Image description

সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) নির্বাচনের দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো অবস্থান কর্মসূচি ও বিক্ষোভ অব্যাহত রেখেছেন প্রার্থী, তাঁদের সমর্থক ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা। 

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) দুপুর ১২টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে এ বিক্ষোভ শুরু হয়।

বিক্ষোভকারীরা জানান, চেম্বার আদালতে শাকসু নির্বাচনের পক্ষে রায় না আসা পর্যন্ত তাঁদের কর্মসূচি চলবে। আজ দুপুর ১২টা ৫৭ মিনিটের দিকে সহ–উপাচার্য মো. সাজেদুল করিম প্রশাসনিক ভবনের সামনে গাড়ি থেকে নেমে কার্যালয়ে প্রবেশ করার সময় বিক্ষোভকারীরা ‘দালাল দালাল’ স্লোগান দেন। এ সময় তিনি হাঁটতে হাঁটতে অফিসে প্রবেশ করেন।

শিক্ষার্থীরা জানান, গতকাল সোমবার দিবাগত রাত একটার দিকে ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী আজ সকাল ১০টা থেকে প্রার্থী ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা ধীরে ধীরে প্রশাসনিক ভবনের সামনে জড়ো হতে থাকেন। পরে দুপুর ১২টায় বিক্ষোভ শুরু হয়। বিক্ষোভ চলাকালে শিক্ষার্থীরা ‘ক্যাম্পাসের দালালেরা, হুঁশিয়ার সাবধান’, ‘দালালদের আস্তানা, ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও’, ‘সাস্টিয়ান সাস্টিয়ান, এক হও লড়াই করো’, ‘হাইকোর্ট না শাকসু, শাকসু শাকসু’, ‘মব করে শাকসু, বন্ধ করা যাবে না’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।

‘সাধারণের ঐক্যস্বর’ প্যানেলের আন্তর্জাতিক সম্পাদক পদপ্রার্থী আরমান হোসেন বলেন, ‘গতকাল উপাচার্য আমাদের জানিয়েছেন, তিনি প্রধান উপদেষ্টা ও শিক্ষা উপদেষ্টার সঙ্গে কথা বলেছেন। আমাদের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে যে আজ তাঁরা নির্বাচনের পক্ষে শক্ত অবস্থান নেবেন এবং উপাচার্য ক্যাম্পাসেই থাকবেন। এসব শর্তের ভিত্তিতেই তাঁকে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে মুক্ত করা হয়েছিল। আশা করছি, শাকসু নির্বাচনের পক্ষে রায় আসবে।’

শাকসু নির্বাচনে ছাত্রশিবির–সমর্থিত ‘দুর্বার সাস্টিয়ান ঐক্য’ প্যানেলের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) প্রার্থী মোজাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আজ বেলা তিনটায় চেম্বার আদালত বসবে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে আবেদন করা হবে। শুনানি শেষে রায় না আসা পর্যন্ত আমাদের বিক্ষোভ কর্মসূচি চলবে। রায় আমাদের পক্ষে না এলে আমরা কঠোর কর্মসূচি দেব।’

শিক্ষার্থীরা জানান, দীর্ঘ ২৮ বছর পর আজ শাকসু নির্বাচনের ভোট গ্রহণ শুরু হওয়ার কথা ছিল। তবে দুই প্রার্থী ও এক শিক্ষার্থীর রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ রুল জারি করে চার সপ্তাহের জন্য নির্বাচন স্থগিতের আদেশ দেন।

নির্বাচন স্থগিতের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর গতকাল ছাত্রশিবির–সমর্থিত ‘দুর্বার সাস্টিয়ান ঐক্য’ প্যানেল, ‘সাধারণের ঐক্যস্বর’ প্যানেল, স্বতন্ত্র প্রার্থী ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের একাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে সিলেট–সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ করেন। নির্ধারিত সময়ে নির্বাচনের দাবিতে মিছিল করেন তাঁরা। পরে বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে অবরোধ তুলে নিয়ে প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নেন আন্দোলনকারীরা।

এর আগে গতকাল সকাল সোয়া ১০টায় শাকসু নির্বাচন স্থগিতের প্রতিবাদে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ শুরু করেন প্রার্থী ও শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে শাকসু নির্বাচনসহ তিনটি ইস্যুতে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) প্রধান কার্যালয়ের সামনে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের অবস্থান কর্মসূচির প্রতিবাদও জানান তাঁরা। দুপুর সাড়ে ১২টায় বিক্ষোভকারীরা প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেন। এতে উপাচার্য এ এম সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী, সহ–উপাচার্য মো. সাজেদুল করিম, কোষাধ্যক্ষ মো. ইসমাইল হোসেনসহ কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন।

পরিস্থিতির মধ্যে রাতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জরুরি সিন্ডিকেট বৈঠক করে এবং কয়েক দফা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়া এবং চেম্বার আদালতের সিদ্ধান্তের পরদিন ভোট গ্রহণের আশ্বাসের পর আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা দিবাগত রাত একটার দিকে ওই দিনের মতো কর্মসূচি স্থগিত ঘোষণা করেন। তখন প্রশাসনিক ভবনের তালা খুলে দেওয়া হলে প্রায় সাড়ে ১২ ঘণ্টা পর উপাচার্যসহ অন্য কর্মকর্তারা অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে মুক্ত হন।

আরটিএনএন