাতের এ সংকট কেবল কারিগরি নয়; বরং এটি একটি গভীর রাজনৈতিক ও নৈতিক অবক্ষয়ের ফল। বিপিডিবি বর্তমানে একটি কার্যকর ক্রেতা হওয়ার বদলে কেবল অর্থ পরিশোধের মধ্যস্থতাকারীতে পরিণত হয়েছে।
কমিটির সুপারিশকৃত সংস্কারগুলো বাস্তবায়ন করা না হলে দেশের সাধারণ মানুষ এবং শিল্পোদ্যোক্তারা দীর্ঘকাল এ লুটপাটের বোঝা বয়ে বেড়াতে বাধ্য হবে। পরবর্তী সরকারের জন্য এ প্রতিবেদন একটি দিকনির্দেশনা হিসেবে কাজ করবে বলেও জানান মইনুল ইসলাম চৌধুরী।