নামের প্রথমে ‘এস’ রয়েছে- চট্টগ্রামের এমন একটি অভিজাত পাঞ্জাবির দোকান বাংলাদেশে তৈরি বিভিন্ন ধরনের পাঞ্জাবিতে ভারতীয় ট্যাগ লাগিয়ে অধিক মূল্যে বিক্রি করছিল। প্রশাসনকে তারা দেশি-বিদেশি কোনো ভাউচার দেখাতে পারেনি। চাপের মুখে দোকান কর্তৃপক্ষ দোষ স্বীকার করে নেয়। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর শেষে ২ লাখ টাকা জরিমানা করে বিষয়টি নিষ্পত্তি করে। এটি গত বছরের ঈদের সময়কার ঘটনা। তবে এবার আর শুধু জরিমানা বা সতর্ক কওে ছেড়ে দেওয়া হবে না। কোনো দোকানে দেশি পোশাকে বিদেশি ট্যাগ লাগিয়ে অথবা ক্রয়মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত বেশি মূল্যে পণ্য বিক্রি করলে- ওই পণ্য বাজেয়াপ্তকরণসহ কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরকে।
সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, এমনো অভিযোগ রয়েছে ইসলামপুরের কাপড় দিয়ে বানানো ৫০০ টাকার জামায় ভারত বা থাইল্যান্ডের ব্র্যান্ডের ট্যাগ লাগিয়ে ২ থেকে ৩ হাজার টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। আবার ৭০০ টাকার দেশি পাঞ্জাবি পাকিস্তানি ট্যাগ লাগিয়ে ৭ হাজার টাকা দাম চাইছে। কোনো কোনো দোকানি শুধু ঈদের কারণে পোশাকের প্রাইস ট্যাগ পরিবর্তন করে অতিরিক্ত মূল্য লাগিয়ে দিচ্ছেন। ছেলে-মেয়েদের খুশি রাখতে অভিভাবকরা যাচাইবাছাই না করে এসব পোশাক কিনে প্রতারিত হচ্ছেন। এবার এই বিষয়গুলোতে কঠোর নজরদারি রাখতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, রমজান ও ঈদুল ফিতর উপলক্ষে পোশাকের মূল্য ও সরবরাহ বিষয়ে পোশাক ব্যবসায়ীরা যাতে এ ধরনের কোনো প্রতারণা না করতে পারে সে লক্ষ্যে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর রাজধানীর বিভিন্ন মার্কেটে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করছে। এরই মধ্যে দেশের অন্যতম পোশাক বাজার রাজধানীর ইসলামপুর কাপড় মার্কেট, গুলশানের পিংকসিটি সেন্টারসহ রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ কাপড়ের মার্কেটগুলোতে একাধিক সভা করা হয়েছে। ইসলামপুর বস্ত্র ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এক সভার কার্যবিবরণী পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ওই সভায় ব্যবসায়ীদের পোশাক ক্রয় ও বিক্রয় রশিদ সংরক্ষণ এবং ন্যায্যমূল্যে পোশাক বিক্রয়ের বিষয়ে মোট সাত ধরনের নির্দেশনা দেওয়া হয়। এ ছাড়া দেশি পোশাকে বিদেশি ট্যাগ লাগানোর বিষয়ে কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়।
ব্যবসায়ীদের দেওয়া নির্দেশনাগুলো হচ্ছে : পোশাক বা ফেব্রিক্সের গায়ে খুচরা মূল্য উল্লেখ করতে হবে; বিভিন্ন ব্র্যান্ডের নকল ট্যাগ তৈরি ও সংযুক্ত করা যাবে না; ঈদে পোশাকের প্রাইস ট্যাগ পরিবর্তন করে অতিরিক্ত দামের ট্যাগ লাগানো যাবে না; আমদানিকৃত পোশাকের আমদানি সংক্রান্ত তথ্য বিক্রয়স্থলে প্রদর্শন করতে হবে; ক্রয়ের রশিদ ও সংরক্ষণ ও বিক্রয়ের রশিদ প্রদান করতে হবে; স্টকে থাকা টেম্পার নষ্ট পুরোনো পোশাক ঈদের সময় বিক্রি করা যাবে না এবং বিক্রিত পোশাক পরিবর্তনের নিয়ম ক্রেতাকে বুঝিয়ে দিতে হবে। ইসলামপুর বস্ত্র ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আবদুস সাত্তার ঢালী বলেন, বর্তমানে কিছু অনলাইন ব্যবসায়ী কোনো লাইসেন্স ছাড়াই ব্যবসা করছেন। তারা দেশি পোশাককে বিদেশি পোশাক বলে বিক্রি করে মানুষকে প্রতারিত করছেন। অফলাইনের পাশাপাশি এসব অনলাইন ব্যবসায়ীদের ওপরও সরকারের নজরদারি বাড়াতে হবে।